29/04/2026
Name - Nisha Paul
Institution: Presidency University (PG-2 )
রুটি – কথা
শোনো পাঠক, একটা ঘটনা শোনাই। দুনিয়ার দুনিয়ায় প্রবেশ করার পর.... ওহ্,বুঝলে না !! আরে,দুনিয়া মানেই তো জিওলজি। যাই হোক, জিওলজিতে হাতে খড়ি হওয়ার পর যতগুলো ফিল্ডের স্মৃতি জমেছে , তার মধ্যে সব থেকে সদ্য এবং আন- ওয়েদার্ড একটি ঘটনার ডালি সাজিয়ে এনেছি আজকে। বলছি পাঠক, সবুর করো। সবুরে মেওয়া ফলবে কিনা জানিনা , তবে আজকে স্টার্টার ছেড়ে যখন মেইন কোর্সে ঢুকবো, ঠোঁটের কোনায় হাসি ফলবে এটুকু কথা দিলাম। সাল ২০২৬ , জানুয়ারি মাস। চারিদিকে তখন SIR-SIR রব। তার মাঝেই ফিল্ডে যাওয়া হলো , গন্তব্য রাজপুর। শোনো পাঠক , নামটা শুনে যদি রাজকীয় কোনো কথা ভাবনায় আসে , তাহলে ভাবনাটাকে বাম হাতে নাও আর ডান হাতে হাতুড়ি নিয়ে ওটাকে গুড়ো গুড়ো করে দাও। দিয়েছো ? চলো এবার বাকিটা শোনো। সৈন্য সামন্ত ছিলাম সবমিলিয়ে গোটা পাঁচেক। চারজন পিজি -টু এর পাজি ছেলেমেয়ে, একজন স্কলার । তিনজন ছিলেন কর্নেল , মানে SIR ( মানে স্যার, প্রফেসর বুঝলে ?) । শিক্ষা – দীক্ষা – পরীক্ষা এই তাদের হাতিয়ার , কিছু দিতেন , কিছু নিতেন। জঙ্গলের মধ্যে ফরেস্ট গেস্ট হাউস, দারুন পরিবেশ। বড়ো বড়ো মাথা তুলে দাড়িয়ে থাকা পাইন,দিনে পাতার ফাঁকের এক চিলতে রোদ্দুর, আর রাতে আকাশ ভরা তারামণ্ডলী , বাধ ভাঙ্গা চাঁদের হাসি, সব মিলিয়ে ভালই সব কিছু । একজন স্কলার দাদা , আমরা চারজন বন্ধু , দারুন কাজ চলছিল । শত্রু শুধু একজনই, ঠান্ডা । আমরা পড়ি না পড়ি , ঠান্ডা কে রোজ নিয়ম করে জাকিয়ে পড়তেই হবে । তবে ঠাণ্ডার এই পড়াশুনো কেই উপভোগ করেছিলাম চুটিয়ে। এই অবধি ছিল স্টার্টার, চলো দেরি না করে মেইন কোর্সের দিকে এগোই।
মূল বিষয় হলো যতই শরীরের নাম মহাশয় হোক, তাকে সচল রাখতে গেলে দৈনিক রসদ তো জোগাতেই লাগে।প্রত্যেকেই আমরা যেহেতু বাঙালি ছিলাম, তাই ফিল্ডের পাশাপাশি ভরপুর খাওয়া দাওয়া ছিল ডিসার্টেশন এর একটা অলিখিত চ্যাপ্টার।সে চ্যাপ্টারে কোনোদিন সোজা সাপটা মেনু, কোনোদিন মহাভোজ । আর দুয়ের মাঝামাঝি ছিল সেদিন , যেদিন আমরা চার , পেলাম রুটি করার ভার। হ্যাঁ, নিজে হাতে আটা মেখে রুটি তৈরি, এই ছিল অ- ফিল্ডকালীন সময়ের কাজ । দুটি মেয়ে , দুটি ছেলে , চারজনেরই অ- পটু রান্নার হাত । হাতের কব্জির জোর বেশি এই অনুমানে একটি ছেলের ওপর দায়িত্ব পড়লো আটা মাখার ।প্রায় ৭০ শতাংশ ঠিকঠাক আটা মেখে সে তার কারুকার্য দেখিয়ে কাজ এগোলো অনেকখানি , কিন্তু ফিল্ডে এসে আটার দলাও পাথর হয়ে গেছে, তাই কাজ সম্পূর্ণ হলো না। বাকি তিনজন তাদের যতরকম রান্না সম্পর্কিত জ্ঞান একজোট করে ছুড়ে দিলো ছেলেটির দিকে। সে সদর্পে বললো “ আরে ভাই, এভাবেই তো শিখবো “ । সে এভাবেই হোক আর সেভাবেই হোক ,তার শেখা হলো কিনা জানিনা তবে এটুকু বোঝা গেলো যে আটার দলা ডিহাইড্রেশন এর শিকার , তার জল দরকার। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হলো , জল খাওয়ানো হলো তাকে। ময়ম দেওয়া হলো আচ্ছা করে , তিন চারটে সপাটে কিল থাপ্পড় ও বাকি থাকলো না। এত দলাই-মালাইয়ের শেষে যেটা দাঁড়াল, সেটা আগের তুলনায় নমনীয় হলো ঠিকই, কিন্তু কোনো এক অজানা অভিমানে আটার দলাটা তখনও যেন তার কাঠিন্য ছাড়তে নারাজ । আমরা চারজন তার সাথে এতটা সময় কাটানোর পরও সে পাথরের মতো । এত পরিশ্রমের পর কোনমতে টেনেটুনে আকৃতি বানিয়ে সেঁকা হলো । যেটা তৈরি হলো , তার সাথে বোধহয় চাটনি হলে জমতো ভালো। কিন্তু আশ্চর্য বিষয় কী জানো পাঠক? সেই আধসেঁকা, শক্ত রুটিগুলোই যখন সবাই মিলে পাতে নিলাম, তৃপ্তির মাত্রাটা কোনো এক জাদুবলে এভারেস্ট ছুঁয়ে ফেলল। স্যারেরা হাসিমুখে সেই অদ্ভুত সৃষ্টিকে আশীর্বাদ করলেন, আমরাও চিবিয়ে শেষ করলাম বীরদর্পে।রেজাল্ট যা-ই হোক, সেই ধোঁয়া ওঠা রান্নাঘরে চার বন্ধুর মিলেমিশে একাকার হওয়া আর খিলখিল হাসির যে ‘প্রসেস’—তার কাছে কোনো গোল রুটির স্বাদই টিকবে না। কি একটু ডেজার্ট চেখে দেখবে না? চলো ডেসার্টে একটু জ্ঞান পরিবেশন করি।
এইযে ঘটনাটা শোনালাম,এতে তুমি কি বুঝলে পাঠক ? আমি যদ্দুর বুঝলাম ততটুকু একজোট করলে খানিকটা এরকম শোনাবে -
When we try something with true efforts, the result doesn’t matter but the efforts do.
এত জ্ঞান শুনে কাজ নেই পাঠক । যাও, দুনিয়া দেখো।