18/04/2016
- ভাইয়া, কলা ভবনটা কোন দিকে?
পেছন ফিরে দেখলাম গোল গোল একটা মেয়ে, কিছুটা প্রাইমারীর ম্যাডামের মত ৷
- সামনেই... (আমি)
- কলা ভবনেই ৪নং রুমে আমার সিট পড়েছে, রুমটা একটু দেখিয়ে দেবেন?
- আচ্ছা চলেন
আজ কলেজে এডমিশন পরিক্ষা হচ্ছে ৷ মেয়েটা এডমিশন পরিক্ষা দিতেই এসেছে ৷ কিন্তু নাম ঠিকানা কিছুই জানা হলো না ৷ মেয়েটা এমনিতেই ৫ মিনিট দেরি করে ফেলেছে ৷ তাই তাকে তাড়াতাড়ি রুমে পৌছে দিয়ে আমি আমার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে চললাম ৷
·
প্রায় দুই মাস পর, সেদিন ক্লাস থেকে বের হচ্ছি, দেখি মেয়েটা নোটিশ বোর্ড দেখছে ৷
- এই মেয়ে, এদিকে শোনো ৷ (আমি)
ভয়ে ভয়ে সামনে আসলো,
- আমাকে ডাকছিলেন? (মেয়ে)
- আশেপাশে আর কাউকে তো দেখছি না
- ওহ, বলেন
- চিনতে পেরেছো আমাকে
- না তো
- হুম, দরকার ফুরিয়ে গেলে কি আর চেনা যায়?
- মানে?
- কিছু না, যাও...
মেয়েটা চলে যেতে যেতে আবার ফিরে আসলো,
- সেদিনের উপকারের জন্য ধন্যবাদ প্রিতম ৷ (মনেহলো বড়ভাই না, ক্লাসমেটের সাথে কথা বলছে)
- তুমি আমার নাম জানলে কিভাবে?
- দরকার ফুরিয়ে গেলে যারা ভুলে যায়, আমি তাদের দলে না
- সেজন্যেই কি দুইমাস পরে ধন্যবাদ দিচ্ছো?
- এরমধ্যে তো আপনার সাথে দেখা হয়নি ৷ আচ্ছা চলেন সুদ স্বরূপ আপনাকে ঝালমুড়ি খাওয়াবো
- আজ সময় নেই, অন্য একদিন হবে
- Ok
- তোমার নাম?
- মেঘা
- আচ্ছা আসি, বাই
- বাই
চলে আসলাম, কিন্তু মেয়েটা আমার নাম জানলো কিভাবে? নাম জানাটা খুব কঠিন কাজ না ৷ তবে মেয়েটা আমার খোজ নিয়েছে এটা বুঝলাম ৷
:
তারপর থেকে মাঝে মাঝেই কথা হতো আমাদের ৷ তবে সেটা খুব সামান্য ৷ কিন্তু কিভাবে যেন মেঘার প্রতি মনে একটা দুর্বলতা তৈরী হলো, কিন্তু বুঝতে দিলাম না ৷ যতই দিন যেতে থাকে ততই সেটা বাড়তে থাকে ৷ একসময় ভালবাসায় রূপ নেয় ৷ লুকিয়ে লুকিয়ে ওকে দেখতে ভালই লাগতো ৷ কিন্তু এভাবে আর কত দিন? একদিন সাহস করে বলতে গেলাম,
- মেঘা, ব্যস্ত নাকি? (আমি)
- না, কিছু বলবেন?
- হুম, সময় হবে তোমার?
- সিরিয়াস কিছু?
- আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ৷
- আচ্ছা, বলেন ৷
- চলো কোথাও বসে বলি ৷
- Ok
:
- বলেন কি বলবেন?
- মেঘা আমি জানিনা কথাগুলো তুমি কিভাবে...
ফোনটা বেজে উঠলো ৷ রাহাতের কল ৷ মনে মনে ৩৬৭ টা গালি দিয়ে ফোনটা ধোরলাম ৷
- দোস্ত কোথায় তুই? (রাহাত)
- ক্যাম্পাসে আছি, কেন? (আমি)
- এখুনি আমার মেসে আয়
- কি হয়েছে?
- আয় তারপর বলছি
- Ok, আসছি
:
মেঘার সাথে পরে কথা বলবো বলে বিদায় নিয়ে রাহাতের মেসে গেলাম ৷
- কিরে, কি হয়েছে? (আমি)
- তোকে বলেছিলাম না, বাড়িওয়ালার মেয়ের সাথে আমার রিলেশানের কথা ৷
- হুম, তো কি হয়েছে?
- বাড়িওয়ালা জেনে গেছে, আর আজই আমাকে চলে যেতে হুমকি দিয়ে গেছে ৷
- কি করবি এখন?
- বুঝতে পারছি না ৷
- Ok, আপাতত আমার বাসায় চল ৷
:
আমার রুমে বসে আছি, রাহাত ওর গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছে ৷ কিছুক্ষন কথা বলে আসলো,
- দোস্ত, ও আমার সাথে পালাতে চায় ৷ (রাহাত)
- কিন্তু তুই তো এখনো কোন চাকরি যোগাড় করতে পারিসনি ৷ (আমি)
- চাকরি আমার হবে না ৷ তাই ভাবছি ওকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি তলে যাবো ৷
- আমায় কি করতে হবে?
- আমি স্টেশনে অপেক্ষা করবো, তুই ওকে কলেজ থেকে নিয়ে আসবি ৷
- কিন্তু আমি তো চিনি না ৷
- আমি তোকে ওর ফোন নাম্বার আর ছবি দিচ্ছি ৷
তারপর একটা ছবি আমার হাতে ধরিয়ে দিল ৷ কিন্তু একি দেখছি? এটা তো মেঘার ছবি ৷ তারমানে মেঘা আর রাহাত একে অপরকে ভালবাসে?
রাহাতকে "ঠিক আছে" বলে ছাদে আসলাম ৷
নিজেকে দেখে নিজেরই হাসি পাচ্ছে ৷ কাল আমার ভালবাসাকে তার ভালবাসার হাতে তুলে দেবো আমি নিজেই ৷ জীবনে এমন সময়ও আসবে কখনো ভাবিনি ৷ উপরের দিকে একবার তাকালাম, কাউকে দেখতে পেলাম না ৷ তাই মনের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রশ্নগুলো মনের মধ্যেই আত্মহত্যা করলো ৷
:
( কাউকে ভালবাসা মানে শুধু তাকে কাছে পাওয়া নয়, বরং তাকে তার সুখের ঠিকানায় পৌছে দেওয়ারও দায়িত্ব নেওয়া ৷ যদি সে অন্য কারো কাছে তার সেই সুখ খুজে পায় তাহলেই আমার ভালবাসা সফল ৷ আর সেই সুখের ঠিকানায় পৌছে দেওয়ার সুযোগ খুব কম প্রেমিকই পায় ৷ )
: