21/01/2018
শিমু আক্তার।সারাক্ষনই তার মুখভর্তি হাসি! কথায় জড়তা আছে। ও সাভার উইলিয়াম এ্যান্ড মেরী টেইলর স্কুলের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী।
শিমু একজন সেরিব্রাল পালসি (সিপি) প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। ওর মা ছাত্রদের হোস্টেলে রান্নার কাজ করে আর বাবা এক্সসিডেন্ট হওয়ায় বর্তমানে অনির্দিষ্টকালের জন্য বেকার।
আমাদের অনেকের কাছে 'সামান্য' পরিমাণের কিছু অর্থের অভাবে শিমুর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল...এরকমই একটা সময়ে জানতে পারে ওর কথা, অ্যাসোসিয়েশান অব পার্সনস উইথ সেরিব্রাল পালসি (এপিসিপি)'র মাধ্যমে।
এ'বছর (জানুয়ারী ২০১৮-) থেকে শিমুর লেখাপড়ার যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নিয়েছে আর অ্যাসোসিয়েশান অব পার্সনস উইথ সেরিব্রাল পালসি (এপিসিপি)।................................................................................
সবার জন্য শিক্ষা। শিক্ষার অধিকার মৌলিক মানবাধিকার। নানান কারণে আমাদের দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির মাঝে শিক্ষার হার অনেক কম, বিশেষ করে যাদের সেরিব্রাল পালসি (সিপি) রয়েছে। এর মূল কারণ দারিদ্র্য।
একটি বেসরকারী সুত্রমতে, আমাদের দেশে ১৮ বছরের নীচে তিন লাখেরও বেশি সিপি প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগ সিপি প্রতিবন্ধী শিশুই দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ থেকে একেবারে বঞ্চিত। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান হবার ফলে অর্থের অভাবে এরা স্কুলে ভর্তি হতে পারে না। সহায়ক উপকরণ না থাকার কারণে দৈনন্দিন চলাচল এবং কাজ করার ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়।................................................................................
আমাদের দেশের অনেক সমস্যা যেমন রয়েছে, অনেক সমাধানও হাতের নাগালেই হয়ত রয়েছে। কমিউনিটি পর্যায়ে ছোট ছোট পরিবর্তন আনয়নের মাধ্যমে আশাবাদী, positive-spirited প্রজন্ম ও অর্থবহ, Inclusive সমাজ-ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে সম্পুর্ণ ব্যক্তিগত একটি উদ্যোগঃ চেইঞ্জ ফর হোপ বাংলাদেশ ( )।
এপিসিপি'র ( ) পাশে থেকে চেইঞ্জ ফর হোপ ( ) এবছর (২০১৮) থেকে এরকমই কয়েকজন হতদরিদ্র পরিবারের সিপি প্রতিবন্ধী শিশু সন্তানদের দৈনন্দিন জীবনধারণ সহায়ক উপকরণ এবং শিক্ষা সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।
আশা করছি, শুভাকাংক্ষীরা বরাবরের মত আমাদের পাশে থাকবেন। এভাবেই আসবে পরিবর্তন।