10/03/2020
#করোনা_কতটা_ভয়াবহ?
(সবটা না পড়েন, অন্তত শেষ দুটি প্যারা পড়ুন)
একটা সহজ পরিসংখ্যান দিচ্ছি, কষ্ট করে একটু মিলিয়ে নিন-
১) করোনা ফ্লু প্রথম ছড়িয়েছে চীনের উহান নগরীতে। এটা যে নতুন ধরণের একটা রোগ, এটা বুঝতেই দুই মাস সময় লেগেছে। ততদিনে ব্যাপকভাবে লোকজন আক্রান্ত হয়েছে। উহান নগরী চীনের হুবাই প্রদেশের অন্তর্গত। এই প্রদেশের মোট জনসংখ্যা ৫ কোটি ৮০ লাখ। অথচ এপর্যন্ত চীনে মোট আক্রান্ত ৮০৭৫৭ জন। তার মানে এই আক্রান্তদের সকলে যদি হুবাই প্রদেশের হয়ে থাকে, তাহলেও আক্রান্তের হার দাড়াবে ০.১৩ %। মানে প্রতি হাজারে মাত্র ১ জন! আর যদি সমগ্র চীনের হিসেবে এই আক্রান্তের সংখ্যা দাড়াবে মাত্র ০.০০৬%!
মানে প্রতি লাখে মাত্র ৬ জন!
বুঝুন হিসেবটা! আরে বাবা, আমাদের দেশের সিজনাল ফ্লুতে এর চেয়ে বেশী সংখ্যক লোক আক্রান্ত হয়!
২) আচ্ছা যারা আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের অবস্থাটি একটু বিশ্লেষণ করা যাক-
মোট আক্রান্ত - ১১৪৪৫৮ জন
সুস্থ্য হয়ে ফিরেছেন-৬৪১২০ জন
মৃত্যুবরণ করেছেন-৪০২৭ জন
বর্তমানে এ্যাকটিভ রোগী - ৪৬৩১১ জন
বর্তমানে মাইল্ড কন্ডিশনের রোগী- ৪০৫৪০ জন (৮৮%)
বর্তমানে গুরতর অসুস্থ্য - ৫৭৭১ জন (১২%)
উপরের পরিসংখ্যান থেকে এটা পরিস্কার যে, যতটা আতঙ্কজনক হিসেবে এটা প্রচার হচ্ছে, বিষয়টি ততটা আতঙ্কজনক নয়। উল্লেখ্য এটা বিশ্বব্যাপী পরিসংখ্যান।
৩) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের বয়সভিত্তিক একটি পরিসংখ্যান দেখা যাক-
০ - ৯ বছর বয়সী -------------০(শূন্য);
১০ - ৩৯ বছর বয়সী -------০.২%
৪০ - ৪৯ বছর বয়সী -------০.৪%
৫০ - ৫৯ বছর বয়সী -------১.৩%
৬০ - ৬৯ বছর বয়সী -------৩.৬%
৭০ - ৭৯ বছর বয়সী --------৮.০%
৮০+ বছর বয়সী -----------১৪.৮%
সুতরাং দেখা যাচ্ছে এই রোগে বৃদ্ধদের মৃত্যুর হার সর্বাধিক। আরেকটি পরিসংখ্যান বলছে, যারা মারা গেছেন, তাদের ৭৫% ভাগ রোগীর হৃদরোগ, হাঁপানি, কিডনী রোগ ও ক্যান্সার সহ অন্যান্য জটিলতা পূর্ব থেকেই ছিল। অর্থাৎ বয়স ও বিবিধ জটিল রোগের কারণে, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়েছিল, তারাই এই রোগে মারা গেছে। আরো লক্ষ্য করুন, এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুহার একদম শূন্য। এমনকি কিশোর ও তরুণরাও ঝুঁকির বাইরে।
আমার আগের পোস্টে বলেছি, পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই রোগে মহিলাদের ঝুঁকি পুরুষের অর্ধেক।
৪) মানচিত্র খুলে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলি দেখুন। কোন কোন দেশে সর্বাধিক আক্রান্ত দেখুন- চীন, ইতালী, ইরান, কোরিয়া, জাপান। এখন গুগল থেকে এসকল দেশের বর্তমান গড় তাপমাত্রা দেখুন। দেখবেন, এসব দেশের বর্তমান গড় তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। অথচ চীনের সীমান্ত সংগ্লগ্ন দেশ ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস ও মায়ানমারে এর প্রকোপ তেমন নয়। আরো লক্ষ্য করুন, যেসব দেশের মানুষ অধিক মশলাযুক্ত খাবার খায়, বিশেষ করে যারা হলুদ ও মরিচ খেতে অভ্যস্ত ; তাদের মধ্যে এটির প্রকোপ কম। এই দেশগুলিতে যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তারা আক্রান্ত দেশগুলি থেকে রোগটি বহন করে এনেছেন। আমি নিশ্চিত করে বলছিনা, তবে পরিসংখ্যান কিন্তু এটাই নির্দেশ করছে।
৫)হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে বরং মৃত্যুহার বা এর ভয়াবহতা অনেক বেশী। ভাইরোলোজিস্টদের মতে একটি মাত্র হেপাটাইটিস বি ভাইরাস শরীরে ঢুকলে আপনি এতে আক্রান্ত হতে পারেন। (এইডস বা HIV এর ক্ষেত্রে সংক্রমনের জন্য এই ভাইরাসের সংখ্যাটি হতে হবে কমপক্ষে দশ)। বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি সবচেয়ে বেশী ছড়ায় চুলকাটার সেলুন থেকে, এখন হেপাটাইটিস বি এর ভয়ে কি সেলুনে যাওয়া ছেড়ে, চুলদাড়ির জঙ্গল বানিয়ে বনমানুষ হবেন?
তাহলে জনাব/জনাবা, এবার বলুন কোন হুজুগে পড়ে অকারণে ২০ টাকার মাস্ক ২৫০ টাকায় কিনবেন? আর ৫০ টাকার স্যানিটাইজার ৫০০ টাকায় কিনবেন?
আমাদের ব্যবসায়ীদের কথা বাদই দিলাম, ওরা দাড়ি-টুপি-জোব্বায় যতই মুত্তাকী সাজুক না কেন, ওদের অধিকাংশই মূর্তিমান শয়তান। ওরা একবার নয়, দশবার হজ্জ করতে যেয়ে তিন দশে ত্রিশবার শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর মেরেও কোন লাভ করতে পারেনি। ওদের ভেতরের শয়তানটি ঠিকই বহাল তবিয়তে বেঁচে আছে এবং দিনে দিনে আরো শক্তিশালী হয়েছে। তাইতো ওরা মানুষের জীবন রক্ষাকারী উপাদান নিয়ে মজুদদারী ও জালিয়াতি করতে ভয় পায়না।
কিন্তু তাই বলে আপনারাও! অকারণে ও অপ্রয়োজনীয় ভাবে মাস্ক, স্যানিটাইজার ইত্যাদি কিনে স্টক করছেন! আসলে ব্যবসায়ীদের চেয়েও আপনারাই হচ্ছেন বড় মজুদদার। আপনারা অপ্রয়োজনে মজুদ করে যে সংকট তৈরী করছেন, আগামীকাল গোটা দেশে যদি রোগটি ছড়িয়ে পড়ে, তবে যেসব রোগীদের জরুরী প্রয়োজন এসব জিনিসে, তারা কোথায় পাবেন এসব, বলতে পারেন? তারা তো এসবের অভাবে ভাইরাসটি আরো ছড়াবেন এবং তাতে আক্রান্ত হতে পারেন আপনি কিংবা আপনার প্রিয়জন।
সুতরাং বিবেক করুন, ধর্মবিশ্বাসী হলে খোদার ভয় করুন, নাস্তিক হলে মানবিকতা করুন, মিনিমাম লজ্জা তো করুন।
'জুতা আবিস্কার' কবিতাটির কথা মনে নেই? যেখানে মুচি রাজাকে বলেছিল, 'গোটা পৃথিবী নয়, তোমার পা'দুটো চামড়া দিয়ে ঢেকে দাও, তবেই ধুলো থেকে তুমি বেঁচে যাবে।'
এক্ষেত্রে সবাই নয়, বরং যারা ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত কেবল তারাই মাস্ক ব্যবহার করুন। স্যানিটাইজার এর দরকার নেই, লাইফবয় জাতীয় সাবান ব্যবহার করুন। না পেলে, লেবু কচলে সেটা দিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে ফেলুন। তাও না পেলে গরম পানিতে হাত-মুখ ধুয়ে ফেলুন অথবা চুলার আগুনে হাত সেঁকে নিন। কিন্তু ভুলেও মাস্ক, স্যানিটাইজার, জীবানুনাশক কিনে স্টক করবেন না। আল্লাহ কি ওয়াস্তে প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ!!!