26/03/2020
জানি না আগামী ২ সপ্তাহে কি হবে, সবাই একসাথে না হলে এই দূর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব নয়।
হাসপাতালের জন্য পিপিই খুব জরুরী এখন, সময় চলে যাচ্ছে।
"বাংলাদেশে এখন SARS-CoV-2 ভাইরাসটির কমিউনিটি ট্রান্সমিশন স্টেজে পৌছে গেছে।বিদেশ ফেরত কারো সংস্পর্শ ছাড়াই আপনি আক্রান্ত হওয়ার ঝুকিতে আছেন।যেকোন মুহূর্তে আপনি আমি যে কেউ আক্রান্ত হতে পারি।
খুব জরুরি কয়েকটি তথ্য এ মুহূর্তে আমাদের
জেনে রাখতে হবে এবং সমগ্র দেশবাসীকেও জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
খুব মনোযোগ দিয়ে চেষ্টা করবেন বিষয় গুলো বুঝে নিতে।
✏কি কি উপসর্গ দেখলে বুঝবেন
আপনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে?
🍂সাধারণত নোভেল করোনা ভাইরাসটি আপনার শরীরে প্রবেশের ২-১৪ দিনের মাঝে আপনি উপসর্গ অনুভব করা শুরু করবেন।
🍂প্রথমত শুষ্ক কাশির মাধ্যমে এই রোগের লক্ষ্মণ প্রকাশিত হয়।এসময় সব কিছুতেই একধরনের ভালো না লাগা কাজ করে,ক্লান্তি অনুভূত হয় এবং ক্ষুধা মন্দা দেখা দেয়।
🍂এরপর শুরু হয় জ্বর।
প্রথম দিকে জ্বরের তীব্রতা খুব বেশি হয়না(১০০-১০১ ফারেনহাইট)।জ্বরের সাথে গা ম্যাজমেজে ভাব ও কখনো কখনো তীব্র গা ব্যাথাও অনুভূত হয়।
🍂 যদিও প্রথম থেকেই গলায় অস্বস্তি,হালকা ব্যাথা হতে থাকে তবে লক্ষ্মণ প্রকাশের ৫/৬ দিনে এসে এই গলা ব্যাথা তীব্র আকার ধারণ করে।ঢোক গিলতে বা খাবার খেতেও এই সময়টায় কষ্ট হয়।
🍂এ সময়টায় কিছুটা শ্বাসকষ্ট অনুভব হতে পারে
তবে সেটির মাত্রা খুব একটা তীব্র হয়না।
🍂কারো কারো ক্ষেত্রে উপরুক্ত উপসর্গ গুলো ছাড়াও নাক বন্ধ হয়ে থাকা,নাক দিয়ে পানি পড়া,মাথা ব্যাথা বা ডাইরিয়ার মত নরমাল ফ্লুয়ের উপসর্গ গুলো দেখা দেয়।
🍂সাধারণত এই পর্যায়ে এসেই প্রায় ৮০% রুগির উপসর্গ কমতে শুরু করে।জ্বর কমে আসে।গলা ব্যাথা ও শ্বাসকষ্টও কমতে শুরু করে।কয়েকদিনের মাঝে রুগি প্রায় সম্পূর্ণ সুস্থ অনুভব করে।
🍂নোভেল করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রুগিদের মাঝে বাকি ২০% রুগির, ৮/৯ দিন পর এসেও উপসর্গ গুলো না কমে জ্বরের তীব্রতা বাড়তে শুরু করে,তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়,বুকে পিঠে চাপ দিয়ে ব্যথা হতে থাকে।কখনো কখনো রুগী জ্ঞান পর্যন্ত হারিয়ে ফেলতে পারে।
এই অবস্থায় রুগীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা প্রদানের প্রয়োজন দেখা দেয়।
✏উপসর্গ দেখা মাত্রই কি হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিৎ?
🍂আপনার শরীরে যদি উপরুক্ত উপিসর্গ সমূহ দেখা যায় এবং আপনি যদি মনে করেন আপনি নোভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তবে কোন অবস্থাতেই প্রাথমিক পর্যায়ে আপনার হাসপাতালে যাওয়া উচিৎ হবেনা।এ সময় আপনার উচিৎ হবে আইইডিসিআর, জাতীয় সাস্থ্য বাতায়ন বা সাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনে যোগাযোগ করে পরামর্শ গ্রহণ করা এবং সেই পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় আইসোলেটেড হয়ে থাকা।
🍂করোনা ভাইরাস সন্দেহে এই অবস্থায় আপনি ডাক্তারে নিকট বা হাসপাতালে গেলে আপনি যদি সাধারণ সিজিনাল ফ্লুতেও আক্রান্ত হয়ে থাকুন তবেও ডাক্তার বা হাসপাতাল থেকে আপনার শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে।
✏উপসর্গ প্রকাশের সাথে সাথেই কি টেস্ট করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন আপনি নোভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা?
🍂শুধু বাংলাদেশে নয় সমস্ত পৃথিবীতেই SARS-CoV-2 ভাইরাস শনাক্তকারী কিটের স্বল্পতা রয়েছে।সেকারণে রুগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকা অবস্থায় এই টেস্ট করা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন ও সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল আন্ড প্রিভেনশন,আমেরিকার পরামর্শ রয়েছে।
🍂সুতরাং ধৈর্য ধারণ করুন।ফোনে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
✏উপসর্গ দেখে যদি আপনি মনে করেন নোভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন অথবা পরীক্ষার মাধ্যমে যদি নিশ্চিত হয়ে থাকেন তাহলে কি করবেন?
🍂আপনার মাঝে জ্বর,কাশির,গলা ব্যাথার মত মৃদু উপসর্গ গুলো যখন থেকে দেখা যাবে তখনই থেকেই নিজের চলাচল সীমাবদ্ধ করুন।পরিবারের অন্যদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
🍂নিজেকে একটি পৃথক কক্ষে আবদ্ধ রাখুন,
সম্ভব হলে পৃথক শৌচাগার,গোসলখানা ব্যবহার করুন।
🍂থালা,গ্লাস থেকে শুরু করে নিত্য ব্যবহার্য্য সকল কিছু আলাদা করুন।ব্যবহারের পর পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সাবান নিয়ে বা জীবাণুমুক্ত করার দ্রবণ ব্যবহার করে আপনার ব্যবহৃত থালাবাসন জীবাণুমুক্ত করুন।
🍂আপনার প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বা খাদ্য আপনার দরজার ২ মিটার দূরে রেখে যেতে বলুন।
🍂ঘরের মেঝে ও অন্যান্য আসবাব পত্র জীবাণুমুক্ত রাখুন।
🍂গৃহপালিত পশু থেকেও দূরে থাকুন।
🍂নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।আপনার প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যে আপনার ঘরের সামনে পৌছে দিচ্ছে তাকেও মাস্ক পরিধান করতে বলুন।
🍂হাচি বা কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করুন।ব্যবহার শেষে টিস্যুটি আবদ্ধ পাত্রে ফেলে দিন,রুমালটি সাবান দিয়ে ধৌত করুন।
🍂নিয়মিত হাত ধৌত করুন,প্রয়োজনে অ্যালকোহল যুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত রাখুন।
✏এই অবস্থায় কি ওষুধ খাবেন?
🍂এই রোগে কার্যকর কোন ঔষধ এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করনি।সুতরাং উপসর্গ অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শ মতে আপনাকে ঔষধ গ্রহণ করতে হবে।
🍂শরীরের তাপমাত্রা কম রাখার জন্য ছয় ঘন্টা পর পর প্যারাসিটামল ৫০০ মিঃগ্রাঃ খেতে পারেন সে সাথে সর্দির মত উপসর্গ থাকলে ফেক্সোফেনাডিন
বা ডেসলোরাটিডিনের মত ঔষধ খাওয়া যেয়ে পারে।
🍂মনে রাখবেন শরীর ব্যথার জন্য কোন ধরনের ব্যাথার ঔষধ গ্রহণ করা আপনার জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিত কোন ধরনের এন্টিভাইরল বা এন্টিবায়োটিক ঔষধ গ্রহণ থেকেও বিরত থাকুন।
🍂 ডায়রিয়ার মত উপসর্গ দেখা দিলে নিয়মিত বিরতিতে খাবার স্যালাইন গ্রহণ করুন তবে সেক্ষেত্রে আপনার উচ্চরক্তচাপ,হৃদরোগ বা কিডনি ডিজিজ রয়েছে কিনা বিবেচনা করুন।
✏কোন ধরনের খাবার গ্রহণ করবেন?
🍂এই সময় আপনাকে প্রচুর পরিমান তরল গ্রহণ করতে হবে যাতে জ্বরের কারণে শরীরে পানি শুন্যতা তৈরি না হয়।খালি পানি গ্রহণ কখনো কখনো আমাদের শরীর থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় সোডিয়াম ও পটাশিয়াম বের করে দেয়।তাই পানির সাথে খুবই সামান্য পরিমান লবণ মিশিয়ে নিতে পারেন।খুবই ভালো হয় যদি আপনি হিমালয়ান পিংক সল্ট ব্যবহার করতে পারেন।
🍂আপনার খাদ্য তালিকায় আঁশযুক্ত,ভিটামিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার রাখতে চেষ্টা করুন।এই সময়ে ভিটামিন এ,ডি ও সি বেশি গ্রহণ করতে চেষ্টা করুন।
🍂খেয়াল রাখবেন খাবারটি যেন সহজপাচ্য ও পরিমিত ক্যালিরিযুক্ত হয়।
🍂এ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ করুন,মানসিক ভাবে চাঙ্গা থাকার চেষ্টা করুন। বই পড়ুন,গান শুনুন,মুভি দেখুন এবং অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনায় নিমগ্ন থাকুন।
✏কখন আপনি বুঝবেন জরুরি ভিত্তিতে আপনার মেডিকেল সাপোর্ট দরকার?
🍂আপনার হাসপাতাল ফ্যাসিলিটি তখনই দরকার হবে যখন আপনি তীব্র শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে শুরু করবেন।এই ক্ষেত্রে আপনি বুকে পিঠে চাপ এবং ব্যথা অনুভব করবেন।খেয়াল করবেন শ্বাসকষ্টের সাথে সাথে আপনার মুখ বা ঠোট নীল বর্ণ হয়ে যাচ্ছে কিনা।এই অবস্থায় জ্বরের তীব্রতা এমন হতে পারে যে আপনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে এরূপ মনে হতে শুরু করবে।
🍂এই লক্ষ্মণ গুলো দেখলে আপনি হটলাইনের নাম্বার গুলোতে ফোন করবেন বা ফোনে সংযোগ পেতে ব্যার্থ হলে আপনার নিকটস্থ নোভেল করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের সহায়তা গ্রহণ করবেন।
🍂তবে যেকোন ডাক্তারের নিকট বা হাসপাতালে যাওয়ার পূর্বে অভশ্যই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যেতে চেষ্টা করুন।
🍂ডাক্তারের কক্ষে বা হাসপাতালে প্রবেশের পূর্বে অভশ্যই মাস্ক পরিধান করে তারপর প্রবেশ করুন।
✏কতটা সুস্থ্য অনুভব করলে আপনার আইসোলেশনে
বা আলাদা কক্ষে থাকার আর প্রয়োজন নেই?
🍂প্যারাসিটামল খাওয়া ছাড়াই যদি
লাস্ট ৭২ ঘন্টা বা তিন দিনে আপনার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে।
🍂সেই সাথে কাশি,শ্বাসকষ্টের মত উপসর্গ গুলো যদি কমতে শুরু করে।
🍂এবং প্রথম লক্ষ্মণ প্রকাশিত হওয়ার ৭ তম দিন যদি আপনি অতিবাহিত করে থাকেন।
🍂যদি টেস্ট করার সুযোগ থাকে সেক্ষেত্রে
২৪ ঘন্টার ব্যবধানে দুই বার পরীক্ষার ফলাফল যদি নেগেটিভ আসে তখন আপনার আর আইসোলেশনে থাকার প্রয়োজন নেই।
🍂 বাসার একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত
হলে বাকি সদস্যরা অবশ্যই ১৪ দিন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে(সার্বক্ষণিক বাসাতেই অবস্থান)
থাকুন।
কোভিড-১৯ রোগটি সম্পর্কে মুটামুটি একটা ধারণা দেবার চেষ্টা করেছি আপনাদের যাতে আপনারা সতর্ক থাকতে পারেন,নিরাপদে থাকতে পারেন এবং আতংক মুক্ত থাকতে পারেন।
মনে রাখবেন ৮০% ক্ষেত্রে এই রোগ সাধারণ সর্দি-জ্বরের মত। সাত থেকে সর্বোচ্চ দশ দিনের ভেতর নিজে নিজেই সেরে যায়।আপনার কাজ হচ্ছে সে পর্যন্ত শারীরিক ও মানসিক শক্তি অটুট রাখা।
আপনার পরিবারের বয়স্ক ও যাদের অন্যান্য
শারীরিক সমস্যা (ডায়বেটিস,উচ্চ রক্তচাপ,
হৃদরোগ,হাপানী প্রভৃতি রোগ) রয়েছে তাদের দিকে খেয়াল রাখুন।এই মানুষ গুলোই মোট রুগীদের ২০% যারা আক্রান্ত হলে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটবে,হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেবে,আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন পড়বে।
সকলেই সচেতন থাকুন,আগামী কিছুদিন নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখুন।এতেই আপনার আমার সকলের মঙ্গল নিহিত। প্রয়োজনে হেল্পলাইনে ডাক্তারদের পরামর্শ গ্রহণ করুন।আমাকেও কল করতে পারেন।
মানবতার এই ক্রান্তিলগ্নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করুন।
কোভিড-১৯ রোগটি নিয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে পোস্টটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পোস্টটি শেয়ার করুন।