24/02/2026
স্টোরি -৪
আজকের গল্পটা একটু আলাদা।
এই গল্পে ক্লায়েন্ট একজন আপু —কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, তিনি ছিলেন একজন খুবই কেয়ারিং এবং পারফেকশন পছন্দ করা মানুষ।
একদিন দুপুরে হঠাৎ একটি মেসেজ—
“ভাইয়া, আপনারা কি হলুদের এবং বিয়ের ডেকোরেশন করেন?”
রিপ্লাই দিলাম,
“জি আপু, কোন প্লান আছে কি বা কোন পছন্দ? ।”
তারপর শুরু হলো লম্বা চ্যাট…
কালার কী হবে, ফুল কেমন হবে, সোফা কেমন, লাইটিং সফট না ব্রাইট—
প্রতিটা ব্যাপারে তার ডিটেইল প্রশ্ন।
বুঝলাম—
এই ইভেন্টটা তার কাছে শুধু একটা ফাংশন না, এটা তার জীবনের স্পেশাল মুহূর্ত।
কয়েকদিন কথা হলো।
তারপর হঠাৎ উনি একটু চুপচাপ।
আমি নিজে থেকে নক করলাম—
“আপু, কোনো সমস্যা?”
তিনি একটু ইতস্তত করে বললেন,
“ভাইয়া, আসলে আমি আরেক জায়গায়ও কথা বলতেছি… বাজেট আর কোয়ালিটি নিয়ে কনফিউজড।”
আমি শুধু একটা কথাই বলেছিলাম—
“আপু, আপনি যেখানে কমফোর্ট ফিল করেন, সেখানেই করবেন। আপনার ইভেন্ট সুন্দর হওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি।”
সত্যি বলতে, মেসেজটা পাঠানোর পর মনে হচ্ছিল—
হয়তো কাজটা আর হবে না।
দুই দিন পর রাতে হঠাৎ কল।
“ভাইয়া, আপনি কি ফ্রি আছেন?”
আমি বললাম,
“জি আপু।”
তিনি ধীরে ধীরে বললেন—
“ইভেন্টটা আপনাদেরই দিচ্ছি।”
আমি একটু অবাক—
“হঠাৎ সিদ্ধান্ত?”
তার উত্তরটা এখনো মনে আছে…
“ভাইয়া, অনেকের সাথে কথা বলছি। সবাই নিজের কাজের প্রশংসা করছে। কিন্তু আপনি প্রথম মানুষ, যিনি আমাকে ফোর্স করেন নাই। উল্টা বলছেন যেখানে ভালো লাগে সেখানে করতে। তখনই বুঝছি—আপনারা কাজটা মন থেকে করেন।”
সেদিন বুঝেছিলাম—
কাজ পাওয়ার আগে মানুষ জিতে নিতে হয়।
ইভেন্টের দিন আমরা আমাদের সেরাটা দিয়েছিলাম।
স্টেজে যখন আপু বসেছিল, তার চোখের হাসিটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় পেমেন্ট।
ইভেন্ট শেষে উনি এসে শুধু বললেন—
“ভাইয়া… একদম আমার মনের মতো হয়েছে।”
এই একটা লাইন—
সব পরিশ্রম স্বার্থক করে দিয়েছিল।
আজকের গল্পের আপু ছিলেন গোবিন্দগঞ্জ এর মিথিলা আপু।