18/06/2026
মেসির ভাইরাল হওয়া ভিডিওটায় আমি মেসিকে নয়, দেখছিলাম পাশে বসা ছেলে থিয়াগোকে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটায় সবাই বেশ মজা পেয়েছে, আমি পেয়েছি জীবনের দীক্ষা। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ভক্ত মেসির গাড়ি থামিয়েছে। অটোগ্রাফ চায়। মেসি অটোগ্রাফ দিতে গিয়ে দেখেন ভক্তের দেওয়া কলমে কালি নেই। এমন মুহূর্তে বাংলাদেশের মাঝারি মানের তারকা হলেও বিরক্ত হতেন। হয়তো খেপেও যেতেন। মেসি কী করলেন? 'ওহ দাঁড়াও, আমার কাছে কলম আছে।'নিজের কলম খুঁজে অটোগ্রাফ দিয়ে কলমটাও ফেরত দিলেন। ভক্ত বলল, 'লিও এটা তোমার কলম।' মেসি বললেন, 'ওহ হ্যাঁ, তা-ই তো! ধন্যবাদ তোমাকে।'মেসি থেকে লাফ দিয়ে টেন্ডুলকারে চলে যাই। শচীন টেন্ডুলকারের বাবা ছিলেন কবি মানুষ। ছেলের নামও রেখেছিলেন প্রিয় সুরকার শচীন দেব বর্মনের নামে। ছেলে কবিতা, গান কোনটার দিকেই যায়নি। তার ধ্যান-জ্ঞান ক্রিকেট। ছোটবেলায় কবি রমেশ টেন্ডুলকার পুত্রের কানে শুনিয়েছিলেন জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা: মনে রাখবে, বড় মাপের ক্রিকেটার হওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বড় মাপের মানুষ হওয়া। এই যে মেসি; আমি ২০১৪ থেকে ফুটবল সম্পর্কে মোটামুটি জ্ঞান ধারন করি, আমি নিজে যার ফুটবল দেখছি ১৩ বছর ধরে, আজও যার প্রতি মুগ্ধতা এতটুকু কমেনি...তাকে কেন মনে রাখব আমরা? বিশ্বকাপের ট্রফিটার জন্য? ফুটবল মাঠের শ্রেষ্ঠ শিল্পী হয়ে ওঠা সব ফ্রি কিক, ড্রিবলিং কিংবা নান্দনিক সব গোলের জন্য? না। জীবনের প্রচ্ছদপট ৯০ মিনিটের চেয়ে অনেক বড়। আমি মনেপ্রাণে একজন ব্রাজিল সমর্থক হলেও মেসিকে আমি সব সময়ই মনে রাখব, খ্যাতি ও অর্জনের শীর্ষ চূড়ায় নিজেকে তুলে ধরেও মাটিতে পা রাখার জন্য। মাটির মানুষ হয়ে থাকার জন্য। তিনি তো আর কবি নন। রমেশের মতো অত কাব্য করে কিছু বলতে পারবেন না। তবে পাশে বসা থিয়াগোকে যা বলার মেসি বুঝিয়েই দিলেন: বড় হয়ে তুমি কত বড় ফুটবলার হবে আমি জানি না। তবে যা-ই হও না কেন; জীবনে বড় মাপের মানুষ হয়ো।
এভারেস্ট কিংবা চাঁদে পা রেখেও নিজেকে অতিসাধারণ ভাবতে পারার মতো মানুষ!
(বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিয়ে মেসি আজ বলেছেন, পরিসংখ্যান তাকে টানে না। তিনি গোলসংখ্যা হিসাব করেন না। তার চোখে তাই বিশ্বকাপের সেরা লেজেন্ড রোনালদো নাজারিও, জার্মানির ক্লোসা নন।)