08/10/2021
‘ওমর রাযি.-এর কন্যা হাফসাহ রাযি.। তাঁর স্বামী খুনায়স সাহ্মি রাযি.। তিনি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একজন অন্যতম সাহাবি ছিলেন এবং বদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। পরের বছর উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে আহত হয়ে যান। মদিনায় এসে ইন্তিকাল করেন। ফলে হাফসাহ রাযি. হয়ে যান বিধবা এবং ইদ্দত পালন শেষ করে নেন।
ওমর রাযি. বলেন, তখন আমি ‘উসমান ইব্নু আফফানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর নিকট হাফসাহ্র কথা উল্লেখ করে তাঁকে প্রস্তাব দিয়ে বললাম, "আপনি চাইলে করলে আমি আপনার সঙ্গে ওমরের মেয়ে হাফসাহ্র বিয়ে দিয়ে দেব।"
উসমান রাযি. বললেন, ব্যাপারটি আমি একটু চিন্তা করে দেখি।
ওমর রাযি. বলেন, আমি কয়েকদিন অপেক্ষা করলাম। কয়েকদিন পরে ‘উসমান (রাযি.) এসে জানালেন, আমার স্পষ্ট মতামত হচ্ছে, আপাতত আমি বিয়ে করব না।
‘ওমর রাযি. বলেন, এরপর আমি আবুবাক্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে বললাম, আপনি ইচ্ছা করলে ‘উমারের কন্যা হাফসাকে আমি আপনার নিকট বিয়ে দিয়ে দেব।
আবুবকর রাযি. প্রস্তাবটি শুনে একেবারে চুপ করে রইলেন, কোন জবাব দিলেন না।
আবুবকরের এই আচরণে আমি ‘উসমানের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবার চেয়েও অধিক দুঃখ পেলাম।
এরপর আমি কয়েকদিন চুপ করে থাকলাম।
এই অবস্থায় একদিন হাফসাকে বিয়ের জন্য রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেই প্রস্তাব দিলেন।
আমি হাফসাকে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিলাম।
এরপর আবুবকর রাযি. আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসলেন।
বললেন, আমার সঙ্গে হাফসার বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার পর আমি আপনাকে কোন উত্তর না দেয়ার কারণে সম্ভবত আপনি মনোকষ্ট পেয়েছেন।
আমি বললাম, হ্যাঁ।
তখন আবুবকর রাযি. বললেন, শোনেন, আপনার প্রস্তাবের জবাব দিতে একটি জিনিসই আমাকে বাধা দিয়েছিল আর তা হলো এই যে, আমি জানতাম, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেই হাফসাহ রাযি.-কে বিয়ে করার সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তাই রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গোপনীয় বিষয়টি প্রকাশ করার আমার ইচ্ছে ছিল না।
যদি পরবর্তীতে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাফসাকে বিয়ে না করতেন, হাফসাকে অবশ্যই আমি বিয়ে করে নিতাম।
__সূত্র : সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ৪০০৫
হাদিস থেকে যা পেলাম-
১. বিধবা কিংবা তালাকাপ্রাপ্তা নারীদের ইদ্দতের পর অন্যত্র বিয়ের ব্যাপারে অভিভাবকদের দায়িত্ব এসে যায়।
২. বিয়ের প্রস্তাব অভিভাববকগণ সরাসরি পাত্র/পাত্রীকে দেয়াটা আত্মমর্যাদা হানিকর নয়। কিংবা লজ্জা বা দোষের কিছুই নেই।
৩. এক জায়গায় প্রস্তাব দেয়ার পর সেখান থেকে হ্যাঁ-না জবাব আসার আগ পর্যন্ত অন্য জায়গায় প্রস্তাব দেয়া হারাম।
৪. শশুড় থেকে জামাই বয়সে বড় হলেও সমস্যা নেই। যেমন এখানে ওমর রাযি. থেকে আবুবকর এবং উসমান রাযি. উভয়ে বয়সে বড়।
৫. আত্মীয়র মাঝে আত্মীয় তৈরি করা কোন নিন্দনীয় বিষয় না। অথচ কোন কোন সমাজে এটা পছন্দ করে না।
৬. বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা কিংবা ডিভোর্সি হবার পর অবশ্যই নির্ধারিত ইদ্দত পালন করতে হবে। ইদ্দতের আগে অন্যত্র বিয়ে হারাম।
-------
দরসুল বুখারি-২
(গতকালের ৭/১০/২১)