11/01/2026
আইনের একটি ভুল ব্যাখ্যার অবসান হলো।
১ম স্ত্রীর অনুমতির বাধ্যবাধকতা কখনই ছিলো না, ছিলো শুধু শালিসি পরিষদের অনুমতির বিধান। আজকে বিষয়টি মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের মাধ্যমে আরো ক্লিয়ার হলো।
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (The Muslim Family Laws Ordinance, 1961) এর ৬ ধারা (Polygamy) এর মূল টেক্সট বা বিধানসমূহ নিম্নরূপ:
ধারা ৬। বহুবিবাহ (Polygamy)
(১) কোনো পুরুষ তাহার বর্তমান বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায়, সালিসী পরিষদের (Arbitration Council) লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে অন্য কোনো বিবাহ করিবেন না।
(২) উপধারা (১) এর অধীন অনুমতির জন্য নির্ধারিত ফী জমা দিয়া নির্ধারিত পদ্ধতিতে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করিতে হইবে এবং উক্ত আবেদনপত্রে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণ, প্রয়োজনীয়তা ও এ বিবাহে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সম্মতি আছে কিনা, তাহা উল্লেখ করিতে হইবে।
(৩) উপধারা (২) এর অধীন আবেদনপত্র পাওয়ার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারী এবং তাহার বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণকে তাহাদের নিজ নিজ প্রতিনিধি মনোনয়ন করিতে বলিবেন এবং উক্ত প্রতিনিধিগণকে লইয়া সালিসী পরিষদ গঠিত হইবে।
(৪) সালিসী পরিষদ যদি মনে করেন যে, প্রস্তাবিত বিবাহটি প্রয়োজনীয় এবং ন্যায়সঙ্গত (Necessary and Justified), তাহা হইলে তাহারা লিখিত অনুমতি দিতে পারিবেন এবং এই সিদ্ধান্তের কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করিবেন।
(৫) যে কোনো পুরুষ সালিসী পরিষদের অনুমতি ব্যতিরেকে অন্য কোনো বিবাহ করিলে তিনি—
(ক) অবিলম্বে তাহার বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সমস্ত দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করিবেন, উহা তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য (prompt) হউক বা বিলম্বিত (deferred) হউক। যদি উহা পরিশোধ করা না হয়, তাহা হইলে উহা বকেয়া রাজস্বের ন্যায় আদায় করা হইবে; এবং
(খ) অভিযোগক্রমে দোষী সাব্যস্ত হইলে তাহাকে এক বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা (বর্তমানে আইন অনুযায়ী পরিবর্তিত) অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হইবে।