04/08/2021
এক অতি আবেগী শাবাব বিয়ের জন্য পাত্রী চায়, পাত্রী জীবনে কখনো স্মার্ট ফোন হাতে ছুঁয়ে দ্যাখেনি এরকম টাইপ শর্ত। আমি নিজে মেয়েদের অনলাইন এক্টিভিটি রেস্ট্রিকশনের পক্ষে থাকলেও, শাবাবের এহেন এক্সপেক্টেশন এ ভিতরে ভিতরে খেপেই গেলাম। এরপর আসল দেনমোহরের ব্যাপার, উনার মতে 20/30 হাজার হৈলে বেটার হয়। উনি আমাকে ওই সূরা দিয়ে বিয়ে পড়ানোর হাদিসের বয়ান দিলেন। হাদীসটি আমারও পড়া,বাংলায়। বললাম, সূরা শেখানোর চুক্তিতে বিয়ে দেয়ার আগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেছিলেন সাহাবীকে? তার কাছে কিছু আছে কিনা, এট লিস্ট লোহার আংটি হলেও চলবে, তাও না পেলে বাড়িতে পাঠাইসে, দেখতে কিছু আছে কিনা।
তো, সেই শাবাবকে বাড়ি পাঠালে কি পাওয়া যাবে? তিরিশ হাজারের স্মার্ট ফোন, পঞ্চাশ হাজারের ল্যাপটপ ইউজ করে মানুষ বিশ/ত্রিশ হাজার মোহর দেয়ার চিন্তা করে। আছছা! মেয়েদের সম্পর্কে আসলে এসব শাবাবদের ধারণা কি? অনেকে আছে, নিজে বহুত দ্বীনদার (দাবি কৃত) , বিনিময়ে তাকে কি দিতে হবে? এক স্বচ্ছল ধনীর দুলালিকে , যাকে তিনি দ্বীনের দোহাই দিয়ে পুওর পিপল হাংরি পিপল স্টাইলে পালবেন, অথচ সে কাজে অভ্যাস্ত না, খাদেমা ছিল তার খেদমতের জন্য। এটা ইনসাফ না, কুফু মেলাটা জরুরি।
অনেকে আবার, দ্বীনকে প্রাধান্য দিয়ে দরিদ্র ঘরে বিয়ে করেন। ভাল কথা তবে, বংশ/পরিবার দেখা জরুরী। কারন,পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়লেই পারবিবারিক শিক্ষা ডেভেলপ নাও করতে পারে, আমাদের দেশে করে না ফর শিউর। দরিদ্র হওয়াটা প্রব্লেম না, আচর আচরণ এ ছোটলকি চিন্তা কর্ম ম্যাটার করে, এগুলি ছাপিয়ে উঠা এক যুগেও যায় কিনা সন্দেহ। অনেক সময় লাগে ট্রেইন আপ করতে। একটা কওল প্রচলিত আছে, যদি শোনো যে পাহাড় রাতারাতি নদী হয়ে গিয়েছে বিস্বাস করো, কিন্তু কেউ তার স্বভাব রাতারাতি চেন্জ করে ফেলেছে এটি বিশ্বাস করো না।
সুতরাং, বিয়ের ক্ষেত্রে টাকা পয়সা না দেখলেন, কিন্তু পারিবারিক কালচার যাচাই জরুরি। নইলে এডজাস্টমেন্ট এ প্রব্লেম হবে, আর যদি যৌথ পরিবার হয় তাহলে অশান্তি ঝগড়া মাস্ট। এজন্য অভিজ্ঞরা পরিবারের ব্যাকরাউন্ড চেক করে, কোন পরিবেশে বড় হয়েছে এগুলি ম্যাটার করে। কুরাইশ কালচার আর বেদুইন কালচার এক হবে না, বিভিন্ন হাদিস থেকেই বেদুইনদের রুড হার্ষ বিহেভিয়ারের পরিচয় পাওয়া যায়, যেটা তাদের কাছে খুবই নরমাল। এডজাস্ট করতে প্রবলেম হবে, প্রচন্ড সবর আর ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। যদি এরকম ম্যাচিং হয়েই যায়, নিজেকে এরকম সিচুয়েশন ফেইসের জন্য মানসিক ভাবে প্ৰস্তুত থাকুন।
💐
#বিয়ের_মাহর
এই সপ্তাহে [শুক্রবার], ইনশা'আল্লাহ, একটা বিয়া পড়ামু। মেয়ের ভাই আমার কাছে দুলহা -দুলহীনের বিস্তারিত ইনফরমেশন পাঠাইছে । আমি জানার জন্য মেসেজ পাঠাইলাম যে বিয়ের মাহর কত ধার্য্য করেছেন। জবাব দেখে টাসকি খাইলাম - US$১১০,০০০.০০ [এক লাখ দশ হাজার ডলার]।
আল-হামদুলিল্লাহ! ছেলের যদি সামর্থ থাকে তবে একটা ভাল এমাউন্ট। তবে ছেলের সাথে এখনো কথা হয় নাই। তার সাথে আলাপ করতে হবে।
উস্তাজ খলীলুর রহমান চিশতিকে এক জায়গায় বিয়ে পড়ানোর জন্য পাঠানো হয়েছিল। দুলহার পরিবার বহুৎ বড়লোক। উনি যাওয়ার পর শুনলেন যে বিয়ের মাহর নাকি নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১০,০০০ [দশ হাজার] পাকিস্তানী রুপি। তিনি সোজা বলে দিয়েছিলেন, "আমি এই বিয়ে পড়াচ্ছি না।" মাহর একটা ছেলেখেলা না। দশ হাজার রুপি কোন মাহর হয় না। এই ছেলের যা সামর্থ তাতেতো কিন্তার মাহর দেয়ার কথা। শেষ পর্যন্ত সম্ভবত [প্রকৃত পরিমান আমি ভুলে গিয়েছি] ৫ লাখ রুপি নির্ধারণ করা হয়।
( সিরাজুল ইসলাম) 💐