06/07/2024
গোলাপ সম্পর্কে কিছু কথা:-সৌন্দর্য ও লাবণ্যের প্রতীক গোলাপ। এটি শীতকালীন মৌসুমী ফুল। তবে বর্তমানে গোলাপ সারা বছর ধরেই চাষ হচ্ছে। বর্ণ, গন্ধ, কমণীয়তা ও সৌন্দর্যের বিচারে গোলাপকে ‘ফুলের রানী’ বলা হয়। পুষ্পপ্রেমীদের সবচেয়ে প্রিয় ফুল গোলাপ। বিভিন্ন জলবায়ুতে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারে বলে পৃথিবীর সব দেশেই কম-বেশি গোলাপের চাষ হয়। গোলাপ সাধারণত কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে বহুলভাবে ব্যবহৃত ফুল। এছাড়াও সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে, বাগান,বারান্দা সাজাতে গোলাপের জুড়ি নেই। আতর ও সুগন্ধি শিল্পেও গোলাপের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
***জাত নির্বাচন:-পৃথিবীতে অনেক জাতের গোলাপ আছে। এর মধ্যে আমাদের দেশে চাষ হয় এমন কতকগুলো জাত হলো মিরান্ডি, পাপা মেলান্ড, ডাবল ডিলাইট, তাজমহল, প্যারাডাইস, ব্লু-মুন, মন্টেজুমা, টাটা সেন্টার, সিটি অব বেলফাস্ট ইত্যাদি
*** লাগানোর সময় : গোলাপ শীত ও নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের ফুল। অধিক উষ্ণ ও আর্দ্রতায় গোলাপ ভালো হয় না। ২২-৩০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা, ৮৫ শতাংশ আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং ১০০-১২৫ সেমি গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত গোলাপ চাষের জন্য উপযোগী। গোলাপ চাষের জন্য ঊর্বর দোঁ-আশ মাটি উত্তম। ফুলের গুণগতমান সূর্যালোকের উপস্থিতির ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। এক্ষেত্রে বিকাল অপেক্ষা সকালের রোদ বেশি কার্যকর। বাংলাদেশে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত গোলাপের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়।
**** যেভাবে চারা হয় : গোলাপ সাধারণত বীজ, কাটিং, গুটি কলম এবং চোখ কলমের মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করে। বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার শুধুমাত্র প্রজনন বা ফসল উন্নয়ন কর্মসূচীতে ব্যবহৃত হয়। নতুন গাছ উৎপন্নের প্রধান পদ্ধতি বাডিং বা চোখ কলম। এই পদ্ধতিতে যে জাতের বংশবৃদ্ধি করা হয় তার চোখ অপর একটি সুবিধামত আদিজোড়ের উপর স্থাপন করা হয়। আদিজোড় গাছের সজীবতা, উৎপাদনশীলতা, ফুলের গুণাবলী, ঝোপের স্থায়ীত্ব, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মাটি ও আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আদিজোড়ের কাটিং সমূহ (পেন্সিল আকৃতি) গ্রীষ্মের শেষে তৈরি করা হয়ে থাকে এবং নার্সারীতে সারি করে ২৫ -৩০ সেমি দুরত্বে রোপণ করা হয়। প্রায় ৬ মাস পর এই কাটিংগুলো বাডিংয়ের জন্য উপযুক্ত আকৃতির কাণ্ড তৈরি করে।
*** মাটি তৈরি : এঁটেল মাটি গোলাপ চাষের জন্য ভালো না। টবের জন্য সার মাটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে মাটি বেশ ফাঁপা থাকে, জল না জমে। ১ ভাগ দো-আঁশ মাটি, ৩ ভাগ গোবর সার বা কম্পোষ্ট, ১ ভাগ পাতা পচা সার, আধ ভাগ বালি (নদীর সাদা বালি হলে ভালো) দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে তাতে এক মুঠো সরিষার খৈল ও এক চামচ চুন মিশিয়ে ১টি ৮ ইঞ্চি টবে একমাস রেখে দিতে হবে। এই একমাস টবে জল দিয়ে মাটি উল্টে পাল্টে দিতে হয়। এতে মাটির মিশ্রণ ভালো হবে। মাটির মিশ্রণে ব্যবহৃত চা পাতা ব্যবহার করেও ভালো ফল পাওয়া যায়। টবে নিচের কয়েক সেমি পরিমাণ অংশে ইট বা মাটির হাড়ি পাতিলের ভাংগা টুকরা এমনভাবে বিছিয়ে দিতে হয় যাতে টবের মাটি এগুলোর উপর থাকে। এতে বাড়তি জল নিষ্কাশনে সুবিধা হবে।
(কাল বাকীটা আলোচনা করবো)