NAGA BAZAR

NAGA BAZAR Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from NAGA BAZAR, Naga Bazar, Kinurmore, Katila, Bagmara, Rajshahi.

NAGA BAZAR একটি বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ব্যবসার প্রতিষ্ঠান।
নাগা বাজার (Naga Bazar) একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়নের কাতিলা গ্রামে কিনুরমোড়ে অবস্থিত।নাগা বাজারটি স্থানীয় জনগণের জন্য নির্ভরযোগ্য বাজার।

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডল : পরিচিতি পর্ব–১৪২১/০৩/২০২৬। ঈদের দিন শেষ হয়ে গেছে। চারদিকে এক ধরনের নীর...
13/05/2026

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডল : পরিচিতি পর্ব–১৪
২১/০৩/২০২৬। ঈদের দিন শেষ হয়ে গেছে। চারদিকে এক ধরনের নীরবতা নেমে এসেছে। দিনের কোলাহল ধীরে ধীরে মিলিয়ে গিয়ে রাতের অন্ধকার যেন পুরো বাড়িটিকে ঘিরে ফেলেছে। অথচ সেই রাতটি ছিল নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাতগুলোর একটি।
তিনি তখন শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ। দীর্ঘদিন ধরে হাঁপানি রোগে ভুগছিলেন। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল খুব বেশি। প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন তাঁর শরীরের উপর এক বিশাল চাপ হয়ে উঠেছিল। তিনি বিছানায় শুয়ে ছিলেন নিঃশব্দে। কিন্তু তাঁর বুকের ভেতরের শ্বাসের শব্দ সবাইকে বুঝিয়ে দিচ্ছিল, তিনি কতটা কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
তাঁর বড় ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম সেই সময় বাবার পাশেই ছিলেন। একজন সন্তানের দায়িত্ব, ভালোবাসা ও সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত তিনি বাবার পাশে থেকে সেবা করে গেছেন। সেই রাতেও তিনি এক মুহূর্তের জন্য বাবাকে একা ছেড়ে যাননি।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাহের আলী মন্ডলের শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়। রাত প্রায় ২টার দিকে মোঃ আব্দুল আলিম বুঝতে পারেন, তাঁর বাবার শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তিনি বাবার সঙ্গে কথা বলছিলেন বারবার। গাহের আলী মন্ডলও কিছু কথা বলছিলেন। কিছু কথা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, আবার কিছু কথা অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছিল দুর্বলতার কারণে।
হঠাৎ তিনি চা খেতে চান। কিন্তু খালি পেটে চা খাওয়া ঠিক হবে না ভেবে তাঁর ছেলে তাঁকে বিস্কুট দেন। কিন্তু গাহের আলী মন্ডল সেই বিস্কুট ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারেননি। সামান্য একটু কামড় দিয়ে আবার ফেলে দেন। তাঁর শরীর তখন এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে, স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছিল।
মোঃ আব্দুল আলীম সারা রাত বাবার পাশে জেগে ছিলেন। তিনি বাবাকে চা দেননি, কারণ চা খেলে ঘুমের সমস্যা আরও বাড়তে পারত। অথচ সেই রাতেই গাহের আলী মন্ডল এক মুহূর্তের জন্যও ঘুমাতে পারেননি। তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ জাগ্রত, উদ্বিগ্ন এবং ভীষণ দুর্বল।
রাতের গভীর নীরবতার মধ্যে তিনি বারবার কিছু মানুষের নাম ডাকছিলেন— মোস্তফা, ময়না, সামেনা, সুরজান এবং লতা। এরা সবাই কোনো না কোনো সময় তাঁর সেবায় জড়িত ছিলেন। অসুস্থতার সেই কঠিন মুহূর্তে হয়তো তাঁদের উপস্থিতি তিনি অনুভব করতে চেয়েছিলেন।
২২/০৩/২০২৬ তারিখের সেই রাতটি ছিল তাঁর জন্য এক ভয়ংকর মানসিক ও শারীরিক পরীক্ষার রাত। হয়তো তিনি বুঝতে পারছিলেন, তাঁর জীবনের সময় খুব বেশি বাকি নেই। মৃত্যুভয় ধীরে ধীরে তাঁকে আরও দুর্বল করে তুলছিল। কিন্তু এই ভয় ও কষ্টের মাঝেও তিনি তাঁর সন্তানদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা রেখে যেতে চেয়েছিলেন।
তিনি তাঁর ছেলেদের বলেছিলেন,
“কখনো বিশৃঙ্খলায় জড়াবে না। নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হবে না। ঐক্যই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি। তোমরা যদি এক না থাকো, মানুষ সবসময় তোমাদের ঠকাবে।”
এই কথাগুলো ছিল একজন অভিজ্ঞ মানুষের জীবনের সারাংশ। তিনি নিজের জীবনে বহু মানুষ দেখেছেন, বহু প্রতারণা সহ্য করেছেন, বহু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। তাই জীবনের শেষ সময়ে তিনি তাঁর সন্তানদের জন্য রেখে গেলেন ঐক্যের শিক্ষা।
মরহুম গাহের আলী মন্ডল শুধু একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। ১৯৯০-এর দশক থেকে তিনি নাগা বাজার প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। সীমিত সামর্থ্য, কষ্ট এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়েও তিনি হাল ছাড়েননি। অবশেষে ০৫/০১/২০২৪ তারিখে নাগা বাজার উদ্বোধনের মাধ্যমে তাঁর বহু বছরের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়।
তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তাঁর সরলতা। তিনি কখনো অহংকার করেননি। মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশতেন। এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন তাঁর সততা, পরিশ্রম ও মানবিকতার জন্য।
২৪/০৩/২০২৬, বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তিনি এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্য এক গভীর শোকের মুহূর্ত ছিল। নাগা বাজারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
আজও তাঁর দুই ছেলে তাঁর উপদেশগুলো ধরে রাখার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁদের বাবার শিক্ষা ও আদর্শই তাঁদের ভবিষ্যতের পথ দেখাবে।
মরহুম গাহের আলী মন্ডল হয়তো আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন, তাঁর পরিশ্রম এবং তাঁর ঐক্যের বাণী নাগা বাজারের ইতিহাসে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
সৌজন্যে,
নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।




নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডল : পরিচিতি পর্ব–১৩ঈদের সেই নিস্তব্ধ বিকেল ও এক স্বপ্নবাজ মানুষের শেষ সময়:...
12/05/2026

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডল : পরিচিতি পর্ব–১৩
ঈদের সেই নিস্তব্ধ বিকেল ও এক স্বপ্নবাজ মানুষের শেষ সময়:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কাতিলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী নাগা বাজার শুধু একটি বাজারের নাম নয়, এটি একটি সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস। এই ইতিহাসের কেন্দ্রে ছিলেন মরহুম গাহের আলী মন্ডল—একজন সাধারণ মানুষ, যিনি অসাধারণ ধৈর্য ও পরিশ্রম দিয়ে একটি জনপদের বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন। “পরিচিতি পর্ব–১৩”-এ উঠে আসে তাঁর জীবনের শেষ ঈদের দিনটির হৃদয়স্পর্শী স্মৃতি।
ঈদের সকালটি ছিল কিছুটা নীরব ও ভারাক্রান্ত। চারদিকে ঈদের আনন্দ থাকলেও গাহের আলী মন্ডলের পরিবারের ভেতরে ছিল এক ধরনের অজানা শঙ্কা। তিনি তখন শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছিলেন এবং ধীরে ধীরে তাঁর শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তবুও পরিবারের সদস্যরা আশা হারাননি। কারণ এর আগেও অন্তত তিনবার তিনি গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিলেন। তাই সবাই মনে মনে বিশ্বাস করছিলেন—এবারও হয়তো তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
ঈদের নামাজ শেষে তাঁর দুই ছেলে, মোঃ আব্দুল আলীম ও মোঃ গোলাম মোস্তফা, দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন। ঈদের আনন্দের চেয়ে তখন তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাবার পাশে থাকা। তারা দুজনই বাবার খুব কাছে বসে ছিলেন। গাহের আলী মন্ডল বিছানায় শুয়ে ছিলেন সম্পূর্ণ নীরব হয়ে। তাঁর চোখে ছিল গভীর ক্লান্তি, কিন্তু পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি যেন তাঁকে কিছুটা শান্তি দিচ্ছিল।
বাড়ির চারদিকে ঈদের নানা আয়োজন ছিল। রান্নাঘরে তৈরি হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের খাবার। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের আপ্যায়নের জন্য ছিল পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। কিন্তু পরিবারের সবচেয়ে বড় কষ্ট ছিল—এত খাবার থাকলেও গাহের আলী মন্ডলকে কিছুই ঠিকমতো খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। যিনি একসময় অতিথিদের আপ্যায়নে আনন্দ পেতেন, যিনি বাজারের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতেন, সেই মানুষটি তখন নিজের খাবার গ্রহণ করতেও অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন।
ঈদের দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতে শুরু করলে পরিবারের ছোট মেয়েটি তার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবাকে দেখতে চলে আসেন। বাবার অসুস্থতার খবর শুনে তাঁর মন অস্থির হয়ে উঠেছিল। বাড়িতে এসে বাবাকে নিস্তব্ধ অবস্থায় দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। অন্যদিকে বড় মেয়ে প্রায় প্রতিদিনই বাবার কাছে আসতেন, কারণ তাঁর বিয়ে হয়েছিল পাশের গ্রাম গোপীনাথপুরে। বাবার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ ছিল অত্যন্ত গভীর।
সেদিন পুরো বাড়ির প্রতিটি আয়োজন যেন একজন মানুষকে কেন্দ্র করেই ছিল—নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডলকে ঘিরে। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, বাজারের ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ দলে দলে তাঁকে দেখতে আসছিলেন। কেউ তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করছিলেন, কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। সকলের চোখে ছিল দুঃখ ও অনিশ্চয়তার ছাপ। কারণ তারা জানতেন, এই মানুষটি শুধু একটি পরিবারের অভিভাবক নন, তিনি ছিলেন পুরো নাগা বাজার এলাকার একটি প্রেরণার নাম।
গাহের আলী মন্ডল ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দূরদর্শী একজন মানুষ। বহু বছর আগে যখন এলাকায় একটি স্থায়ী বাজারের প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছিল, তখন তিনিই উদ্যোগ নিয়ে নাগা বাজার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। নানা বাধা, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েও তিনি থেমে যাননি। ধীরে ধীরে তাঁর প্রচেষ্টা বাস্তবে রূপ নেয়। আজকের নাগা বাজার সেই স্বপ্ন ও পরিশ্রমেরই ফল।
তাঁর জীবনের শেষ সময়েও পরিবারের সদস্যরা তাঁর স্বপ্ন ভুলে যাননি। বিশেষ করে তাঁর দুই ছেলে, মোঃ আব্দুল আলীম ও মোঃ গোলাম মোস্তফা, বাবার আদর্শ ও স্বপ্নকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে নাগা বাজারের উন্নয়নে কাজ করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেন। তারা বুঝতে পেরেছিলেন, একজন মানুষ চলে গেলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শ বেঁচে থাকতে পারে পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে।
২৪ মার্চ ২০২৬, বিকেল ৩টা ২০ মিনিট। সময়টি ছিল নাগা বাজারের ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক মুহূর্ত। এই সময়েই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গাহের আলী মন্ডল। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের দোকানপাটে নেমে আসে শোকের ছায়া। মানুষ বুঝতে পারে, তারা শুধু একজন মানুষকে হারায়নি—হারিয়েছে একজন অভিভাবক, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা এবং একজন সংগ্রামী ব্যক্তিত্বকে।
তাঁর মৃত্যু নাগা বাজার সম্প্রদায়ের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকবে। কারণ এমন মানুষ বারবার জন্ম নেয় না। তিনি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে এলাকার উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য।
তবে তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর স্বপ্ন থেমে থাকবে না। তাঁর সন্তানরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, নাগা বাজারকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে তারা বাবার স্বপ্ন পূরণ করবেন। গাহের আলী মন্ডলের অনুপস্থিতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়, কিন্তু তাঁর আদর্শ, পরিশ্রম এবং স্বপ্ন নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে।
আজও যখন মানুষ নাগা বাজার -এ আসে, তখন অনেকেই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মরহুম গাহের আলী মন্ডলকে। কারণ তিনি প্রমাণ করে গেছেন—একজন মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও সততা একটি পুরো জনপদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তাঁর স্মৃতি, তাঁর অবদান এবং তাঁর স্বপ্ন নাগা বাজারের ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।

সৌজন্যে,
নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।




নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডল: জীবনসংগ্রামের শেষ অধ্যায় (Introduction Part 10)মানুষের জীবনের শেষ সময়গুলো কখ...
08/05/2026

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডল: জীবনসংগ্রামের শেষ অধ্যায় (Introduction Part 10)
মানুষের জীবনের শেষ সময়গুলো কখনো কখনো তার পুরো জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনও তার ব্যতিক্রম ছিল না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি হয়ে উঠেছিলেন শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও অসুস্থ একজন মানুষ, কিন্তু মানসিকভাবে তিনি ছিলেন অবিচল, স্বপ্নে পরিপূর্ণ এবং আপনজনদের প্রতি গভীর মমতায় ভরা।
২০২৬ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ১৭ মার্চ তিনি সম্পূর্ণরূপে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। পরদিন ১৮ মার্চ থেকে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং তিনি মুখে কোনো খাবার গ্রহণ করতে পারছিলেন না। প্রতিটি দিন যেন তাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছিল। তার বড় ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম, যিনি একজন ফার্মাসিস্ট, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিলেন বাবার যত্ন নেওয়ার জন্য। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে সকলেই বুঝতে পারছিলেন—সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
গাহের আলী মন্ডলের বড় ছেলের পরিবার কর্মসূত্রে গাজীপুরে বসবাস করতেন। এই দূরত্ব তার হৃদয়ে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছিল। তিনি প্রায়ই তার বড় ছেলেকে জিজ্ঞেস করতেন তার আদরের নাতি মোঃ শাদমান শাবাবের কথা। আট বছর বয়সী, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র শাবাব তখন তার মামার বাড়ি, নাটোর জেলার নলডাঙ্গার মহিষডাঙ্গায় অবস্থান করছিল। প্রতিবারই আব্দুল আলীম তাকে আশ্বস্ত করতেন—“শাবাব খুব শিগগিরই আসবে, আপনার সাথে দেখা করবে।” এই আশ্বাস গহের আলী মন্ডলের হৃদয়ে কিছুটা প্রশান্তি এনে দিত, কিন্তু তার অন্তরের গভীরে তিনি বুঝতে পারছিলেন যে, হয়তো সময় আর খুব বেশি নেই।
নিজের প্রিয় মানুষদের শেষবারের মতো দেখার আকাঙ্ক্ষা তার মধ্যে প্রবল হয়ে উঠেছিল। বারবার তিনি সবার খোঁজ নিচ্ছিলেন, যেন এক ঝলক দেখেই তার মন পূর্ণ হয়ে যায়। এই দৃশ্য তার বড় ছেলের জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একদিকে বাবার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থা, অন্যদিকে তার শেষ ইচ্ছাগুলো পূরণ করার তাগিদ—সব মিলিয়ে এক গভীর মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটছিল তার।
এমন সময় ঈদের ছুটি এসে উপস্থিত হয়। এই ছুটির কারণে পরিবারের প্রায় সবাই একত্রিত হতে পেরেছিলেন, যা ছিল এক অর্থে সৌভাগ্যের বিষয়। কারণ জীবনের এই শেষ মুহূর্তগুলোতে প্রিয়জনদের পাশে পাওয়া সত্যিই এক বিরল আশীর্বাদ। পরিবারের সবাই এসে তাকে ঘিরে রাখলেন, তার সেবা-যত্নে কোনো কমতি রাখলেন না।
অবশেষে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্তটি এলো, যখন তার নাতি শাদমান শাবাব তার সামনে উপস্থিত হলো। ছোট্ট এই ছেলেটি তার দাদার সঙ্গে কথা বলছিল, আর গহের আলী মন্ডলও যেন তার শেষ শক্তিটুকু দিয়ে নাতির সাথে কথা বলছিলেন। এটি ছিল তাদের শেষ আলাপচারিতা। শাবাব হয়তো পুরোপুরি বুঝতে পারছিল না মৃত্যুর গভীরতা, কিন্তু সে অনুভব করছিল—সে তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে হারাতে চলেছে। পরবর্তীতে সে প্রায়ই তার বাবা-মায়ের সাথে তার দাদার স্মৃতিচারণ করত, যা প্রমাণ করে এই সম্পর্কের গভীরতা।
এই কঠিন সময়টাতে বড় ছেলের স্ত্রী মোছাঃ শামীমা খাতুনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাড়িতে এসে শ্বশুরের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তার আন্তরিকতা এবং দায়িত্ববোধ ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু তিনিও বুঝতে পারছিলেন, দিন দিন গহের আলী মন্ডলের অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং তাকে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।
জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে গাহের আলী মন্ডল হয়তো বুঝে গিয়েছিলেন—তার সময় শেষের পথে। তবুও তার মনে ছিল এক অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের তৃপ্তি। ১৯৯০-এর দশক থেকেই তিনি একটি বাজার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন, যা এলাকার বেকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। দীর্ঘ প্রচেষ্টা এবং সংগ্রামের পর তিনি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হন। “নাগা বাজার” নামে সেই বাজারটি অবশেষে ০৫/০১/২০২৪ তারিখে উদ্বোধন করা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ জনগণ।
এই বাজার শুধু একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র নয়, বরং এটি গাহের আলী মন্ডলের জীবনের পরিশ্রম, স্বপ্ন এবং সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতার প্রতীক। যদিও তিনি তার স্বপ্নকে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি, তবে তিনি এমন একটি ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন, যা ভবিষ্যতে আরও প্রসারিত হবে।
অবশেষে, ২৪ মার্চ ২০২৬, বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার চলে যাওয়া যেন এক যুগের অবসান।
তবে তার রেখে যাওয়া স্বপ্ন এবং আদর্শ আজও বেঁচে আছে। তার দুই ছেলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ—তারা তাদের বাবার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করবেন এবং নাগা বাজারকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমৃদ্ধ বাজারে পরিণত করবেন। তারা জানেন, এটি শুধু একটি দায়িত্ব নয়, বরং তাদের বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
গাহের আলী মন্ডলের জীবন আমাদের শেখায়—একজন মানুষের প্রকৃত মূল্য তার কর্মে, তার স্বপ্নে এবং সমাজের জন্য তার অবদানে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন সংগ্রামী এবং একজন স্নেহশীল মানুষ। তার এই অবদান এবং স্মৃতি চিরকাল মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
সৌজন্যে,
নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।



আমার ৪৫তম জন্মদিন:আমি যখন অতীতের দিকে তাকাই, তখন বুঝতে পারি জীবন কতটা অনিশ্চিত:আজ ০৭/০৫/২০২৬। আমার জীবনের ৪৫তম জন্মদিন। ...
07/05/2026

আমার ৪৫তম জন্মদিন:
আমি যখন অতীতের দিকে তাকাই, তখন বুঝতে পারি জীবন কতটা অনিশ্চিত:

আজ ০৭/০৫/২০২৬। আমার জীবনের ৪৫তম জন্মদিন। সাধারণত জন্মদিন মানেই আনন্দ, শুভেচ্ছা, হাসি আর পরিবারের মানুষের ভালোবাসায় ভরা কিছু মুহূর্ত। কিন্তু আজকের দিনটি আমার কাছে একেবারেই ভিন্ন। চারদিকে যেন এক অদ্ভুত নীরবতা। নেই কোনো আয়োজন, নেই কোনো আনন্দঘন পরিবেশ। শুধু স্মৃতি আর শূন্যতার অনুভূতি বারবার হৃদয়কে ভারী করে তুলছে।

১৯৮২ সালের ০৭ মে আমি জন্মগ্রহণ করি। আমার জন্মের পরপরই পরিবারে নেমে আসে গভীর শোক। আমি তখন সদ্যোজাত শিশু, কিছুই বুঝতে পারতাম না। কিন্তু পরে বড় হয়ে জানতে পারি, আমার জন্মের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই আমার দাদা কসির উদ্দিন মন্ডল এবং দাদী উপজান বিবি ইন্তেকাল করেন। পৃথিবীতে আসার পরপরই যেন জীবনের কঠিন বাস্তবতা আমার পরিবারের উপর নেমে এসেছিল। সেই সময়ের স্মৃতিগুলো আমি অনুভব করতে না পারলেও পরিবারের মানুষের কষ্টের গল্প শুনে হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে যায়।

সময়ের সাথে সাথে জীবন এগিয়ে গেছে। কিন্তু প্রিয়জন হারানোর বেদনা বারবার আমাকে আঘাত করেছে। ০১/০৬/২০১০ সালে আমার বড় আম্মা ফাতেমা বেগম, যিনি বাহার আলী( আমার বড় আম্মা ) মন্ডলের স্ত্রী ছিলেন, ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যু আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এরপর ০৬/০৭/২০১৩ সালে আমার বড় আব্বা বা জ্যাঠা বাহার আলী মন্ডল মারা যান। তিনিও ছিলেন পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তখন মনে হয়েছিল পরিবার থেকে যেন এক একটি ছায়া সরে যাচ্ছে।

তারপর ২৭/০১/২০১৬ সালে আমার আরেক বড় বাবা বা জ্যাঠা তাহের আলী মন্ডল মৃত্যুবরণ করেন। একের পর এক প্রিয়জন হারানোর শোক আমাকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছিল। তবুও জীবন থেমে থাকে না। মানুষকে সব বেদনা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হয়।

কিন্তু ২৪/০৩/২০২৬ তারিখটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শোকের দিন হয়ে আসে। সেদিন আমার প্রিয় বাবা, নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডল ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, সৎ এবং পরিশ্রমী একজন মানুষ। পরিবারের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অপরিসীম। আমার জীবনের প্রতিটি জন্মদিনে তিনি আমাকে সবার আগে শুভেচ্ছা জানাতেন। তাঁর মুখের সেই হাসি, সেই আন্তরিকতা আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

আজ বাবা নেই। মাত্র দুই মাস আগে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তাই এবারের জন্মদিনে আনন্দ খুঁজে পাওয়া আমার জন্য খুব কঠিন। মনে হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হারিয়ে ফেলেছি। ঘরের প্রতিটি কোণে তাঁর স্মৃতি, তাঁর কণ্ঠস্বর, তাঁর উপস্থিতি যেন আজও অনুভব করি। কিন্তু বাস্তবতা হলো তিনি আর নেই।

আমি যখন অতীতের দিকে তাকাই, তখন বুঝতে পারি জীবন কতটা অনিশ্চিত। জন্মের পর থেকেই প্রিয়জন হারানোর বেদনা যেন আমার জীবনের সঙ্গী হয়ে আছে। তবুও মহান আল্লাহ মানুষকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দেন। আজ আমার একটাই প্রার্থনা—আল্লাহ যেন আমার বাবা, মা, দাদা এবং সকল মৃত আত্মীয়স্বজনকে জান্নাত নসিব করেন। আর আমাকে ধৈর্য ও শক্তি দেন যেন আমি এই শোক কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারি।

আজকের জন্মদিন তাই আনন্দের নয়, বরং স্মৃতিময় এক নীরব দিন। তবুও আমি বিশ্বাস করি, জীবনের প্রতিটি কষ্টের মাঝেও আল্লাহর রহমত লুকিয়ে থাকে। মানুষ হারিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ভালোবাসা ও স্মৃতি চিরকাল হৃদয়ে বেঁচে থাকে।

সৌজন্যে,

নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।





📝 নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডল পরিচিতি পর্ব–11নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনের ...
05/05/2026

📝 নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডল পরিচিতি পর্ব–11
নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনের শেষ সময়গুলো ছিল গভীর বেদনা, সংগ্রাম এবং পরিবারের ভালোবাসায় ঘেরা এক আবেগময় অধ্যায়। এই পর্বে ফুটে ওঠে এক বিশেষ দিনের কথা—পবিত্র ঈদের দিন, যা আনন্দের হওয়ার কথা থাকলেও তাঁর পরিবারে তা পরিণত হয়েছিল নিঃশব্দ বেদনা ও অপূর্ণতার প্রতিচ্ছবিতে।
ঈদের সেই সকালটি ছিল কিছুটা মেঘলা। আকাশ যেন নিজের মতো করে শোক প্রকাশ করছিল। পরিবারের সবার মনেই ছিল এক ধরনের ভারী অনুভূতি। কারণ, এই প্রথমবারের মতো ঈদের নামাজে গাহের আলী মন্ডল উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি তখন শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ, বিছানায় শায়িত। তাঁর দুই ছেলে—মোঃ আব্দুল আলীম ও মোঃ গোলাম মোস্তফা—মনে গভীর কষ্ট নিয়েই ঈদগাহ ময়দানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।
মোঃ আব্দুল আলীম তাঁর ছেলে মোঃ শাদমান শাবাবকে সঙ্গে নিয়ে এবং মোঃ গোলাম মোস্তফা তাঁর ছেলে মোঃ মিনহাজকে নিয়ে ঈদগাহ ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়। নামাজ শেষে সবাই একে অপরকে আলিঙ্গন করে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন। ছোট্ট মিনহাজ ও শাদমান শাবাবও একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ ভাগাভাগি করছিল। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেও কোথাও যেন এক গভীর শূন্যতা ছিল—তাদের প্রিয় দাদা গাহের আলী মন্ডলের অনুপস্থিতি।
গত ঈদে গাহের আলী মন্ডল নিজে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁর নাতিদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে মেতে উঠেছিলেন। সেই স্মৃতিগুলো যেন এদিন আরও বেশি করে মনে পড়ছিল। আজ সেই দৃশ্য নেই, নেই সেই হাসি, নেই সেই উচ্ছ্বাস—সবকিছুই যেন থমকে গেছে।
ঈদের নামাজ শেষে তাঁরা পরিবারের কবরস্থানে যান এবং প্রয়াত আত্মীয়-স্বজনদের জন্য দোয়া করেন। তারপর নীরবে বাড়ির পথে ফিরে আসেন। বাড়িতে ফিরে দেখেন, গাহের আলী মন্ডল বিছানায় শুয়ে আছেন, খুবই দুর্বল অবস্থায়। এই দৃশ্য তাঁদের হৃদয়কে আরও ভারাক্রান্ত করে তোলে। সবাই মনে মনে ভাবছিল—“আজকের দিনটি কতটা দুর্ভাগ্যের!”
ঈদের দিনটি সাধারণত আনন্দ, হাসি আর ভালোবাসায় ভরা থাকে। কিন্তু সেই দিনটি ছিল ভিন্ন। পরিবারের সবাই নীরবে খাবার গ্রহণ করছিলেন, খুব সামান্য পরিমাণে। কেউ ঠিকমতো খেতে পারছিলেন না। সবাই চেষ্টা করছিলেন গাহের আলী মন্ডলকে কিছু খাওয়ানোর, কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তিনি স্বাভাবিকভাবে কিছু গ্রহণ করতে পারছিলেন না।
১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি ঘটে। তিনি শ্বাস নিতে কষ্ট পাচ্ছিলেন এবং মুখে কোনো খাবার গ্রহণ করতে পারছিলেন না। এর আগের দিন, ১৭ মার্চ, তিনি হঠাৎ করেই বিছানায় পড়ে যান। এরপর দিন দিন তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। শরীর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছিল।
এই কঠিন সময়ে তাঁর বড় ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম, যিনি একজন ফার্মাসিস্ট, বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান বাবার যত্ন নেওয়ার জন্য। তাঁর এই দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়।
গাহের আলী মন্ডল শুধু একজন পরিবারের প্রধানই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাজার গড়ে তোলা, যা নাগা বাজার এলাকার বেকার মানুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অনেকটা এগিয়েছিলেন। নাগা বাজার আজ যে অবস্থানে রয়েছে, তার পেছনে তাঁর পরিশ্রম, ত্যাগ ও দূরদৃষ্টির বড় ভূমিকা রয়েছে।
তবে তাঁর সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার আগেই তিনি ২৪ মার্চ ২০২৬, বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তাঁর মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, পুরো নাগা বাজার এলাকার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর দুই ছেলে—মোঃ আব্দুল আলীম ও মোঃ গোলাম মোস্তফা—এখন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাঁরা তাঁদের বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চান। তাঁরা চান নাগা বাজারকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে, যেন এটি সত্যিই এলাকার মানুষের জন্য একটি আশীর্বাদ হয়ে ওঠে।
ঈদের সেই দিনটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব ছিল না; এটি ছিল ভালোবাসা, স্মৃতি, বেদনা ও প্রতিজ্ঞার এক অনন্য মিশ্রণ। গাহের আলী মন্ডলের স্মৃতি আজও তাঁর পরিবারের হৃদয়ে জীবন্ত, আর তাঁর স্বপ্ন তাদের পথ দেখিয়ে চলেছে।
সৌজন্যে,
নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।
21/03/2026
#নাগাবাজার



দ্বিতীয় দিন বুধবার ২৫ মার্চ ২০২৬  ঘোষণা কারীর কন্ঠ :মো: শাহী আলম  পিতা মো: বজলুর রহমান লিটন, নাগা বাজার, কাতিলা, বাগমার...
04/05/2026

দ্বিতীয় দিন বুধবার ২৫ মার্চ ২০২৬
ঘোষণা কারীর কন্ঠ :মো: শাহী আলম
পিতা মো: বজলুর রহমান লিটন, নাগা বাজার, কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।

শোক সংবাদ:
কাতিলা নিবাসী, কিনুরমোড়ে, নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা, মোঃ আব্দুল আলীম ও মো: গোলাম মোস্তফার পিতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা গাহের আলী মন্ডল গতকাল মঙ্গলবার বেলা ৩:২০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মরহুমের জানাজা নামাজ আজ বুধবার বাদ যোহর বেলা ২ ঘটিকায় কাতিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত জানাজা নামাজে শরিক হওয়ার জন্য আপনারা সবাই আমন্ত্রিত।
#নাগাবাজার




নাগা বাজারের স্বপ্নদ্রষ্টা গাহের আলী মন্ডলের জানাজা ও শেষ বিদায়,

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডল: পরিচিতি পর্ব–৯নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনের শেষ সময়গ...
30/04/2026

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডল: পরিচিতি পর্ব–৯

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনের শেষ সময়গুলো ছিল একদিকে সংগ্রামের, অন্যদিকে অবিচল আত্মবিশ্বাস ও আশার প্রতীক। বিশেষ করে ২০/০৩/২০২৬ তারিখের ঘটনাগুলো তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তা, মানসিক শক্তি এবং জীবনের প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষাকে নতুনভাবে তুলে ধরে।

সেই সময় গাহের আলী মন্ডল শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল ছিলেন, তবে মানসিকভাবে তিনি ছিলেন অদম্য। তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন যে, তিনি আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন। অতীতেও তিনি দুই থেকে তিনবার গুরুতর অসুস্থতা থেকে ফিরে এসেছিলেন—এই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছিল। তাঁর মনে সবসময় একটি চিন্তাই ঘুরপাক খেত—“কীভাবে আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া যায়।”

২০ মার্চ ২০২৬ রাতের ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেদিন পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন যে, যেকোনোভাবে তাঁকে ঈদগাহ ময়দানে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে তিনি ঈদের আনন্দ ও মানুষের ভালোবাসা অনুভব করতে পারেন। যখন তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়, তখন তিনি কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। আবারও জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন পার্থিব চিন্তা থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তবে তাঁর চোখেমুখে ছিল সুস্থ হয়ে ওঠার এক গভীর আকাঙ্ক্ষা।

তাঁর এই অবস্থার মধ্যেও যখনই চিকিৎসার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হতো, তিনি তা আনন্দের সাথে গ্রহণ করতেন। যেন মনে মনে বিশ্বাস করতেন—এই চিকিৎসাই তাঁকে আবার সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলবে। তাঁর এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস অনেক সময় পরিবারের সদস্যদেরও আশাবাদী করে তুলত। তাঁর পরিবারও বিশ্বাস করত, আগের মতো এবারও তিনি ফিরে আসবেন সুস্থ জীবনে।

ঈদগাহ ময়দানে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এটি ছিল তাদের জন্য এক গভীর আক্ষেপের বিষয়। বিশেষ করে তাঁর বড় ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, তিনি বাবাকে ঈদগাহ ময়দানে নিয়ে যেতে পারবেন। সেই লক্ষ্যেই তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান। একজন ফার্মাসিস্ট হিসেবে তিনি চিকিৎসকদের সাথে নিয়মিত পরামর্শ করে বাবার চিকিৎসার সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

২০/০৩/২০২৬ তারিখে গাহের আলী মন্ডলের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। এই সামান্য উন্নতিই পরিবারকে নতুন করে আশাবাদী করে তোলে। সবাই মনে করতে শুরু করে—হয়তো আগের মতো এবারও তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। বিশেষ করে ঈদের সময় হওয়ায় পরিবারের প্রায় সকল সদস্য তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন। এই সময়টিতে সবাই একত্রিত হয়ে তাঁর যত্ন নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, যা তাদের জন্য একদিকে সৌভাগ্যের, অন্যদিকে আবেগঘন একটি সময়।

ঈদের ছুটিতে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজনরা তাঁর সাথে দেখা করতে আসেন। তিনি কথা বলতে না পারলেও অস্পষ্ট শব্দ এবং হাত নেড়ে ইশারার মাধ্যমে বুঝানোর চেষ্টা করতেন—সবাই যেন তাঁর কাছে আসে। তাঁর এই ইশারা যেন ছিল শেষ বিদায়ের আহ্বান। সেই মুহূর্তগুলো ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, তবে একইসাথে ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ।

গাহের আলী মন্ডল ছিলেন একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল নাগা বাজারকে একটি পূর্ণাঙ্গ বাজার হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে এলাকার বেকার মানুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অনেক কিছু করেছেন, কিন্তু পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারেননি।

তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব এখন তাঁর সন্তানদের উপর বর্তায়। তাঁর দুই ছেলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, তারা তাদের বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে। তারা নাগা বাজারের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে, যাতে গাহের আলী মন্ডলের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে।

পরিবারের সদস্যরা সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁকে ঘিরে রেখেছিলেন। ঈদের এই সময়টিতে সবাই একসাথে থাকার কারণে তাঁকে যত্ন নেওয়া আরও সহজ হয়েছিল। এটি তাদের জন্য এক বিশেষ নিয়ামত, যা তারা সারাজীবন স্মরণে রাখবে।

সবশেষে বলা যায়, গাহের আলী মন্ডলের জীবনের এই অধ্যায় আমাদের শিখিয়ে যায়—আশা কখনো হারানো উচিত নয়। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি বিশ্বাস রেখেছিলেন যে, তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তাঁর এই অদম্য মানসিকতা, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা এবং সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন তাঁকে একজন অসাধারণ মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করে।

তাঁর জীবন শুধু একটি ব্যক্তিগত গল্প নয়, বরং এটি একটি প্রেরণার উৎস—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং মানবসেবার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।

সৌজন্যে,

নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।
#নাগাবাজার




নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডল: পরিচিতি (পর্ব–৮)নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনের শেষ সম...
28/04/2026

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডল: পরিচিতি (পর্ব–৮)

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনের শেষ সময়ের এই অধ্যায়টি আবেগ, আশা, ভালোবাসা এবং অদম্য প্রচেষ্টার এক অনন্য দলিল। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পরও তিনি যেন বারবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। বিশেষ করে ২০/০৩/২০২৬ তারিখটি পরিবারের সবার কাছে এক স্মরণীয় দিন হয়ে আছে—কারণ সেদিন তাকে দেখে মনে হয়েছিল তিনি আবার আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠছেন।

এই দিনটিতে তার চারপাশে ছিল তার প্রিয় মানুষজন। পরিবারের সদস্যরা সবাই তাকে ঘিরে রেখেছিলেন, যেন ভালোবাসার এক অদৃশ্য শক্তি তাকে ঘিরে রেখেছে। তার ছোট মেয়ে এবং বড় ছেলে ঢাকায় থেকে ছুটে এসেছিলেন শুধুমাত্র বাবার পাশে থাকার জন্য। তাদের উপস্থিতি গাহের আলী মন্ডলের মুখে এক অন্যরকম প্রশান্তি এনে দেয়। শুধু সন্তানরাই নয়, তার নাতি-নাতনিরাও ছুটে আসে দাদার কাছে। পুরো পরিবার একত্রিত হওয়ায় ঘরে যেন উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

এই দৃশ্য দেখে গাহের আলী মন্ডল অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে ওঠেন। তিনি হাসছিলেন, কথা বলছিলেন, এমনকি মাঝে মাঝে মজার কথাও বলছিলেন—যা দেখে সবাই মনে করেছিল, তিনি আবার আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠছেন। তার এই হাসিখুশি মনোভাব পরিবারের সবাইকে আশাবাদী করে তোলে। মনে হচ্ছিল, তিনি যেন অসুস্থতাকে জয় করে আবার তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তখন নতুন করে আশার সঞ্চার হয়। কেউ কেউ বলতে শুরু করেন, যদি তিনি এভাবে সুস্থ থাকতে পারেন, তাহলে হয়তো এবারের ঈদের দিনেও তাকে ঈদগাহ ময়দানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে—যেমনটি তিনি প্রতি বছর করতেন। ঈদের নামাজ আদায় করা ছিল তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং সমাজের মানুষের সঙ্গে এই দিনটি ভাগাভাগি করে নেওয়া ছিল তার এক বিশেষ আনন্দ।

তার বড় ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম বাবার সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। একজন ফার্মাসিস্ট হিসেবে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন এবং বাবার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করছিলেন। তার এই আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল একজন সন্তানের দায়িত্ববোধ এবং ভালোবাসার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। পরিবারের অন্য সদস্যরাও একইভাবে তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

সবকিছু দেখে মনে হচ্ছিল, গাহের আলী মন্ডল আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন। পরিবার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, আগের মতোই তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। কিন্তু বাস্তবতা কখনো কখনো মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিল খায় না।

প্রতিদিন রাতের বেলায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। দিনের বেলায় তিনি স্বাভাবিক থাকলেও, রাত হলেই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যেত। তিনি অস্থির হয়ে পড়তেন, কখনো চিৎকার করতেন, কখনো অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। এই পরিবর্তন পরিবারকে চিন্তিত করে তোলে, কিন্তু দিনের বেলার তার স্বাভাবিকতা আবার সবাইকে আশাবাদী করে তুলত।

ঈদের আগের রাতেও এক অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। অন্যান্য রাতের মতো অস্থির না হয়ে তিনি সেদিন ছিলেন শান্ত ও স্থির। তার এই আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন আবার আগের মতো হয়ে উঠছেন। এই শান্তভাব পরিবারের মনে এক ধরনের স্বস্তি এনে দেয়, যদিও ভেতরে ভেতরে সবাই উদ্বেগে ছিল।

এই সময়ে তার দুই ছেলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন যে, তারা তাদের বাবার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তারা বিশ্বাস করতেন, তাদের বাবাকে বাঁচিয়ে রাখা শুধু একটি পারিবারিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি নাগা বাজারের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা। কারণ গাহের আলী মন্ডল শুধু একজন পিতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি স্বপ্নের রূপকার—নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা।

তার জীবনের আদর্শ ছিল মানুষের জন্য কিছু করা, সমাজকে এগিয়ে নেওয়া এবং একটি স্থায়ী উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলা। তার এই আদর্শ আজও তার পরিবারকে অনুপ্রাণিত করে। তার দুই ছেলে সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

গাহের আলী মন্ডলের এই জীবনের শেষ অধ্যায়টি আমাদের শেখায়—মানুষের জীবনে ভালোবাসা, পরিবার এবং আশা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থতার মাঝেও তিনি যে আনন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন, তা ছিল তার পরিবারের উপস্থিতিতে। তার হাসি, তার আনন্দ, তার আশাবাদ—সবকিছুই প্রমাণ করে যে, একজন মানুষের প্রকৃত শক্তি তার প্রিয়জনদের মধ্যে নিহিত।

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আজও জীবন্ত। তার অনুপস্থিতিতেও তার আদর্শ, তার কর্ম এবং তার অবদান মানুষকে পথ দেখাবে। তার সন্তানরা এবং পরিবারের সদস্যরা সেই পথ অনুসরণ করে তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য কাজ করে যাবে।

এই অধ্যায়টি শুধু একজন মানুষের অসুস্থতার গল্প নয়, এটি একটি পরিবারের একত্রিত হওয়ার গল্প, ভালোবাসার গল্প এবং একজন মহান মানুষের আদর্শকে ধরে রাখার অঙ্গীকারের গল্প। গাহের আলী মন্ডল হয়তো শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু তার মনোবল, তার হাসি এবং তার আদর্শ ছিল অটুট।

নাগা বাজারের ইতিহাসে তার এই সময়টি এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে—যেখানে ভালোবাসা, আশা এবং সংগ্রাম একসঙ্গে মিশে গেছে। তার জীবন আমাদের শিখিয়ে যায়, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা হারানো যায় না, এবং পরিবারই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।

সৌজন্যে,

নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।

#নাগাবাজার



নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডল: পরিচিতি (পর্ব–৭)প্যাম্পাস (ডায়াপার) ব্যবহার ছিল তার জীবনের এক নতুন এবং অস্বস্...
26/04/2026

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডল: পরিচিতি (পর্ব–৭)
প্যাম্পাস (ডায়াপার) ব্যবহার ছিল তার জীবনের এক নতুন এবং অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা:
বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার একটি সুপরিচিত নাম—নাগা বাজার। আর এই বাজারের পেছনে যাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, দূরদৃষ্টি ও আত্মত্যাগ জড়িয়ে আছে, তিনি হলেন নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডল। একজন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনকারী মানুষ হয়েও তিনি সমাজে ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত, সম্মানিত এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব।

গাহের আলী মন্ডল ছিলেন সহজ-সরল স্বভাবের মানুষ। তার জীবনধারা ছিল একেবারেই সাধারণ, কিন্তু চিন্তা-চেতনা ছিল অসাধারণ। তিনি বিশ্বাস করতেন—মানুষের কল্যাণে কাজ করাই জীবনের আসল উদ্দেশ্য। তিনি কখনো নিজের জন্য বড় কিছু ভাবেননি, বরং সবসময় সমাজের উন্নয়ন ও মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য চিন্তা করেছেন। সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে তার ছিল সহজ ও আন্তরিক সম্পর্ক। ধনী-গরিব, ছোট-বড়—সবাই তাকে ভালোবাসতো এবং শ্রদ্ধা করতো।

তার একটি বিশেষ গুণ ছিল—উচ্চপদস্থ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক। তিনি সেই সম্পর্কগুলোকে কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেননি; বরং এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের উপকারে লাগিয়েছেন। এই দূরদৃষ্টি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই ১৯৯০-এর দশক থেকে তিনি একটি স্থানীয় বাজার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, একটি সুসংগঠিত বাজার গড়ে উঠলে স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং এলাকার অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা, সংগ্রাম এবং পরিকল্পনার পর অবশেষে তার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় “নাগা বাজার”। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সমাজের গণ্যমান্য মানুষ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ জনগণ। এটি শুধু একটি বাজারের উদ্বোধন ছিল না, বরং ছিল একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন। নাগা বাজার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন, যা আজ একটি সামাজিক-অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বাগমারা উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তবে জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে তাকে কঠিন সময়ের সম্মুখীন হতে হয়। ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ হঠাৎ করেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শয্যাশায়ী হন। ১৮ মার্চ তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়—তিনি শ্বাস নিতে কষ্ট পাচ্ছিলেন এবং মুখে খাবার গ্রহণ করতে পারছিলেন না। দিন যত গড়াতে থাকে, তার শারীরিক দুর্বলতা তত বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগে পড়ে যান।

তার বড় ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম একজন ফার্মাসিস্ট হিসেবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন বাবাকে সুস্থ করে তুলতে। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরিবারের সবাই আশা করেছিলেন, আগের মতোই তিনি আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন। আল্লাহর রহমতে ২০ মার্চ তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়, যা পরিবারকে নতুন করে আশাবাদী করে তোলে।

এদিকে ঈদের সময় ঘনিয়ে আসছিল। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন সবাই ঈদের উপলক্ষে একত্রিত হন এবং একই সাথে গহের আলী মন্ডলকে দেখতে আসেন। এটি যেন এক অদ্ভুত আবেগঘন মুহূর্তে পরিণত হয়—সবাই একত্রিত, কিন্তু অন্তরে ছিল শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা।

অসুস্থতার কারণে এক সময় তাকে প্যাম্পাস (ডায়াপার) ব্যবহার করতে হয়, যা ছিল তার জীবনের এক নতুন এবং অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা। তিনি এতে মানসিকভাবে অস্বস্তি বোধ করতেন, কিন্তু শারীরিক অসহায়ত্বের কারণে এটি ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। জীবনের শেষ দিনগুলোতে এই কষ্টগুলো তাকে নীরবে সহ্য করতে হয়েছে।

অবশেষে ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ, বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তিনি এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরবিদায় নেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। একজন সৎ, কর্মঠ এবং মানবিক মানুষকে হারিয়ে সমাজ গভীরভাবে শোকাহত হয়।

গাহের আলী মন্ডলের সবচেয়ে বড় অবদান হলো নাগা বাজার প্রতিষ্ঠা। এই বাজার আজ শুধুমাত্র একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। অসংখ্য মানুষ এখানে কাজ করছে, জীবিকা নির্বাহ করছে এবং নিজেদের জীবনমান উন্নত করছে। তার এই অবদান চিরদিন মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।

তবে তার স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি আরও অনেক কিছু করতে চেয়েছিলেন—এলাকার উন্নয়ন, মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তোলা ছিল তার লক্ষ্য। যদিও তিনি সবকিছু সম্পন্ন করে যেতে পারেননি, কিন্তু তার রেখে যাওয়া পথনির্দেশনা এবং আদর্শ আজও জীবন্ত।

তার দুই ছেলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ—তারা তাদের বাবার অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণ করবেন। নাগা বাজারকে আরও উন্নত এবং সম্প্রসারিত করার জন্য তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা বিশ্বাস করেন, তাদের বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করেই তারা সফল হতে পারবেন।

গাহের আলী মন্ডল আমাদের মাঝে আর নেই, কিন্তু তার কর্ম, আদর্শ এবং অবদান চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি প্রমাণ করে গেছেন—একজন সাধারণ মানুষও অসাধারণ কিছু করতে পারেন, যদি তার মধ্যে থাকে ইচ্ছাশক্তি, সততা এবং মানুষের জন্য কিছু করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা।

আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন—আমিন।





সৌজন্যে,

নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।
#নাগাবাজার




Address

Naga Bazar, Kinurmore, Katila, Bagmara
Rajshahi
6403

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when NAGA BAZAR posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share