26/05/2020
একটা সময় ছিল যখন এখনকার সময়ের মত ইন্টারনেট এভেইলাভল ছিল না,ল্যান্ডফোনের দিন গুলোর পরে আসে মোবাইল ফোনের দিন।তখন মানুষ মোবাইলে কথা বলতে পারতো সহজে ঠিকই কিন্তু এখনকার দিনের মত চাইলেই ছবি দেখতে পারতো না,পারতো না ভিডিও কল করতে।আমরা আজকে সেইদিন গুলার সময়ের একটি গল্পই শুনবো। ওশিন এবং হিমেল আমাদের প্রিয় একটি কাপল,তাদের এক হওয়ার গল্পটা ছিল অনেকটা যুদ্ধের মতো। আসুন ওশিন এর কাছেই পুরো গল্পটা শুনি।
''জানুয়ারী ২০০৮ এ আমার এক ফ্রেন্ড এর মাধ্যমে আমাদের প্রথম পরিচয় হয় মোবাইলে কথা বলে।তখন থেকে কথা বলা শুরু হয়।শুরুর দিকে আমরা ভাল বন্ধু হলাম।আমার নিজের তখন মোবাইল ছিলো না।আব্বুর মোবাইল চুরি করে কথা বলতে হতো। ওর কন্ঠ খুব সুন্দর,আর খুব সুন্দর গুছিয়ে কথা বলতো,আমরা তখনো কেউ কাউকে দেখিনি।আমি ওকে পছন্দ করতে শুরু করলাম।এপ্রিল ১৩তে ও আমাকে প্রপোজ করে,আমিও রাজি হয়ে গেলাম।আমাদের প্রথম দেখা হয় জুলাই মাসে।আমি ঢাকা নানু বাড়ি গিয়ে ছিলাম।ও মিরপুর থেকে কেরানীগঞ্জ যায় আমার সাথে দেখা করতে।আমি নানুর বাড়ির বারান্দায় দাড়িয়ে ছিলাম,আর ও ছিল রাস্তায়,দুজন এত দূরে ছিলাম,কেউ কারো চেহারাই দেখতে পারিনি,এভাবেই হয় আমাদের প্রথম দেখা।আমি নরসিংদী আর ও ঢাকা।মাসে একবার নরসিংদী গিয়ে সে দেখা করে আসতো,এভাবে রিলেশান ভালোই চলছিল।
এভাবেই কেটে যায় ৫ বছর।সময়ের সাথে সাথে সব কিছু চেইঞ্জ হতে থাকলো, ও আমাকে টাইম দিতে পারতোনা,ব্যস্ততা দেখাইতো।আস্তে আস্তে দেখাও কম হতে লাগলো। এমনও সময় গেছে,৩/৪ মাসেও দেখা হয়নি।খুব কষ্ট হতো,কান্না করতাম।আরও অনেক কিছু মিলিয়ে ব্রেক আপ হয়ে যায়।প্রায় ৭ মাস পর সব ঠিক হয়ে যায়।আমার ফ্যামিলি এক সময় সব জেনে যায়।অনেক প্রব্লেম শুরু হয়,আমার বাবা কিছুতেই রাজিনা।এমবিএ কমপ্লিট হওয়ার পর বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে।আমি অনেক বুঝানোর ট্রাই করতে থাকি,অনেক কান্নাকাটির পর মা রাজি হয়ে যায়,কারন সম্পর্ক টা অনেক দিন এর।বাবাকে বুঝানোর ট্রাই করে,মামা দের বুঝায়।নানী,মামা রা রাজি হয়,কিন্তু বাবা রাজি হয়না কোন ভাবেই।হিমেল এর বাসা থেকেও অনেক দিন যাবত বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলো। তাই আব্বুকে ছাড়াই মামার বাড়িতে আমাদের কাবিন হয়।আব্বু না থাকায় বিয়ে হলেও সব সময় একটা অপূর্নতা থেকেই যেতো।আব্বুকে মিস করতাম। ৭/৮ মাস পর আব্বু বুঝতে পারে আমি ভালো আছি।সব কিছু মেনে নেয়।কিছুদিন পর আব্বু, মা আর ভাই আমার বাসায় আসে।আমাদের বিয়ের প্রোগ্রাম হয় নরসিংদীতে।আল্লাহ এর রহমতে সব কিছু সুন্দর ভাবে হয়।এই দিনটা কখনো ভুলার নয়,তাই ছবি গুলাও অনেক বেশি প্রিয়।
যাদের কথা না বল্লেই নয়,ধন্যবাদ প্রিয় বান্ধবী পূজাকে,যে আমাকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে এবং ওয়েডিং মামিয়া পরিবারকে, অনেক সময় দিয়ে আমাদের এই ছবি গুলা ধারন করার জন্য।বিজয় ও রাকিব ভাইয়া, তোমাদের ডেডিকেশান সত্যিই অনেক প্রশংসনীয়।''
-ওশিন
© ওয়েডিং মামিয়া
ছবি : বিজয় ও রাকিব