Mousumi Creation

Mousumi Creation ব্যাপার টা এমন না যে, তুমি যাবে আর একজন আসবে।
ব্যাপার টা এমন যে, তুমি থাকবে বাকিরা জ্বলবে।।

21/08/2025

Celebrating my 2nd year on Facebook. Thank you for your continuing support. I could never have made it without you. 🙏🤗🎉

- কি রে কার সাথে কথা বলছিলি এতক্ষণ ?- আরে জয়া ফোন করেছিল ।- ওর আবার কি দরকার ?- ওদের ব্রেকআপ হয়ে গেছে !- তো ব্রেকআপ পা...
21/08/2025

- কি রে কার সাথে কথা বলছিলি এতক্ষণ ?
- আরে জয়া ফোন করেছিল ।
- ওর আবার কি দরকার ?
- ওদের ব্রেকআপ হয়ে গেছে !
- তো ব্রেকআপ পার্টি কবে দিচ্ছে ?
- রূপ কি বলছিস ! ওদের ব্রেকআপ হয়ে গেছে আর তাতেও তুই পার্টি চাইছিস ।
- হ্যাঁ ভুল কি বললাম ! ওরা সব কিছুতে সেলিব্রেট করে আর ব্রেকআপ হলে সেলিব্রেট করবে না ?
- তোর মধ্যে কোনো ইমোশন নেই না !
- হ্যাঁ আছে তবে ফালতু কারণে নষ্ট করি না, অনেক সামলে যত্ন করে রেখে দি ।
- এটা ফালতু কারণ ?
- নয়তো কি? যেই রিলেশনে বন্ডিং নেই, বিশ্বাস নেই, অপেক্ষা নেই, আপস এন্ড ডাউনস নেই, অভিমান নেই সেটা আবার রিলেশন !
- ওরা দুজন দুজনকে খুব ভালবাসতো।
- দুজনের দুজনকে ভালোলাগতো। ভালোবাসা শব্দটা বড্ড গভীর । যদি ভালোবাসতো তাহলে ছয় মাসের মধ্যে রিলেশন ভেঙে যেত না ।
- ওদের এক সাথে কত হ্যাপি লাগতো তো ।
- একটু বেশি লোক দেখানো ছিল বিশ্বাস কর । ভালবাসলে দেখাতে হয় না। যখন আমাদের মতন ১১ বছর প্রেম করে বিয়ে করবে সবাই এমনিই দেখবে। ভালোবাসা আর ভালোলাগায় অনেক পার্থক্য আছে রিমি বোঝো বোঝো ।
- বোঝান আমায় না হয় শুনি ।
- ভালোলাগা বদলায় কিন্তু ভালবাসা বদলাতে পারে না কোনোদিন ।
- যেমন ?
- যখন আমি ছোটো ছিলাম আমার মালপো খেতে দারুন লাগতো মানে ভালোলাগত, তারপর একটু বড় হলাম মিষ্টি খেতে তেমন আর ভালো লাগে না ভালোলাগলো বিরিয়ানি আর চিকেন চাপ । আমি এমনকি স্কুলের টিফিনের টাকা জমিয়ে বিরিয়ানি চিকেন চাপ খেতাম । আসতে আসতে সেটাও বদলে গেলো এখন ভালোলাগে ঝাল ঝাল কষা মাংস আর ময়দার রুটি খেতে । তো ভালো লাগা বদলায় সময়ের সাথে সাথে,পরিস্থিতির সাথে কিন্তু তখনও ভালোবাসতাম মা, বাবা নিজের পরিবারকে এখনোও সেই ভালোবাসা একই আছে খালি তার সাথে যোগ হয়েছিস তুই ভালোবাসার ভাগ নিতে । কোনো জড় পদার্থকে ভালোবাসা যায় না যদি না তাতে কোনো ভালোবাসার মানুষের স্মৃতি আটকে থাকে । ভালোলাগার জিনিস হারিয়ে গেলে দুদিন কাঁদবো তিন দিন কাঁদবো আবার সব নরমাল হয়ে যাবে , কারণ সেগুলো জীবনে কোনো দাগ ফেলতে পারে নি ।
- ওরা তো কত ভালো মুহূর্ত কাটিয়েছে এক সাথে ।
- হ্যাঁ কিন্তু দুজনের আপস এন্ড ডাউন কি দেখেছে ওরা! কোনোদিন একজন এর খারাপ সময় পাশে দাঁড়িয়েছে আরেকজন ? জয়ার মাইনে সাত তারিখ হয় বলে মাঝে মাঝে এক দুই তারিখ করে তোর থেকে টাকা চাইতো সেই টাকাটা কোনোদিন শুভ কে চেয়েছে? ওকে তো ভালোবাসতো! কোনো দিন ফোন বাদ দিয়ে সময় কাটিয়েছে দুজন ? কোনো ছবি না তুলে কোনো দিন নিজেরা মন খুলে কথা বলেছে নিরিবিলিতে? ওরা আসলে দুজন দুজনকে চেনেই নি এখনো ।
- এই ছয় মাসেও না ?
- না দুজন নিজেদের কে একে অন্যের মত করে বদলানোর চেষ্টাই করেছে শুধু কোনোদিন কেউ কাউকে জিজ্ঞাসা করে নি যে কার কোনটা ভালো লাগে ।
- বাপরে তুই তো ভালোবাসা নিয়ে পুরো রিসার্চ করেছিস ! আচ্ছা আমায় কোনো দিন ছেড়ে যাবি না তো তুই ?
- তোর আবার এরম মনে হলো কেনো ?
- না ভয় করে ।
- পাগলি একটা ভাত বসিয়েছি নামিয়ে তরকারি টা করে নে ।
- বল আগে ?
- তোর কি মনে হয় ?
- বিশ্বাস তো করি ছেড়ে যাবি না কোনো দিন ।
- ব্যাশ এই বিশ্বাসটাই আমি কোনোদিন ভাঙতে দেবো না ।

~বাউন্ডুলে

ছবি সংগৃহিত

সাতাশ বছরের বুড়ি মেয়েকে আমি কখনোই আমার বাড়ির বউ করবো না রিভু।”মায়ের কথাটি রিভুর কানে যেতে সে ইশারা করে মাকে বলে,“মা চুপ ...
12/05/2025

সাতাশ বছরের বুড়ি মেয়েকে আমি কখনোই আমার বাড়ির বউ করবো না রিভু।”
মায়ের কথাটি রিভুর কানে যেতে সে ইশারা করে মাকে বলে,“মা চুপ করো। ফোনের ওপাশে পালক আছে।”

“ঐ মেয়ে ফোনের ওপাশে আছে তাতে আমার কি? ঐ মেয়ে জানে না ও যে বুড়ি হয়েছে। তোর পাশে দাঁড়ালে ওকে তোর মা মনে হবে৷ সেই মেয়ে কোন সাহসে তোর বউ হতে চায়। আবার বলছে আমাদের বোঝাতে। কি বুঝবো?”
রিভুর মা উচ্চশব্দে কথাগুলো বলে উঠে। রিভু হতভম্ব হয়ে যায়। রিভুর মা পুনরায় কঠিন গলায় বলে,“ঐ মেয়ে ঠিকসময় বিয়ে করলে এতদিনে তিন চারটে বাচ্চা থাকতো। হয়তো ওর মেয়ের সাথে তোর বিয়ে হওয়ার মতো উপযুক্ত হতো। সেই মেয়ে চায় তোর বউ হতে। যাকে আমি আমার বাড়ির কাজের লোক হিসাবেও রাখবো না।”

রিভু মায়ের কথায় হতভম্ব হয়ে গিয়ে ফোনের ওপাশে থাকা পালক কে বলে,“পরে কথা বলছি।”
রিভু ফোন কেটে দিতে পালক হাউমাউ করে কান্না করে দেয়। তাদের নয় বছরের ভালোবাসার সম্পর্ক। আজ যখন রিভু প্রতিষ্ঠিত হলো তখন তার বাবা-মা পালক কে বউ হিসাবে মানতে রাজি নয়। কেন? তার বয়স বেশি। অথচ সেই বিশ বছর বয়স থেকে তার জন্য ভালো ভালো পাত্র নিয়ে আসে ঘটক। বাবা-মা তার বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। তখন নানা বাহানা পালক সবগুলো পাত্র রিজেক্ট করে। যার জন্য সে এতকিছু করলো আজ তার পরিবার বলছে, তার বয়স বেশি। তাদের ছেলের সাথে তার যায় না।

রিভুর মায়ের কথায় পালক যতটা না কষ্ট পেয়েছে তারচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছে রিভু কোন প্রতিবাদ না করায়। বাড়িতে যখন পালকের বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয় তখন পালক এই রিভুকে ফোন দিয়ে বলেছিলো,“রিভু কিছু করো। আমার বাবা-মা আমার বিয়ে দিতে চাচ্ছে। কিন্তু আমি তোমাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবো না।”

“আমিও তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না জান। তুমি প্লীজ পাঁচটা বছর অপেক্ষা করো। আমি পড়ালেখা শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হই। তারপর আমরা বিয়ে করবো।”
রিভু সেদিন পালকের কাছে সময় চায়। তার ভালোবাসার প্রমাণস্বরূপ তাকে অপেক্ষা করতে বলে। আজ সেই মানুষটির পরিবারের কাছে সে বুড়ি। তাদের সরকারি চাকরিজীবি ছেলের পাশে তাদের যুবতি বৌমা চাই। পালক এসব ভেবে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

পালক পার্কের একটি বেঞ্চে বসে রিভুর অপেক্ষা করে। কিছুক্ষণের মধ্যে রিভু সেখানে এসে উপস্থিত হয়। রিভু আসতে পালক উঠে দাঁড়ায়। হঠাৎ করে রিভুর কলার চেপে ধরে। তারপর বলে,“তুই গতকাল মেয়ে দেখতে গিয়েছিলি? কেন গিয়েছিলি? তুই না আমায় ভালোবাসিস। তাহলে অন্য মেয়ে কেন দেখলি?”

“লোকজন দেখছে।”
রিভু আস্তে করে কথাটি বলে। পালক উত্তেজিত হয়ে বলে,“দেখুক। সবাই জানুক। দিনের পর দিন অপেক্ষা করিয়ে তুই কিভাবে আমাকে ঠকিয়েছিস? জানুক সবাই।”

“পালক প্লীজ শান্ত হও।”
রিভু যথেষ্ট নরম কন্ঠে কথাটি বলে। পালক শান্ত হয়ে যায়। সে পুনরায় বেঞ্চে বসে পড়ে। রিভু তার পাশে বসে। পালক আস্তে করে বলে,“মেয়ে পছন্দ হয়েছে?”

রিভু জবাব দেয় না। পালক তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। পালক পুনরায় জিজ্ঞেস করে,“মেয়েটাকে রিজেক্ট করেছো?”

“পালক আমি আসলে….....।”
রিভু আমতা আমতা করছে দেখে পালক স্পষ্টভাষায় বলে,“আসলে নকলে বাদ দিয়ে স্পষ্টভাবে বলো। মেয়েটাকে রিজেক্ট করেছো?”

“না। আমার পরিবার মেয়েটাকে খুব পছন্দ করেছে। আমি অনেক চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তাদের আটকাতে পারিনি। তারা মেয়েটাকে আংটি পড়িয়ে দেয়।”

“তাই? সত্যি চেষ্টা করছিলে?”
পালক জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকায়। রিভু মাথানত করে বসে আছে। পালক চোখে পানি মুছে শান্ত গলায় বলে,“করোনি। তুমি চেষ্টা করোনি রিভু। যদি সত্যি চেষ্টা করতে তাহলে মেয়েটাকে রিজেক্ট করতে। যেভাবে আমি তোমার জন্য শত শত পাত্র রিজেক্ট করেছিলাম।”

“পালক আমি…....।”
রিভু কে থামিয়ে দেয় পালক । তারপর বলে,“তোমাকে কিছু বলতে হবে না রিভু। আমি বুঝেছি তুমিও মনে করো আটাশ বছরের তোমার সাথে সাতাশ বছরের আমি বেমানান।আমাকে তোমার পাশে বড্ড বয়স্ক দেখায়।”

“পালক আমি তোমাকে সত্যি ভালোবাসি।”
রিভুর এই কথা শুনে পালক ম্লান হাসে। তারপর বলে,“যদি সত্যিই ভালোবাসতে তাহলে যুবতি সুন্দরী মেয়ে দেখে গলে যেতে না। তার সাথে বিয়ে ঠিক করে আসতে না।”

“তুমি আমাকে ভুল বুঝছো। আমার বাবা-মাকে আমি অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি।”
রিভুর এই কথায় পালক একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারপর বলে,“পুরুষের শূন্য পকেটে যে নারী পাশে থাকে সে কখনো বেঈমান হয় না। আর শূন্য পকেটে পাশে থাকা নারীটিকে যে পুরুষ তার সফল সময়ে সঙ্গী বানায় সেই পুরুষের ভালোবাসা কখনো মিথ্যা হয় না।”

রিভু অবাক হয়ে পালকের দিকে তাকায়। পালক ম্লান কন্ঠে বলে,“বেকারত্বের দোহাই দিয়ে বলেছিলে আমাকে পাঁচ বছর সময় দাও। দিলাম। তারপর বললে আর একটু সময় দাও। দিলাম। অবশেষে আজ আমার বয়স সাতাশ। আমাদের নয় বছরের সম্পর্ক। তোমার কাছে নয় বছরটা চোখে লাগেনি।কিন্তু সাতাশ বছরটা চোখে লেগেছে। তাই না?”

রিভু নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকে। পালক করুণচোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর বলে,“গ্রামে একটা কথা বলে, নারীরা কুড়িতে বুড়ি। কথাটা সঠিক। আজ আমি বুঝতে পারছি।
সাত বছর আগে তুমি স্টুডেন্ট ছিলে, বই কেনার টাকা নেই, টিউশনি চলে গেছে অসহয় হয়ে পড়েছো, বাবা-মায়ের কাছে বারবার টাকা চাইতে সমস্যা হচ্ছে। সেই সময়ে তোমাকে মানসিক সাপোর্ট পাশাপাশি আর্থিক সাপোর্টও আমিই দিয়েছিলাম। তোমার জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপে আমি তোমার সঙ্গ দিয়েছি। কিন্তু তোমার কাছে সেসব কিছু ফিঁকে লাগে। আর যেটা বাস্তব লাগে তাহলো আমার বয়স সাতাশ। সাতাশ বছর বয়স, এখন বিয়ে করলে বাচ্চা হবে না। মুখে বয়সের ছাপ স্পষ্ট। বুড়ি লাগছে। সরকারি চাকরিজীবি তোমার পাশে আমাকে এখন বেমানান লাগছে। তোমার সাথে আঠারো বছরের যুবতি মানানসই। তাই না? অথচ তোমার অপেক্ষায় যুবতি থেকে বুড়ি হয়েছি আমি। তোমাকে ভালোবেসে সব পাত্রকে রিজেক্ট করেছি। এই সবকিছু তোমার কাছে মিথ্যে। শুধুমাত্র বয়সটা সাতাশ এটাই সত্যি।”

পালকের কথাগুলো নিশ্চুপ হয়ে শোনা ছাড়া রিভুর আর কিছুই বলার নেই। তাই সে চুপ করে আছে। পালক পুনরায় বলে,“আচ্ছা তোমরা প্রেম করার সময় তোমাদের পরিবার কোথায় থাকে? তখন তোমরা অনাথ থাকো না? যখন বিয়ের কথা উঠে তখনই তোমাদের পরিবার এসে উপস্থিত হয়। তারা মানছে না বলে বিয়ে করতে পারছো না। অথচ প্রেমের সময় ঠিকই বাপ মা ছাড়া করতে পারছো। তখন বাধেনি। বিয়ের কথার প্রতিশ্রুতি দিতে তখন মুখে বাধেনি। আজ বাধছে। বাবা-মা চাইছে না তাই বিয়ে করতে বাধছে, তাই না?”

পালক কথাগুলো খুব রাগান্বিত কন্ঠে বলে। রিভু চুপচাপ কথাগুলো শুনে। পালক আবারও উত্তেজিত হয়ে যায়। উত্তেজিত কন্ঠে বলে,“আমাকে ঠকিয়ে তুমি কখনো সুখী হবে না। কখনো সুখী হবে না। আমার প্রতারক কখনো ভালো থাকবে না। কখনো না।”

কথাগুলো বলে পালক ছুটে সেখান থেকে চলে যায়। রিভু তার চলে যাওয়া এক দৃষ্টিতে দেখে।পালক সেখান থেকে বাড়ি অব্দি কান্না করতে করতে আসে। সে কান্না করতে চাচ্ছে না। তবুও কান্না করছে। তার চোখের পানি তার কথা শুনছে না। সেও তার সাথে বেঈমানী করে এক বেঈমানের জন্য ঝরে পড়ছে। এক বেঈমানের জন্য।

সেদিনের পর থেকে পালকের সাথে রিভুর কোন যোগাযোগ নেই। রিভু সব স্থান থেকে পালককে ব্লক করেছে। তবে রিভুর এক বন্ধুর সাথে পালক এডড ছিলো। সেজন্য আজ রিভুর বিয়ের ছবি সেই বন্ধু পোস্ট করায় তার সামনে এসে পড়ে। সেই ছবির মাঝে রিভু এবং তার স্ত্রীর একটি কাপল ছবিও ছিলো। পালক এক দৃষ্টিতে ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটির বয়স কম। দেখতে খুবই সুন্দর। রিভুর সাথে বেশ মানিয়েছে। এসব ভাবতে ভাবতে পালক চোখ সরিয়ে নেয়। মনেমনে বলে,“এভাবে তাকাস না পালক। তোর নজর ওদের উপর লাগবে। যতই মুখে বলিস ও সুখে না থাকুক। কিন্তু ও অসুখী হলে তুই বেশি কষ্ট পাবি। তাই নজর দিস না।”

পালক মোবাইল ফোনটি ছুঁড়ে ফেলে দেয়। তারপর হাউমাউ করে কান্না করতে শুরু করে। হাত-পা ছোটাছুটি করে কান্না করে পালক। একদম বাচ্চাদের মতো। তার কান্নাগুলো কথা বলতে পারলে হয়তো বলতো,“দেখো পৃথিবী দেখো। তোমার চোখে যে সাতাশ বছরের বুড়ি সেই মেয়েটাই আঠারো বছরের যুবতির মতো আবেগি হয়ে কান্না করছে। দেখো তুমি ভালো করে দেখো।”

' মেজবৌমা , বলি ও মেজবৌমা ۔۔ কানের মাথা খেয়েছো নাকি ' ? তরুবালা দেবীর বাঁজখাই চিৎকারে প্রতিবারের মতোই আজও সামান্য কেঁপে ...
21/03/2025

' মেজবৌমা , বলি ও মেজবৌমা ۔۔ কানের মাথা খেয়েছো নাকি ' ? তরুবালা দেবীর বাঁজখাই চিৎকারে প্রতিবারের মতোই আজও সামান্য কেঁপে উঠলো সুমতি l আঁচলে হাত মুছতে মুছতে কোনক্রমে গিয়ে দাঁড়ালো জেঠি শাশুড়ি মায়ের সামনেl
' বলুন জেম্মা ' ۔۔ ভয়ে তটস্থ সুমতির মুখ l
' শুনতে পাচ্ছিলে না ? কখন থেকে ডাকছি ' ۔۔
বজ্রনিনাদ স্বরে বলে উঠলেন তরুবালা l
' না মানে আসলে রান্নাঘরে একটু ব্যস্ত ছিলাম ۔۔۔' নুয়ে পড়া স্বরে কিছু একটা যুক্তি দিতে চেষ্টা করলো সুমতি l কিন্তু বলে উঠতেই পারলো না l অবশ্য কবেই বা পেরেছে গত দু বছরে ! বিয়ে হয়ে আসার পর থেকে এই ব্যানার্জি বাড়িতে শুধু বন্দি আত্মার মতোই দগ্ধে ম-রে-ছে প্রতিদিন l
আসলে সুমতি বেশ গরিব ঘরের মেয়ে l এমনকিছু মেধাও ছিল না পড়াশুনায় l তাই পঁচিশ পেরোতে না পেরোতেই বাবা মা ব্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন ওকে ঘরে বরে থিতু করতে গড়পড়তা নব্বই ভাগ মধ্যবিত্ত অভিভাবকের মতোই l
কিছুটা রূপের জোরে আর বাকিটা ভাগ্যের জোরে এই ব্যানার্জি বাড়ির বৌ হয়ে আসতে পেরেছে সুমতি l এটা একটা যৌথ পরিবার l শ্বশুর শাশুড়ি , জেঠ্যাশ্বশুর , জেঠীশাশুড়ি , ননদ , ভাসুর , দেওর আর সর্বোপরি জাঁদরেল ঠাম শাশুড়ি অর্থাৎ ওর বরের ঠাকুমাই এই বাড়ির শেষ কথা l বিয়ের পর থেকেই সকলের মন যুগিয়ে চলাটাই যেন এখন সুমতির জীবনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে l
নিজের পৃথক অস্তিত্বের কথাটাও তো আজকাল মাঝে মাঝে ভুলেই যায় সুমতি l খেয়াল থাকে না নিজের নামটাও l এখন যেন ও শুধুই এই বাড়ির বউ l আজকাল মাঝে মাঝে হাসি পায় পুরোনো۔۔ দিনের কথাগুলো মনে পড়লে l পড়াশুনায় তেমন মাথা না থাকলেও নাচটা বরাবরই ভীষণ টানতো ওকেl পাড়ার নাচের স্কুলে ছোটবেলায় ভর্তিও করে দিয়েছিলেন বাবা l সবাই বলতো সুমতির পায়ের ছন্দে যাদু আছে l সকলের মুখে প্রশংসা শুনতে শুনতে সুমতির মনটাও যেন স্বপ্নের পাখায় ভর করে উড়ে যেত l মনে হতো একদিন এই নাচকে ঘিরেই নিজের একটা আলাদা পরিচয় বানাবে ও l
' কি হল সং এর মতো দাঁড়িয়ে রইলে কেন ? শুনতে পাচ্ছ না ? শোন আজ আমার বেয়ান আর বেয়াই আসবেন l তুমি বিকেল বেলায় গরম গরম চিংড়ি মাছের কাটলেট গুলো ভেজে দেবে ওদের ' l গমগম করে উঠলো তরুবালা দেবীর হুকুম দেওয়া গলা l
ঢক করে ঘাড় নাড়লো সুমতি , কিন্তু ঠিক তক্ষুনি উড়ে এল ওর শাশুড়ি মৃন্ময়ী দেবীর রুক্ষ স্বর l
' বাহ্ ! অমনি হ্যাঁ বলে দিলে যে বড় ! তুমি জানো না আজ বুধবার ? আজ আমার বেদ বেদান্ত ক্লাস থাকে l সেখানে আমাকে তোমায় নিয়ে যেতে হয় জানো না ? আমার জল ছাতা ব্যাগ কি আমি বইব নাকি ? '
শাশুড়ির রুক্ষ স্বরের জবাবে ঠিক কি বলবে ভেবে পেল না সুমতি l কিন্তু ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মৃন্ময়ী ফের বলে উঠলেন নিজের জা এর দিকে তাকিয়ে
' দেখো দিদি আমার ছেলের বউ আগে আমার খিদমত করবে l পরে বাড়ির অন্য লোকদের l আর এই নিয়ে তুমি অশান্তি বাধালে আমি কিন্তু মায়ের কানে কথাটা তুলব ' l
তরুবালা জ্বলন্ত দৃষ্টি ছুঁড়ে দিলো নিজের জা এর দিকে l রাগে গা জ্বলে উঠলো ওর l এই এক ঢং হয়েছে গত এক বছর ধরে l প্রতি বুধ আর শুক্রবার এই বেদান্ত ক্লাস যাওয়া !
' ঠিক আছে বাপু , তোর বৌ নিয়ে তুই-ই যাস l' গোমড়ামুখে জবাবটা নিক্ষেপ করলেন তরুবালা বাঁড়ুজ্জে l
****
' আজকের দিনটা খুব অন্যরকম l আজ নারী দিবস স্পেশাল এপিসোড আর আজকেই আমাদের শো এর ফাইনাল রেজাল্ট ঘোষণা l আর এমন একটা দিনে আমার ঘোষণা করতে ভীষণ আনন্দ হচ্ছে যে , এই ডান্স রিয়েলিটি শো " তাল ছন্দ " র তিনমাসের জার্নি পেরিয়ে বিজয়ী হয়েছে একজন মেয়ে l এবার ডেকে নেব বিজয়ীকে , আজ আমাদের বিজয়ী আলোলিকা সাহা ' l
তুমুল হাততালিতে ফেটে পড়ছে চারিদিক l বিজয়ীর হাসি মুখে সেঁটে মঞ্চে উঠছে সতেরো বছরের আলোলিকা l
' সত্যি দারুন নাচতো মেয়েটা l ওরই তো উইনার হবার কথা ছিল ' l বিজ্ঞের ভঙ্গিতে কথাটা বললেন সোমদত্তা বাঁড়ুজ্জে মানে ব্যানার্জি পরিবারের দণ্ডমুণ্ডের কর্ত্রী l বয়সের ভার মোটেই কাবু করতে পারেনি যাকে l
' হুম সত্যিই তাই ' l শাশুড়ির কথায় বোদ্ধার মতো সায় দিলেন তরুবালা lনিদারুন জনপ্রিয় শো " তাল ছন্দ " দেখে না এমন বাঙালি পরিবার এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে বিরল l ব্যানার্জি পরিবারও তার ব্যতিক্রম নয় l প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে সকলে মিলে একসাথে বসে দেখে বাড়ির সবাই এই রিয়েলিটি শো l

' আমি আনন্দে আপ্লুত হয়ে যাচ্ছি আজ ' l খুশি উপচে পড়ছে আলোলিকা সাহার মুখ থেকে l
' আমি আমার জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই আমার বাবা মায়ের সাথে অবশ্যই , কিন্তু সর্বোপরি আজ আমি সেই মানুষটিকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই যে আমায় নাচের তালিম দিয়ে এই জায়গাটার যোগ্য করে তুলেছে l আমি মঞ্চে ডেকে নিতে চাই আমার নাচের দিদিমনিকে যার কাছে আমি দীর্ঘ তিন বছর অনুশীলন অভ্যাস করছি ' l
' আমরাও চাই আলোলিকার নৃত্যগুরুকে মঞ্চে আমাদের মাঝে দেখতে ' l আলোলিকার হাত থেকে মাইক নিয়ে এবার আহ্বান জানালেন সঞ্চালক l
ধীর পায়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসছে আলোলিকার নাচের দিদিমনি সারা বাংলা দেখছে সেটা টেলিভিশন সেটে l
আর সে মঞ্চে উঠতেই যেন বাজ আছড়ে পড়লো বাঁড়ুজ্জে বাড়িতে l
একি ! এটা কি করে সম্ভব ? মঞ্চে আলোলিকার যে দিদিমনি উঠে এসেছে সেটা তো আর কেউ নয় , সে তো এই বাড়িরই তেল নুনের হিসাব কষতে থাকা , সকলের হুকুম তামিল করতে থাকা বাধ্য বউ সুমতি ব্যানার্জি l
' একি ! কি অনাসৃষ্টি কান্ড এসব ? নাত বউ এতো স্পর্ধা তোমার ? কি করে হল এসব ' ? বজ্র কণ্ঠে হুঙ্কার ছাড়লেন সোমদত্তা ব্যানারজি l নিমেষে ভয়ে কুঁকড়ে গেছে সুমতি l মুখে কোন কথাই যোগাচ্ছে না তার l ঘরের কোনার দেওয়ালে পিঠ ঠেসে এই মুহূর্তে সে নির্বাক হয় দাঁড়িয়ে রইলেও টিভির পর্দায় গমগম করে উঠলো সুমতি ব্যানার্জির গলা l
' আমি আজ ভীষণ আনন্দিত আমার ছাত্রী আলোলিকার জন্য l আমি গর্বিত যে আমি আলোলিকার মতো একজন নৃত্যশিল্পী তৈরী করতে পেরেছি আমার শিক্ষার দ্বারা কিন্তু আমি হয়তো এটা করে উঠতেই পারতাম না l উদয়ন নৃত্য অঙ্গন নামে একটি নাচের স্কুলের সাথে যুক্ত ছিলাম আমি বিয়ের আগে থেকেই l কিন্তু আমার বিয়ে হয় এক অতি রক্ষণশীল যৌথ পরিবারে l বিয়ের পরে নাচের সাথে সমস্ত যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায় আমার l নতুন করে আর কোনোদিন হয়তো সে যোগাযোগ তৈরিও হয়তো , হয়তো কোনোদিনই আমি আর শিক্ষিকা হিসাবে উদয়ন নৃত্য অঙ্গনে ফিরে আসতেও পারতাম না যদি না একজন মানুষ আমায় হাতে ধরে আমার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে দিতেন l তিনি আর কেউ নন , তিনি আমার শাশুড়ি মা শ্রীমতি মৃন্ময়ী ব্যানার্জি ' l
পলকেই ব্যানার্জি বাড়ির সকলের দৃষ্টি ঘুরে গেছে মৃন্ময়ীর দিকে l এসব কি হচ্ছে ? যে মৃন্ময়ীকে সুমতি যমের মতো ভয় পায় সেই নাকি ওকে এগিয়ে দিয়েছে স্বপ্নের দিকে l এসবের মানে কি ? সকলের চোখেই ভিড় করে রয়েছে এক লক্ষ প্রশ্ন l
' হ্যাঁ আমিই ' ۔۔۔ নিজেই বলে উঠলেন মৃন্ময়ী এবারl
' বেদান্ত ক্লাসে যাবার নাম করে আমিই প্রতিদিন বৌমাকে পৌঁছে দিয়ে এসেছি নাচের স্কুলে l কারণ আমি টের পেয়েছিলাম স্বপ্নভঙ্গের জ্বালায় তিল তিল করে প্রতিদিন দগ্ধে ম-র-ছে বাচ্চা মেয়েটা , ঠিক যেমন একদিন আমি করেছিলাম l আমিও যে বিয়ের আগে গান বড্ড ভালোবাসতাম , স্বপ্ন দেখতাম গানকে ঘিরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার l কিন্তু কিচ্ছু হয়নি l এই সংসারের ঘানিতে পিষে শেষ হয়ে গেছিলো সব স্বপ্ন l সেই একই জিনিস আমার পুত্রবধূর সাথেও হোক আমি এটা কিছুতেই চাইনি l তাই আমিই ছল করে ওকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যেতাম , এগিয়ে দিতে চেয়েছিলাম ওর স্বপ্নের কাছে l আর আজ প্রমান হয়ে গেছে আমি ভুল করিনি , আমার বউমা সত্যি খাঁটি সোনা ' l
এক নিঃশ্বাসে বলে চুপ করলেন মৃন্ময়ী দেবী l
' না এটা হতে পারে না l আমাদের যে নিয়ম কানুন মানতে হয়েছে , কৃচ্ছ সাধন করতে হয়েছে সংসারের জন্য , পরবর্তী প্রজন্মকেও তাই করতে হবে l নইলে এই বাড়িতে কারোর জায়গা হবে না ' l হুঙ্কার এর ভঙ্গিতে বললেন এবার সোমদত্তা l
' কেন ? যুগযুগ ধরে একই জিনিস কেন হবে ? যেটা আমি পাইনি সেই একই অপ্রাপ্তির যন্ত্রনা পরবর্তী প্রজন্মের ঘাড়ে চাপিয়ে আত্মশ্লাঘা পাওয়াতে আমি বিশ্বাসী নই আপনাদের মতো l আমি মনে করি যেটা আমরা পাইনি সেই ন্যায্য পাওয়াটুকু পাইয়ে দেব আমরা পরের প্রজন্মের মেয়ে বউদের l তবেই তো পিছিয়ে পড়া নারী সমাজ একদিন সমাজের প্রথম সারিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে l সব মেয়েই যদি অন্য মেয়েদের পা টেনে ধরে শুধু নিচেই নামাতে চায় তাহলে তো সারাজীবন আমরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়েই থেকে যাব তাই না মা '?
স্তম্ভিত হয়ে গেছেন সোমদত্তা l কবে এতো কথা শিখলো তার ঘরকুনো বৌমা ? কে ওকে এতো কথা শেখাচ্ছে ? ওই নাতবৌ ? নিজের ছেলের বৌদের তো আজ্ঞাবহ অনুচর বলেই চিরকাল জেনে এসেছেন সোমদত্তা ব্যানার্জি , কিন্তু সেই ছক ভেঙে আজ মৃন্ময়ী কি প্রমান করতে চাইছে ? পুত্রবধূ শুধুই পরের বাড়ির মেয়ে নয় , সেও একান্ত আপন হয়ে উঠতে পারে এটাই কি দেখাতে চাইছে মৃন্ময়ী ?
না এসব ছক ভাঙা বেয়াদপি তো চলবে না এই সংসারে l
' শোন বৌমা এসব বেয়াদপির শাস্তি তোমায় পেতেই হবে l এই বাড়িতে তোমার বা তোমার ছেলের বউয়ের আর কোন জায়গা হবে না ' l হুকুমের ভঙ্গিতে বললেন সোমদত্তা l
' বেশ তবে তাই হোক ঠাম্মা l আমাদের কোন আপত্তি নেই ' l শাশুড়ির পাশে গিয়ে দাঁড়ালো এবার সুমতি l
' মা আমিও আছি তোমাদের সাথে ' l মা আর বৌয়ের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো সুমতির স্বামী অমিত l আজ প্রথমবার ওকে যেন যথার্থ পুরুষ মানুষ মনে হচ্ছে সুমতির l
' তুমি না এলেও আমাদের অসুবিধা হবে না l আমি আর মা ঠিক পারবো নিজেদের জীবন সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে l মেয়েদের শক্তি অনেক বেশি l দরকার শুধু সেই শক্তির একজোট হওয়া l যেদিন সমাজের সব মেয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা শুরু করবে সেদিন আর কেউ আমাদের পিছিয়ে রাখতে পারবে না এটা জেনে রেখো ' l
মৃন্ময়ী পরম স্নেহে হাত রাখলেন পুত্রবধূর মাথায় l না মেয়েটার মধ্যে সত্যিই জেদ আছে l এরকম মেয়েরাই পারবে সমাজের বস্তা পচা নিয়মএর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে সমাজটা পাল্টাতে , দরকার শুধু ওদের হাতটা শক্ত করে ধরা l হ্যাঁ মৃন্ময়ী ধরে থাকবেন ওর হাত , আসলে অচেনা ছকের অংক কষতে চিরকালই যে বড্ড ভালোবাসতেন মৃন্ময়ী l

----- সমাপ্ত ------

গাড়ির শোরুম থেকে বেরিয়ে আসছে মিঠি, ঠিক সে সময়েই পিছন থেকেই মিঠি বলে ডেকে উঠল বন্দনা। মিঠি পিছিয়ে আসতেই বন্দনা বলল,"চিনতে...
17/01/2025

গাড়ির শোরুম থেকে বেরিয়ে আসছে মিঠি, ঠিক সে সময়েই পিছন থেকেই মিঠি বলে ডেকে উঠল বন্দনা। মিঠি পিছিয়ে আসতেই বন্দনা বলল,

"চিনতে পারছিস না! আমি বন্দনা। তুই এখানে জব করিস?এ মা আগে জানলে আমি তো তোকে নক করেই আসতাম।"

মিঠি কিছু বলতে যাবে, বন্দনা বলে উঠল,

"আর বলিস না। লাস্ট উইকে ফিরেছি। বিদেশে থাকতে থাকতে বোর লাগছিল। বরকে বলেই দিয়েছি কলকাতায় গিয়ে এক বছর মা বাবার কাছে থাকব। বরের কাছে বায়না করলাম একটা ফোর হুইলার দিতে হবে। এক বছরটা তো কম দিন নয়। আমি আবার পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এভয়েড করি। যত দিন কলকাতায় থাকব নিজের গাড়িই ঠিক আছে। আর যখন নিজেই ড্রাইভ করতে পারি অসুবিধা কি! এক বছর পর কলকাতা ছেড়ে যখন চলে যাব তখন গাড়িটা বিক্রি করে দেব। এই তুই আমার সাথে ফেসবুকে ছিলি না? মনে হয় আনফ্রেণ্ড হয়ে গেছে। আজকাল ফেসবুকে কি যে সব হয়েছে! জানিস কলকাতায় এসে এখানকার ওয়েদারটা ঠিক নিতে পারছি না। এত গরম এখানে। আমি আবার এসি ছাড়া থাকতে পারি না। তবে আমাদের অস্ট্রেলিয়ায় গরম নেই। দেখেছিস আমিই বকবক করছি। তোর খবর বল? কত দিন পর দেখা। ভালো আছিস তো?

মিঠির উত্তরের অপেক্ষা না করে বন্দনা আবার বলতে থাকল,

"বাইরে থাকি তো একটু রূপ চর্চা না করলেও হয় না। কাল একটা ইনভিটেশন আছে। এখান থেকে আবার পার্লারে যাব। এই সবের জন্য মাসে ভালোই খরচ। সৌভাগ্য, আমার বরটা ভালো চাকরি করে। সেদিক থেকে তোর আবার খরচ নেই।তোরাই ভালো আছিস। রূপ চর্চা করতে হয় না, ফিগার মেন্টেন করতে হয় না, পার্টি অ্যাটেন করতে হয় না। বিদেশ তো, এসব না করলে নিজেকে বন্য বন্য লাগে।"

কথা গুলো শুনতে শুনতে মিঠির মনে পড়ছিল সেই স্কুল জীবনের কথা। মিঠির সাথে সবসময়েই চলত একটা ঠাণ্ডা লড়াই। মিঠি ছিল ভালো স্টুডেন্ট। পড়াশোনায় ভালো হওয়ার জন্য ম্যাডামদের চোখে মিঠির আলাদা একটা গুরুত্ব ছিল। এই ব্যাপারটা মেনে নিতে পারত না ক্লাসের অনেকেই। তাদের মধ্যেই ছিল এই বন্দনা।

মিঠি ছোটো থেকেই শান্ত স্বভাবের। শুধু পড়াশোনা নয়, স্কুলের খেলাধূলাতেও মিঠি অনেক মেয়েকেই পিছনে ফেলে বহু প্রাইজ নিজের ঝুলিতে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। স্বভাবতই অনেক মেয়ের ঈর্ষার কারণ ছিল মিঠি। শুধু কি ঈর্ষা, বন্ধু মহলে কতবার যে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়েছে তার ঠিক নেই। স্কুলের নাটকে মিঠি অভিনয় করছে শুনে বন্দনা বলেছিল,"গায়ের রঙ তো কালো বিড়ালের মতো, ও করবে অভিনয়?"

এমন কথা মিঠিকে কষ্ট দিলেও মিঠি কখনো প্রতিবাদ করেনি।মাধ্যমিকের গণ্ডী পেরিয়ে মিঠি চলে গিয়েছিল অন্য স্কুলে। স্কুলের হেড দিদিমণি মিঠির মতো মেয়েকে স্কুলে রাখতে চেয়েছিলেন। মিঠি বলেছিল, "সায়েন্স নিয়ে পড়তে গেলে অন্য স্কুলে তো যেতেই হবে। আর এখানে আর্টস ছাড়া সায়েন্স তো নেই।" অন্য স্কুলে চলে যাওয়াতে মিঠি এমন বন্ধুদের রোষানল থেকে আলাদা করতে পেরেছিল হয়তো। এত গুলো বছর পরেও বন্দনার সেই হেয় করার স্বভাবটা যে এখনো যায়নি, সেটা বন্দনার এ হেন কথাতেই বুঝে গিয়েছিল মিঠি।

সে যাইহোক, এত বছর পর স্কুল জীবনের বন্ধু বন্দনার সাথে দেখা মিঠির। তাও চোদ্দ পনেরো বছর তো হবেই। মানুষের স্বভাব যে কখনো বদলে যায় না, সেটাই ভাবছিল মিঠি। ইতিমধ্যে মিঠির ধ্যান ভঙ্গ হলো এক ভদ্রলোকের এমন কথা শুনে,

"আরে এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে হবে? কোন কালারটা নেবে সেটা তো পছন্দ করো।"

মিঠি বুঝে যায় ভদ্রলোক বন্দনার হ্যাজব্যাণ্ড। মৃদু হেসে মিঠি বলল,

-গাড়ির কালার পছন্দ কর তাহলে। আমি বেরোব। পরে কখনো কথা হবে।

বন্দনা হেসে বলল,

-সে তো করবই। বর গিফ্ট করছে বলে কথা। তোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই তো হলো না। আমার বর সোহম।

-সে তুই না বললেও আমি বুঝে গেছি। মুখে মৃদু হাসি রেখেই মিঠি কথাটা বলল। পাশ থেকে বন্দনা বলে উঠল,

-জানো সোহম, ও আমার ক্লাসমেট মিঠি। এখানে জব করে।আগে জানলে কত ভালো হতো বলো তো! ওর ডিউটি আওয়ার শেষ হয়ে গেছে মনে হচ্ছে। তাই বেরিয়ে যাচ্ছে।

মিঠি হেসেই বলল,

-এই আর দেরি করলে হবে না। আমি আসি।

মিঠি বেরিয়ে গেল শোরুম থেকে। বন্দনা সোহম এর দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলে,

-আরে এই সেই মেয়ে। তোমাকে এর গল্পই একদিন বলেছিলাম। ওই চেহারা নিয়ে আমাদের সাথে পাল্লা দিত।ভাবতে পারছো? কি লাভ হলো,সায়েন্স পড়ে? সেই তো গাড়ির শোরুমেই কাজ করতে হচ্ছে! খুব অহংকার করত পড়াশোনায় ভালো ছিল বলে। ভালো হলে ঠিক ভালো ছেলের সাথে বিয়ে হতো।বরের পয়সা থাকলে কখনোই এমন একটা শোরুমে কাজ করতে দিত না।

একটু বিরক্ত হয়েই সোহম বলল,

-যে কাজে এসেছো, আগে সে কাজ করো। তা না করে পর নিন্দা করতে শুরু করলে? এই হচ্ছে তোমার স্বভাব।

কথা গুলো বলতে বলতে সোহম এগিয়ে চলল। পিছনে বন্দনা। বেশ কয়েকটা গাড়ি দেখার পর বন্দনা বলে উঠল,

-আমি এই স্কর্পিও ব্ল্যাক কালারটাই নেবো। ব্ল্যাক আমার সব থেকে পছন্দের।

গাড়ির কালার পছন্দ হয়ে যেতেই শোরুমের কর্মী ছেলেটি বলল,

-সরি ম্যাডাম। আজ অলরেডি এটা বুকড। আপনি অন্য কালারটা দেখতে পারেন বা আপনাকে দুটো দিন ওয়েট করতে হবে।

-না না। আমি আজই নেব। আর এটাই নেব। প্লিজ আপনি ম্যানেজ করুন।

-তাহলে এক কাজ করুন। আপনি আমাদের ম্যানেজার সাহেবের সাথে কথা বলে দেখুন। কিছু করতে পারলে উনিই পারবেন।

বন্দনা আর সোহম ম্যানেজার সাহেবের রুমে যেতেই ম্যানেজার সাহেব শুনে বলেন,

-এক্সট্রিমলি সরি ম্যাডাম। ব্ল্যাকটা আমাদের ডি.এস.পি ম্যাডাম অলরেডি বুক করে ফেলেছেন।

কথাটা বলেই বন্দনার দিকে তাকিয়ে বললেন,

-এক মিনিট ম্যাডাম,আপনি তো কিছুক্ষণ আগেই ডি.এস.পি ম্যাডামের সাথেই কথা বলছিলেন না? মনে হয় উনি আপনার পরিচিত?

বন্দনা একটু অবাক হয়ে বললেন,

-আমি? তা কি করে হয়?আমি একটু আগে যার সাথে কথা বলছিলাম ও তো আপনাদের শোরুমেই কাজ করে। আসলে ও এক সময় আমার ক্লাসমেট ছিল। ওর নাম মিঠি।

-আরে কী সব বলছেন? উনি এখানকার ডি.এস.পি মিঠি বোস। আসলে গাড়িটা ম্যাডাম ওনার হ্যাজব্যাণ্ডের বার্থডে'তে গিফ্ট করবেন বলে বুক করলেন। কাল সকালেই ওনাকে দিতে হবে।

এমন কথা শুনে বন্দনা হকচকিয়ে গিয়ে সোহমের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। সোহম ও বন্দনার দিকে তাকিয়ে। মিঠি যে সত্যিই ডি.এস.পি, এ খবর টা সত্যি কিনা যাচাই করার জন্য বন্দনা আর একবার ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করে,
আমি যার সাথে কথা বলছিলাম,মানে ওই মিঠি বোস এখানকার ডি.এস.পি?

-হ্যাঁ উনিই। এত বড়ো পদে আছেন, অথচ কোনো অহংকার নেই। খুব ভালো লাগলো এটা দেখে ম্যাডাম গিফ্ট করছেন ওনার হ্যাজব্যাণ্ডকে। বেশিরভাগ সময়ে উল্টোটাই দেখি।শোরুমে অনেকেই আসেন,স্বামী স্ত্রী দুজনেই ভালো চাকরি করেন। ওয়াইফ তার হ্যাজব্যাণ্ডকে গাড়ি গিফ্ট করছে এটা খুব কম। তবে শুনেছি ম্যাডামের হ্যাজব্যাণ্ডও সেন্ট্রাল গভমেন্টের বেশ বড়ো পদে আছেন। নিজের উপার্জনের টাকায় প্রিয় মানুষকে উপহার দিতে পারার মধ্যে আলাদা একটা আনন্দ আছে। সেটা সবাই পারে না। কী বলেন আপনারা?

বন্দনা কী যে বলবে আর ভেবে পাচ্ছে না। পাশ থেকে সোহম বলল,

-এটা ঠিক বলেছেন। প্রিয় মানুষকে উপহার দেওয়ার মধ্যে আনন্দটাই আলাদা।

বন্দনার মুখ খানা তখন বিবর্ণ। ম্যানেজার সাহেব হেসে বললেন,

-ম্যাডাম তাহলে দুটো দিন ওয়েট করে যান। আমি আগামী পরশু দিন দেখছি।

বন্দনা বেরিয়ে আসে শোরুম থেকে। মুখের সেই হাসিটুকু যেন আর নেই। অহংকারের সিঁড়িটা ভেঙে একবারে মাটির সাথে মিশে যায়। প্রকৃত অহংকার তো সেটাই, যেটা তুমি নিজে না, তোমাকে নিয়ে অন্য কেউ করবে। সোহম কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল,বন্দনা থামিয়ে দিয়ে বলল,

"আমি গাড়ি নেব না। বুঝলে সোহম, ওই মেয়েটাকে আমি কত অপমান করেছি, বাজে কথা বলেছি, ইভেন আজও আভিজাত্যের অহংকারে ওকে ছোটো করে গেলাম। ও সেই একই রয়ে গেল। নিজে অতো বড়ো একটা চাকরি করেও সে কথাটাও মুখ ফুটে বলল না একবার। ওকে ছোটো করতে গিয়ে নিজে অনেক ছোটো হয়ে গেছি। মিঠি বুঝিয়ে দিয়ে গেছে, কথা না বলেও, চুপ করে থেকেও, অন্যকে চুপ করিয়ে দেওয়া যায়। আমি ভীষণ লজ্জিত। আমি মিঠির কাছে হেরে গেলাম। তবে অনেক বড়ো শিক্ষা পেলাম আজ। আমিও চাকরি করব, কম বেতন হলেও চলবে। আর সেদিনই তোমার থেকে কোনো উপহার নেব, যেদিন নিজের রোজগারের টাকায় তোমাকে আমি কিছু দিতে পারব।"

পচা দা ঘুমের মধ্যেই নাকে একটা বোঁটকা গন্ধ পেলো। লঞ্চটা অল্প অল্প দুলছে, ঘুমটা দারুণ হচ্ছলো। কিন্তু হঠাৎ গন্ধ কোত্থেকে এল...
07/01/2025

পচা দা ঘুমের মধ্যেই নাকে একটা বোঁটকা গন্ধ পেলো। লঞ্চটা অল্প অল্প দুলছে, ঘুমটা দারুণ হচ্ছলো। কিন্তু হঠাৎ গন্ধ কোত্থেকে এলো? পচা দা'র চোখ খুলে মনে হলো সামনের বেডে কেউ একটা শুয়ে। চশমাটা চোখে দিয়েই আঁতকে উঠলো পচা দা, একটা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার তার মুখের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। পচা দা'র দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো, গুড মর্নিং।

পচা দা কি ঘটছে বুঝতে না পেরে বললো, গুড মর্নিং।

বাঘটা বললো, ঘুম কেমন হলো?

পচা দা বললো, ভালো।

- সুন্দরবন এই প্রথম?

- হ্যাঁ

- হিসি-হাগু কিছু করার আছে?

- কেন?

- না, তাহলে আমি খাবো।

- কি?

- কি না, কাকে? আপনাকে?

- মানে?

- হুম্... এটাই তো চুক্তি হয়েছে।

- কার সংগে?

- বন বিভাগের সংগে।

- কি চুক্তি?

- মাসে দশটা করে টুরিস্ট আমাদের প্রাপ্য। তবে তার বদলে আমরা আপনাদের এন্টারটেন করবো।

- কিভাবে?

- আপনারা যখন লঞ্চের জানালা দিয়ে উঁকি দেবেন আমরা সপরিবারে পাড়ে এসে দাঁড়াবো। বাচ্চারা ডিগবাজি খাবে। আমার বউ সামনের দুটো পা তুলে আমার গালে একটা চুমু খাবে।

- এতে কি হবে?

- আরো বেশি টুরিস্ট আসবে। বন বিভাগের লাভ হবে।

- বেশ। কিন্তু আমাদের প্যাকেজে তো এটা ছিল না! মানে আমায় লঞ্চের মধ্যেই বাঘে খাবে।

- ছিলো না? ভালো করে পড়েন নি।

- মানে?

- নীচে ছোট্টো করে 'শর্তাবলী প্রযোজ্য' লেখা ছিল।

- কি লেখা ছিল?

- একজন কাউকে বাঘ পছন্দ করে নেবে। কাকে পছন্দ করবে সেটা বাঘের উপর নির্ভর করবে।

- আপনি আমাকেই বাছলেন?

- বাছলাম।

- বেশ। তা লঞ্চের বাকিরা কোথায়?

- আমার পরিবারের সংগে জঙ্গলে বেড়াচ্ছে।

- মানে? কেউ যদি খেয়ে নেয়?

- কেউ খাবে না। আমরা চুক্তি ভঙ্গ করি না।

- বেশ। আপনি কি এখনই খাবেন?

-না, আমার হাতে কিছুটা সময় আছে। সময় নিতে পারেন। আমাদের হাতে দেড় ঘন্টা আছে। ছাদে যাবেন?

- ছাদে কেন?

- এই শীতের আমেজে বেশ রোদে বসে আপনাকে টুকটুক করে খাবো। মজা লাগবে।

- মজা লাগবে? এতো নিষ্ঠুর আপনি?

- পাঁঠা, মুরগীগুলোও একই কথা বলে।

- বুঝেছি।

- পায়খানা করবেন?

- না।

- তবে ছাদে চলুন।

- চলুন।

- আমি ঘাড় ধরে নিয়ে যাবো?

- কেন?

- না, তবে বেশ একটা শিকার ধরে নিয়ে যাচ্ছি ফিলিংস আসবে।

- আমার ভয় লাগছে।

- কিচ্ছু ভয় নেই। এমন ধারালো দাঁত আমার, তাছাড়া মানুষের মাংস ছাড়ানো আমাদের কাছে একটা শিল্প।

- মানে?

- মানে আপনি বুঝতেই পারবেন না আপনাকে কখন খেয়ে ফেললাম। আমার ঢেকুর শুনে বুঝবেন।

- মানে! আমি তো তখন মরেই যাবো।

- সে তো শরীরটা। গীতাটা পড়িসনি রে পাগলা? ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে।

- বাবা, আবার গীতাও জানেন!

- জানি। কোরাণ, বাইবেল, জেন্দাবেস্তা সব জানি।

- আচ্ছা।

- তবে ঘেঁটিটা ধরি?

- ধরুন।

বাঘটা এগিয়ে আসছে। পচা দা'র সিটটা ভিজে যাচ্ছে। বুঝতে পারছে। কিন্তু থামাবে কে?

হঠাৎ বাঘের মুখটা বউ-এর মতো হয়ে যাচ্ছে। গলার আওয়াজটাও।

"এই শোনো, তুমি তাড়াতাড়ি উঠে টয়লেটে যাও... আবার বিছানায়... একে নিয়ে আমি যে কি করি…."😇😇😇

পুরুষ আটকায় শেষ বয়সে। যখন তার আর গতি থাকে না। ছেলে মেয়েরা বড় হয়ে যার যার জীবন গড়ে নেয়। পুরুষ শেষ বয়সে বউয়ের নাম...
19/07/2024

পুরুষ আটকায় শেষ বয়সে। যখন তার আর গতি থাকে না। ছেলে মেয়েরা বড় হয়ে যার যার জীবন গড়ে নেয়। পুরুষ শেষ বয়সে বউয়ের নামে তখন একটা বাড়ি করে, কিংবা একটা ফ্ল্যাট কিনে।

পোস্ট অফিসের লাখ পঞ্চাশ টাকা তখন বউয়ের নামেই থাকে। ব্যাংক ব্যালেন্স, পেনশনের টাকা তখন আর নমিনি নয়, একদম বউয়ের নামেই জমা রাখে।

অথচ যৌবনে এতে ছিলো বড্ড ভয়। বউ যদি তার টাকা নিয়ে অন্য কারো সঙ্গে চলে যায়! তাই বৃদ্ধকালে পুরুষ আটকায় বউয়ের আঁচলে। যখন তার বাবা মা পৃথিবীতে থাকে না।

বাবা মা জীবিত থাকলে কোন পুরুষই স্ত্রীর মান সম্মানের প্রতি সচেতন থাকে না। তখন তারা চিন্তা করে বৌ কে বেশি ভালোবাসলে সমাজ যদি তাকে নিন্দা করে।পুরুষ আটকায় যখন স্ত্রী ছাড়া তার আর কোন অপশন নেই।

যৌবন থাকতে বউকে বলে আমার কোন কিছুই তোমার নয়। আর বৃদ্ধ বয়সে বলে, আমার সব সম্পদ তোমার। বোকা পুরুষ এটা বুঝে না, যৌবনে যার সাথে গভীর প্রণয় হলো না, বৃদ্ধ বয়সে তাকে আটকিয়ে কি লাভ! বৃদ্ধ পুরুষটির সাথে তার স্ত্রীরও তখন এক পা কবরে।‌

এতো সম্পদ দিয়ে স্ত্রী তখন কি করবে, যার যৌবণে একটা শখ পূরণ করতে সারারাত কাঁ'দতে হয়েছে।

তাই সময় থাকতে নিজের বৌকে ভালোবাসুন!!🥀

Mousumi Ghosh

" এই যে, শুনছো।ছেলেটা, তোমার মা' র বাংলা কথাবার্তা  শুনে শুনে একেবারে বাংলা মিডিয়াম ছেলেদের মত হয়ে যাচ্ছে।মুখে শুধু বা...
03/07/2024

" এই যে, শুনছো।ছেলেটা, তোমার মা' র বাংলা কথাবার্তা শুনে শুনে একেবারে বাংলা মিডিয়াম ছেলেদের মত হয়ে যাচ্ছে।মুখে শুধু বাংলা কথা, আর বাংলা কথা।এই দেখো না, আমি যতবার বলছি,এটা MANGO, ছেলে ততবার বলছে এটা আম।"
স্ত্রী অর্নার কথা শুনে স্বামী বিজয় বললেন,-"এভাবে তো ছেলে কখনো শিখবে না।
তোমাকে বলতে হোত, -' অনি, এটা আম-আর আমকে ইংরেজিতে বলে MANGO।"
ব্যবহারিক স্বরটি বিদ্যুৎ বেগে পাল্টিয়ে, অর্না বলল, - "হয়েছে, হয়েছে, অ..নে..ক... হ..য়ে..ছে...। নতুন করে আর আমাকে শিখাতে হবে না। কীভাবে বলতে হয়- আমার সেটা জানা আছে।আমার হয়েছে জ্বালা! বরঞ্চ আমরা এই বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও ভাড়া চলে গেলেই ভালো।ছেলেটাকে তো মানুষ করতে হবে।এই বাড়িতে থাকলে,তোমার মা'র এইরকম বস্তির কথাবার্তায় একসময় ছেলেটা নষ্ট হয়ে যাবে।"
অফিস থেকে ফিরে সোফায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন বিজয়। মা'র বিষয়ে,অর্না'র কাছ থেকে এই ধরনের কথাগুলো শুনতে শুনতে ব্যতিক্রমী ভঙ্গিতে একটা সময় গর্জে উঠলেন - "এই তোমার চিন্তা ভাবনা!মা'র আদবকায়দায় আমার ছেলে খারাপ হবে! - এটা তুমি, ঠিক বললে না ,অর্না। চিন্তাভাবনা করে কথা বলছো তো? তুমি এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে - তোমার 'Maternity leave' শেষের পর থেকেই তো, মা-ই অনি কে এতটা বড় করেছে। একটু বড় হতে, না হতেই বলছো,ওই মা-ই আমার ছেলেকে নষ্ট করে ফেলছে।"
অনি তাদের একমাত্র ছেলে।বয়স চা'রে পড়লো।সবে স্কুলে ভর্তি হয়েছে।
বিজয় বললেন,-" আমার মা, দীর্ঘবছর ধরে হাজার হাজার ছেলেমেয়েকে সুশিক্ষায় মানুষ করেছেন ।তারা অনেকেই এখন প্রতিষ্ঠিত।"
স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন, বিজয় এর মা। গত চার বছর হয়েছে অবসর নিয়েছেন ।এখন নাতিকে নিয়েই অবসর সময় কাটে তার।
অর্না বলল,-" হ্যাঁ, আমি জানতাম, আমার কথা শোনার পর তুমি ওরকম একটা React করবে। সাধে, তুমি আমার কথা শুনবে।"
বিজয় একটু উঁচু স্বরে বললেন,-"শুনবো, অবশ্যই শুনবো, যদি সেটা যুক্তিযুক্ত হয়। যদি সেটা Scientific হয়।"-
এমন সময় অর্নার ফোনটি বেজে ওঠল।
মা'র ফোন-"কী রে , ফোন করেছিলি বলে?"
"হ্যাঁ, বৌমনি ধরেছিল। তুমি বাড়ি ছিলে না।"
"আরে, ওই শ্যামল এর বাড়িতে গেছিলাম। কয়েকদিন আগেই শুনেছি , শ্যামল এর মা কল-পারে পড়ে গিয়ে কোমরে ব্যথা পেয়েছে। তাই আজকে দেখতে গেছিলাম। চিনতে পারলি তো, শ্যামল কে। তোরই স্কুল জীবনের বন্ধু ।
কল-পারে, পড়ে যাওয়া ছাড়া,এতদিন আমি আর কিছুই শুনি নাই। আজকে গিয়ে যা শুনলাম, তাতে আমি অবাক হয়ে গেছি।
শ্যামল, তার বৃদ্ধা মাকে বাড়িতে একলা ফেলে, ছেলে-বউ নিয়ে অন্য কোথাও ভাড়া থাকে। এই বয়সে শ্যামল এর মা এত বড় বাড়িতে একা। কী রান্না করে, কী খায়- তা আমি কিছুক্ষণের কথাতেই বুঝেছি।
খুব দুঃখ করে আমাকে বলল,-'ছেলেটাকে কত কষ্ট করে মানুষ করেছি। ওর বাবা চলে যাওয়ার পর আমাদের খাওয়া-দাওয়ার খুবই কষ্ট হয়েছিল। আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করে ছেলেকে খাইয়েছি। পড়াশোনা শিখিয়েছি- বয়সকালে একটু সুখ পাব বলে। ছেলে চাকরি পেল। বিয়ে দিলাম। একটা সন্তানও হল তাদের। এখন নাতিকে নিয়ে নানা গল্প করে, কষ্টকে ভুলে গিয়ে- আনন্দে থাকার কথা ছিল। কিন্তু, সেটা আর হলো কই!! '
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে,বলতে বলতে কেঁদে ফেলল। সেখানে তাকে সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া আর আমার কিছুই ছিল না।"
এতক্ষণ ধরে একটি কথাও বলেনি, অর্না।
মা'র ফোনের কথাগুলো অর্নার অন্তস্থলকে জাগিয়ে তুলছিল। তার চিন্তা-ভাবনায় পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে- ধীরে ধীরে।
"শ্যামল তো ওরকম ছেলে নয়, যে- মাকে ছেড়ে চলে যাবে?"- অর্না'র কথা টেনে মা বলল,-"আমারও তো সেই প্রশ্ন।ছেলেটা তো ভালো। কিন্তু বিয়ের পর নাকি বউয়ের কথায় উঠতো, আর বউয়ের কথায় বসতো। নিজস্ব চিন্তাশক্তি বলতে কিছু ছিল না, সব হারিয়ে ফেলেছিল সে। যাওয়ার সময় নাকি বলেছে , ছেলের পড়াশোনা এখানে হচ্ছে না, তাই শহরে ভাড়া বাড়িতে যাচ্ছে। আসলে বউ শাশুড়িকে নিয়ে সংসার করবে না।তাই ছেলের পড়াশুনার অজুহাত দেখিয়ে, শহরে বাড়ি ভাড়া করে থাকার ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করেছে।
আমরা শাশুড়িকে নিয়ে সংসার করিনি। তুই তো তোর ঠাকুমা'র কাছেই মানুষ। আমি তো সেই সকাল হলেই নাকে - মুখে একটু খেয়ে চলে যেতাম অফিস। কোন কোনদিন ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যেত। ততক্ষণ তোর ঠাকুমা সংসারের সব কাজের সাথে সাথে তোকে খাওয়ানো, ঘুমানো এমনকি বই পড়ানো সবই করাত।
বাড়িতে এক বয়স্কা মহিলার যে কত ভূমিকা থাকে, তা আমি ভালোভাবেই বুঝেছিলাম।"

"বৌমা, ও বৌমা" ডাকে শাশুড়িকে এগিয়ে আসতে দেখে অর্না,তার মাকে ফোনটা রাখতে বললো।
নরম সুরে শাশুড়িকে বলল,- "বলো...।"
"বৌমা, আজকে তোমার মাসি শাশুড়ির বাড়িতে তার মেয়ের আইবুড়ো ভাত। সবাইকে যেতে বলেছে।"
"কিন্তু মা, অনির যে আজ শরীরটা ভালো নেই। গা- টা গরম গরম ভাব। কীভাবে যাব?"
"কীভাবে যাব মানে?"আমি কিসের জন্য আছি। অনিকে আমার কাছে রেখে, তোমরা দু'জনে চলে যাও। আমি অনিকে দেখব, আমি তাকে খাবার তৈরি করে দেবো।"
অর্নার ভিতরের ব্যতিক্রমী ভাবনাগুলো যেন আস্তে আস্তে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছিল। আর সেই ভাঙা অংশের পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল, শুভ্র-শীতল স্বচ্ছ ভাবধারা।
"মা, অনির এই ওষুধটা তুমি কাছে রাখো, যদি গা-টা বেশি গরম মনে হয়, তাহলে দুই চামচ খাইয়ে দিও।আমরা দেরি করবো না, তাড়াতাড়ি ব্যাক করব।"

নেমন্তন্ন বাড়ি যেতে যেতে , বিজয় কে বলল অর্না,-"আজকের কথাগুলোতে তুমি রাগ করো না। যা বলেছি, সেটা ভুলে যাও।"
"কোন রহস্যের প্রতিফলন-এটা।আমাকে বলতেই হবে। আজকেই বলবে তো?"
"না, বলবো না....রহস্যটা থাক, রহস্য হয়েই।তুমি সোজা গাড়ি চালাও।" আদুরে গলায় শব্দগুলো বলতে বলতে অর্না , তার ডান হাতটা বিজয় এর ঘাড়ে রাখল। একটা 'শান্তি'র আভাস পাচ্ছেন বিজয়।
মোটরসাইকেলটি এবড়ো-খেবড়ো, উঁচু-নিচু রাস্তা দিয়ে মধ্যগতিতে এগিয়ে চলল......।

শ্বাশুড়ি মা
মৌসুমি ঘোষ

Address

Chanditala
712702

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mousumi Creation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share