13/05/2026
আমাদের রেস্টুরেন্টে কবি রবীন্দ্রনাথ আর কাজী নজরুল এলেন বার্গার খেতে। কোন বার্গার অর্ডার করবেন সেটা নিয়ে হয়ে গেল গম্ভীর এক সাহিত্য সভা।
টেবিলের এক পাশে বসিয়াছেন রবীন্দ্রনাথ শুভ্র দাড়িতে মৃদু হাস্য। অপর পাশে নজরুল চোখে বিদ্রোহের ঝিলিক।
বিষয় — “চিকেন চিজ বার্গার বনাম নাগা বার্গার”।
⸻
রবীন্দ্রনাথঃ
“হে নজরুল,
রসনারও একটি সুষমা রহিয়াছে।
যেমন বসন্তের বায়ু কদমফুলে মৃদু আন্দোলন তোলে, তদ্রূপ চিকেন চিজ বার্গারের কোমল স্বাদ হৃদয়-মন্দিরে নিভৃত সঙ্গীতের সৃষ্টি করে।
ইহার পনির গলিয়া পড়ে যেন শ্রাবণের স্নিগ্ধ ধারাপাত।
চিকেনখানি এমন কোমল, যেন শিলাইদহের পদ্মার বুকে ভাসমান মেঘের ছায়া। আজ বরং শুধু চিজ বার্গারটাই না হয় খাইয়া লও।
তুমি যাহা নাগা মরিচ বলিয়া অগ্নিকুণ্ড বহন করিতেছ, তাহা রসনা নহে, রণক্ষেত্র!
ভোজনের পর যদি মানব কেবল ‘হা হা’ করিয়া জল অনুসন্ধান করে, তবে তাহাকে কি আর খাদ্যের আনন্দ বলা যায়?”
⸻
নজরুলঃ
“ঠাকুরমশায়!
আপনার বার্গার শুনিলেই মনে হয়—
সে যেন কেবল শান্তিনিকেতনের বকুলতলায় বসিয়া বাঁশি বাজাইতেছে!
কিন্তু আমি বিদ্রোহী!
আমার রসনায় চাই বজ্রের দহন, আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ!
নাগা বার্গারের এক কামড় মানেই—
জিহ্বায় মহাপ্রলয়ের দামামা!
আপনার ঐ চিজ গলিয়া পড়ে, আর আমার নাগা মরিচ হৃদয়ে জ্বালায় বিপ্লবের অগ্নিশিখা!
যে বার্গার খাইয়া কপালে ঘাম না ফুটিল, চোখে জল না আসিল,
সে আবার কিসের বার্গার?”
⸻
রবীন্দ্রনাথ
“দেখ নজরুল,
সাহিত্যে যেমন কেবল বিদ্রোহে কাব্য সম্পূর্ণ হয় না,
তেমনি খাদ্যে কেবল ঝাল দিলেই মহিমা জন্মে না।
চিকেন চিজ বার্গারের প্রতিটি স্তর এক একটি কবিতার স্তবক।
বানখানি ভূমিকা, চিকেন তাহার মূলকাব্য, আর গলিত চিজ তাহার অন্ত্যমিল।
ইহা ভক্ষণ করিলে মন গাহিয়া উঠে—
‘আজি এ প্রভাতে রসনার কী সুর বাজে!’”
⸻
নজরুল
“আর আমার নাগা বার্গার?
সে কবিতা নহে, সে যুদ্ধের শঙ্খধ্বনি!
প্রথম কামড়ে মনে হয়—
‘বল বীর!
চিরউন্নত মম শির!’
দ্বিতীয় কামড়ে চোখ লাল, তৃতীয় কামড়ে আত্মা পর্যন্ত জাগ্রত!
এই বার্গার কাপুরুষের নহে;
ইহা খাইতে লাগে বীরের কলিজা!”
⸻
এমন সময় ওয়েটার দুই কবির সম্মুখে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই রাখিল।
দুইজনেই নীরব হইয়া একসাথে ফ্রাই তুলিলেন।
রবীন্দ্রনাথ মৃদু হাসিয়া কহিলেন,
“শেষ পর্যন্ত আলুই মানবজাতির প্রকৃত ঐক্য।”
নজরুল উচ্চহাস্যে বলিলেন,
“বিদ্রোহ থাকুক বার্গারে, বন্ধুত্ব থাকুক ফ্রাইয়ে!”