20/09/2025
সুবীর নন্দীকে আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। কেন জানেন?
আধুনিক বাংলা গানের চেনা মুখ সুবীর নন্দীর মধ্যে সাংগীতিক গোঁড়ামি ছিলনা। তিনি নতুনকে গ্রহণ করতে পারতেন।
সেই আশির দশক থেকে অনেকেই, অনেক শিল্পীরা ব্যান্ডসংগীতকে অপসংস্কৃতি বলতেন। নাক সিঁটকাতেন। তরুণ প্রজন্ম নাকি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এইসব ব্যান্ডসংগীতের কারনে। এখনো অনেক মুরুব্বীই এমন করেন।
সুবীর নন্দী ছিলেন সেইসব প্রতিষ্ঠিত মূলধারার আধুনিক সংগীতশিল্পীদের মধ্যে একজন, যিনি ব্যান্ড কালচারকে অপসংস্কৃতি বলেননি। উৎসাহ দিয়েছেন। নিজে অংশও নিয়েছেন। প্রশংসা করেছেন।
বিটিভির বিখ্যাত জলসা অনুষ্ঠানে 'ফিডব্যাক' এর গান, গীতি কবিতা ২ (ধন্যবাদ ভালোবাসা) সুবীর নন্দীর কণ্ঠে শোনা যায়। ভিডিও আছে। ফিডব্যাকের সদস্যরা বাজিয়েছিলেন, তিনি গেয়েছিলেন। আমার ভালো লাগে এই ভার্সনটা।
এই জলসা অনুষ্ঠানটি একেবারে অন্যরকম ছিলো। ব্যান্ড এবং আধুনিক-তখনকার মূলধারার গানের বিখ্যাত শিল্পীরা সেখানে ছিলেন। সুন্দর তর্ক-বিতর্ক, দুই ধরণের গান নিয়ে প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গি কী, সেই কথাবার্তা হয়েছিলো। সেখানে যার যার বিপরীত জনরার গান পরিবেশন করেছিলেন শিল্পীরা।
প্রথম আলোতে দেওয়া একটি সুবীর নন্দী ব্যান্ড অপসংস্কৃতি কি না, এই আলাপে বলেছিলেন,
‘আমি বিশ্বাস করি, সংগীত সবটাই সংগীত। সংগীতে ‘অপ’ বলতে কিছু নেই। আমাদের দেশে অনেক পণ্ডিতশ্রেণির সমালোচক পপ সংগীত কিংবা ব্যান্ড সংগীতকে নাক সিটকান। এটা আমাকে খুব ব্যথিত করে। একটা জিনিসকে আমি জানলাম না ভালো করে, বলে ফেললাম জাত গেল, জাত গেল। এটা ঠিক নয়। কারণ, আমাদের পপ ও ব্যান্ডের আন্দোলন অনেক এগিয়ে গেছে।''
এটাই তো হওয়া উচিত। কাউকে না বুঝে খারিজ করায় কোনো মহত্ব নেই। বিকশিত হতে দিতে হয়। সময় পালটায়। ধরণ ও ধারণ পালটায়। স্বাগত জানাতে হয়। দশকে দশকে তো পালটায় গানের গতিপ্রকৃতি, আজকাল। মোটা দাগে।