27/01/2023
একটা সময় ছিলো, যখন BTV তে কোরআন পাঠ শুনলে বুকের ভেতরটা মোচড় দিত। এই বুঝি শেষ হলো, হার্টবিট বেড়ে যেতো। অতঃপর হাসিমুখে উপস্থিত হতেন সুন্দরী উপস্থাপিকা, আর বলতেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি..... ঠিক তখনই বুক ধকধক করতো উত্তেজনায়, প্রায়ই ভালোভাবে ছবির নাম শুনতে পেতাম না!!
শুক্রবার আসলেই সে কী ব্যস্ততা। চারপাশে সবাই ৩টার আগে কাজ শেষ করতেন। কারণ ৩টায় ছায়াছবি প্রচার করা হবে। আর ৮:৩০ টা বেজে উঠার আগেই সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে ফেলতো। কারণ, উত্তেজনা, ভয় আর আনন্দের মিশ্রণে আলিফ লায়লার অপেক্ষায়।
তারপর বিজ্ঞাপন হচ্ছেতো হচ্ছেই, আলিফ লায়লা শুরু হবার খবর নাই। ধৈর্য ধরতে ধরতে প্রায় ক্লান্ত হওয়ার পর শোনা যেতো সেই প্রিয় মিউজিক। শুরু হতে হতেই আবার বিজ্ঞাপন। মাত্রই কাহিনীতে মনোযোগ দিতে দিতেই শেষ হয়ে যেতো, লেখা উঠতো আগামী পর্বে দেখবেন...। এত অল্প সময় দেখাতো, তবুও আনন্দের শেষ নেই তখন।...
"আমি বাবা মায়ের শত আদরের মেয়ে" , আমরা নতুন আমরা কুড়ি, এসো গান শিখি সবাই মিলে"— আহ্ কি মিউজিক ছিলো এখনো কানে বাজে আর বিজ্ঞাপন গুলোতো একদম মুখস্ত ছিলো।
এখনও সব আছে, কিন্তু আর বুকে কাঁপন তুলে না। সেই উপস্থাপিকাও আছেন, হয়তো আজ তার লিপস্টিক আরো কড়া হয়েছে। তিনি এখনো আমন্ত্রণ জানান, কিন্তু সেই আমন্ত্রণ কাউকে এখন আর মনোযোগী করে না। ছায়াছবি দেখার জন্যও এখন কেউ শুক্রবারের অপেক্ষা করে না। এখনকার পিচ্ছিরা হয়তো আলিফ লায়লার নামও জানেনা। একসাথে ২০/৩০ জন মিলে আগে যেভাবে আনন্দের সাথে টিভি দেখতাম। এখন তা কল্পনাও করা যায় না। ডিজিটাল যুগ এসেও আমাদের শৈশবের দিনগুলোকে ভুলাতে পারেনাই।আমরা এখনো শৈশবের দিনগুলোকে বড্ড মিস করি। কত সুন্দর ছিলো আমাদের শৈশবের সময় টা।
এই BTV নিয়ে আমাদের স্মৃতির শেষ নেই। আমাদের একটা কাল এই বিটিভি জুড়েই ছিলো।