03/10/2023
#বিশ্ববরেণ্য #জাদুশিল্পী
#আমাদের #পরম #শ্রদ্ধেয়
#পি #সি #সরকার #জুনিয়র #এর #লেখা #এক #স্মৃতি #ময় #ঘটনা ///
To,
সব্বার প্রিয়,
বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জাদুকর,
রূপকথার মহানায়ক,
অখণ্ড ভারতবর্ষের অহঙ্কার,
বাংলার গর্ব , বিশ্বজয়ী সন্তান,
'পদ্মশ্রী' প্রতুল চন্দ্র সরকার,
অর্থাৎ আপনাদের
জাদু সম্রাট পি সি সরকার,
কিন্তু,
আমার কাছে,
আমার, একান্ত আমার ,
নিজস্ব ব্রহ্মাণ্ডের শেষ কথা, পূর্ণ আদর্শ,
নিজস্ব আকাশ , নিজস্ব বাতাস, নিজস্ব আলোর মালিক,
আমার করুণাময়ী, আদরের 'মা'এর, দাপটের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী, স্নিগ্ধ হাসির পূর্ণতা, তারই জীবনের সুখ-দুঃখ-লড়াইয়ের সঙ্গী, সহযোদ্ধা এবং পরিপূরক স্বামী, পুর্ণ পুরুষত্বের প্রতীক ছিলেন
আমার 'বাবা'!!
আমরা পাঁচ-ভাই বোনেদের বাবা।
যিনি এই আজকের দিনে, ৬ই জানুয়ারি, ১৯৭১ প্রচলিতাব্দে, জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের, শিবেৎসু শহরে, তাঁর সেরা ইন্দ্রজাল প্রদর্শনরত অবস্থায় হৃদরোগের বাহানা দিয়ে, পার্থিব দেহটা সজ্ঞানে ত্যাগ করেন।
আমি তখন কলকাতায়। M. Sc. পরীক্ষা দিচ্ছি।
খবর পেয়ে, সব ফেলে জাপানে গিয়ে....
বাবার সঙ্গে আর দেখা হয়নি। কফিনস্থ জানালা দিয়ে দেখাটাই শেষ দেখা। কলকাতায় আপনারা যে মুহুর্তে বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করছেন, ঠিক সেই মুহুর্তে আমি, মুখে স্নো-পাউডার মেখে বাবার ঘামে ভেজা সেরোয়ানী পড়ে, বাকি শো-গুলো সম্পন্ন করে, বাবার চুক্তি-সই-এর সম্মান রক্ষা করতে শো করছি। চালিয়ে যাচ্ছি পঞ্চাশ বছরের ওপর । পৃথিবীর কোণায় কোণায় ইন্দ্রজাল নিয়ে বিশ্ব জয়ের অছিলায়, বাবাকে খুঁজে চলেছি। জানি, আপনাদের মধ্যে, মানুষের ভীড়েই বাবা লুকিয়ে আছেন। খুঁজে যাচ্ছি। পাবো।
"পথের ক্লান্তি ভুলে, স্নেহ-ছায়া কোলে তব, মা-গো বলো কবে শীতল হবো। কত দূর আর কত দূর বলো মা। "
========নিরুদ্দিষ্টের প্রতি চিঠি===========
কোলকাতা, ছয়ই জানুয়ারি ২০২২
শ্রীচরণেষু বাবা,
অনেক আশা নিয়ে এই চিঠিটা আমি তোমায় লিখছি। জানি, তুমি বলবে, "পাগোল কোথাকার ! ঠিকানা বিহীন চিঠি কি কখনও তার গণ্তব্যস্থলে গিয়ে পৌঁছোয়? মোটেই না। পৌছোতে গেলে ঠিকানাটা ঠিক-ঠাক লিখতে হয়। নইলে সে তো দিশেহারা এলোমেলোর জগতে হারিয়ে যাবে।"
এই তো বাবা। শান্তি পেলাম। উত্তর পেয়ে গেছি। বুঝেছি, অনন্তর সঙ্গে যুঝতে অনন্তটাই হচ্ছে অস্ত্র। নিখাদ অন্ধকারে চোখ বন্ধ করে চললে অন্য ইন্দ্রিয় আরও সজাগ হয়ে উঠবে। তাই দিয়ে ওই পরিবেশে জেতা সম্ভব হয়। এলোমেলোতে এলেবেলে হয়ে থাকাটাই আসল অস্ত্র।
বাবা, তোমাকে সঙ্গ দিতে, 'মা' তোমার কাছে রওনা দিয়েছেন। পৌঁছ-সংবাদ পাইনি। হয়তো তোমাকে পেয়ে আমাদের কথা ভুলে গেছেন।
মাকে দেখতে ইচ্ছে করে। খুঁজতে, ছবির তাগাড়ে অন্য আরও কিছু ছবি পেলাম। নীচে সেগুলো দিলাম।
তোমাদের আমি কখনো মিথ্যে কথা বলি না। কারণ মিথ্যে বলার প্রয়োজন হয় না। সেজন্য জিজ্ঞেস করার আগেই বলছি, এখানে , আমরা কেউই ভালো নেই। না না, শরীর খারাপ নয়। বলছি সুখ-শান্তির কথা। দেশের একজনও সুখে নেই। অসুখে ভুগছি। কোভিড নামে এক সভ্যতা, সংস্কৃতি ধ্বংসের মূর্খামি, নষ্টামির অসুখে ভুগছি। রাজনীতির জন্য রোগ ছড়ানোর বন্দোবস্ত করা হয়েছে। নেতারা কেউই প্রকৃত নেতা নন। তাদের নির্দেশ কেউই মানে না। সৎ-উপদেশকে অমান্য করা এখন হাড়ের মজ্জায় গিয়ে ঢুকেছে। কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। ভরসা, বিশ্বাস করে না। ভাই, ভাইকেও নয়।
বাবা, জানো, লেখাপড়া না করেই ডিগ্রি পাবার পদ্ধতি চালু হয়েছে। স্বপ্ন, কল্পনা, স---ব হারিয়ে গেছে। ভাগাড় থেকে খাবার আসছে। ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ছে। ডাক্তাররা ডাকাত হয়ে গেছে। বুদ্ধিজীবী, সংবাদ পত্র , সব হয়ে গেছে কেনা গোলাম। প্রতিভার কোনও মূল্য নেই। নেতারা আজ এই দলে, কাল অন্য দলের। ভয়াবহ সমাজের অবস্থা। সমাজই নেই, তো তার আবার দুরবস্থা।
বাবা, তুমি যেখানেই থাকো, আমার প্রণাম নিও। তোমার তো অসীম ক্ষমতা। একটা কিছু করো যাতে আমাদের সব্বার মঙ্গল হয়। আমরা পাওনা মাফিক সুখে বাঁচি। পরিশ্রমের, সততার, প্রতিভার মূল্যায়ন অনুযায়ী আমরা যেন, পাওনা মাফিক ফল পাই। দেশে অনাচার চলছে। অভদ্র, কূলাঙ্গার, কূ-মতলবী মানুষের হাতে অপরিসীম পরিমাণ অর্থ এবং শক্তি জমে গেছে। তারা পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট করছে। সেজন্যই কি দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন করতে কোভিড নামক অদৃশ্য দানবকে ঈশ্বর পাঠিয়েছেন? তবে তাই-ই হোক। ঈশ্বর যেন তিলে তিলে ওই দুষ্কৃতীদের শাস্তি দেন। বাবা, তুমি আমাদের রক্ষা করো। ইতি
তোমারই সৃষ্ট , 'আমি', প্রদীপ
তোমারই সন্তান পি সি সরকার জুনিয়র
এবং তৎসহ, তোমার
বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি অনুরাগীবৃন্দ।
---------------------------------+