11/03/2025
অনেক হল ওয়েডিং, প্রিওয়েডিং। আজকে আমার কাজের কথা থাক। আজকে আসি এক মন ছুঁয়ে যাওয়া যোদ্ধার গল্পে, যার জীবন জুড়ে ছিল শুধুই কান্না আর উত্তর দেবার জিহাদ। যুদ্ধটা সোমঋতার, যার শুরু বয়েস যখন ২৩ বছর । গ্রামে বিয়ে হওয়ায়, অসম্ভব গ্রাম্য খাটনির বিয়ের কয়েকমাসের মধ্যেই শুরু হয় মা হওয়া নিয়ে নানান কূটকাচালি আর খোঁটা, কিছু অসুবিধা ছিলো, সেসব সামলে যখন ওর বয়স ২৬, মা হলো সোমঋতা, কোল জুড়ে এলো বাবান। কিন্তু বিধি বাম তার প্রতি। মাত্র ৪ মাসের মায়ায় বেধে তাকে ছেড়ে চলে যায় তার ছোট্ট পুঁতুলটা। ফলাফল হয় ডিভোর্স। যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়ের শুরু ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই। জেদ করে একা কলকাতায় এসে ভাড়া থাকা, কর্মক্ষেত্রে একা যুবতী এবং ডিভোর্সি মেয়ে বলে অনেকের লোলুপ দৃষ্টিকে শক্ত হয়ে প্রতিবাদ করা, নিজের চাকরির টাকা বাঁচানোর তাগিদে বিলাসব্যাসন ছেড়ে খুব ছাপোষা জীবনধারণ, অটোর দূরত্ব হেঁটেই মিটিয়ে দেওয়া, চলে অক্লান্ত পরিশ্রম, কারণ জবাব তাকে দিতেই হৰে.... আস্তে আস্তে আলো ফেরে তার জীবনে। সন্তান মৃত্যুর ৯ দিনের মাথায় যে মেয়েটাকে “বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যাও” শুনতে হয়েছিল, আজ সেই মেয়েটা নিজের ক্ষমতায় একটা আস্ত দু কামরার ফ্ল্যাট কিনে ফেলেছে কলকাতার টালিগঞ্জের মতো জায়গায়। বাউন্ডুলে এই মেয়েটা সিদ্ধান্ত নেয় আবার বিয়ে করবে, ঘর বাঁধবে নতুন করে। সবটাই হয়, শুধু সাথে থেকে যায় ফুলের মত মিষ্টি ওই ফুটফুটে বাবান, কিছু অগোছালো স্মৃতি, আর নতুন জীবনে পা দেওয়ার সীমাহীন ইচ্ছা। তার অদম্য জেদ, আর বেঁচে থাকার চেষ্টার জন্যে আমরা তাকে কুর্নিশ জানাই। ভালো থাকো সোমঋতা।
লিখনি - Suryaya Sankar Saha
Thanks