07/02/2024
বিমান যাত্রার কিছু শিষ্টাচার – যা অবশ্যই মেনে চলবেন
বিমান যাত্রা বেশির ভাগ সময়ই রোমাঞ্চকর। প্রথম বিমান ভ্রমণের গল্প অনেকেরই স্মৃতিতে জীবন্ত থাকে চিরকাল। তবে বিমান যাত্রায় কিছু শিষ্টাচার আপনাকে একজন ভাল যাত্রী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। এই আধুনিক যুগে বাস করেও কেনই না আপনি পিছিয়ে থাকবেন। যেনে নিন বিমান ভ্রমণের কিছু শিষ্টাচার।
বিমান ভ্রমণে শিষ্টাচার
১। সিট খুঁজে বের করা ও ব্যাগ ঠিকঠাক করা:
বিমানে নিজের সিট নিজেই খুঁজে নিন। অনেক সময়েই যাত্রীরা তাদের ব্যাগ ঠিকঠাক ওভারহেড কম্পার্টমেন্টে ঢোকান না। অনেকেই যাতায়াতের রাস্তাতে ব্যাগ ফেলে রাখেন। ফলে অন্যের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেন।
২। ব্যাগ নিজের দায়িত্বে রাখুন:
বিমানে মূলত ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা ব্যাগ এর বিষয়ে সহায়তা করে থাকে। তবে সব যাত্রীই যদি আশা করে যে, তাদের ব্যাগ একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ঠিক করে দেবে, তাহলে তা একটু কঠিন। শত শত যাত্রীর ভারি ব্যাগ ওপরে তোলা যেমন কঠিন; তেমন এতে সময়ও নষ্ট হয়। আপনি যদি সুস্থ-সবল ব্যক্তি হন তাহলে নিজের কাজটি নিজেই করতে চেষ্টা করুন।
৩। অবশ্যই ভদ্র ব্যবহার করুন:
বিমানে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের সাথে কথা বলার সময় ‘প্লিজ’ বা ‘ধন্যবাদ’ শব্দগুলো ব্যাবহার করুন। কখনই তাদের সাথে খারাপ আচরণ করবেন না। মনে রাখবেন কর্মক্ষেত্রে ভদ্র আচরণ পাওয়া প্রত্যেক কর্মীরই অধিকার।
৪। দৃষ্টি যথাসম্ভব সংযত রাখুন:
বিমানের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট নারী বা পুরুষ হেঁটে যাওয়ার সময় অনেকেই তাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন, যা তাদের স্বাভাবিক কাজের বিঘ্ন ঘটায়। এছাড়াও অনেকেই বিমানের ভেতর তাদের কাজের স্থানে উঁকি মেরে তাদের কার্যক্রম লক্ষ্য করার চেষ্টা করেন। তাদের এমন আচরণে বিমানের কর্মীদের কাজে যে শুধু ব্যাঘাত ঘটে তাই নয়, এতে করে তারা অস্বস্তিতেও পড়ে যান।
৫। স্টিকার ব্যবহার করুন:
বিশ্বের অধিকাংশ বড় ফ্লাইটেই সিটের সঙ্গে একটি স্টিকার দেওয়া থাকে। এতে লেখা থাকে, ‘খাবারের সময় আমাকে ডেকে দিও।’ এমন স্টিকার থাকলে খাবার দেওয়ার সময় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট আপনাকে নিশ্চিন্তে ডেকে দেবেন। এমন স্টিকার না থাকলে খাবারের সময় ডাকলে বা না ডাকলেও বিরক্ত হন। তাই আপনি আপনার প্রয়োজন বুঝে স্টিকারটি ব্যবহার করুন।
৬। খাবারের জন্য ধন্যবাদ দিন:
বিমানের প্রত্যেকটি যাত্রীর জন্যই বিমানে পর্যাপ্ত খাবার মজুদ থাকে। ফলে খাবার গ্রহণে কখনই কোনো সমস্যা নেই, বরং তা প্রত্যাখ্যান করাই বেশি ঝামেলার। তবে খাবার গ্রহণ করার সময় অবশ্যই সহায়তাকারীকে ধন্যবাদ দিন তাকে সহায়তা করুন।
৭। গ্যালারিতে যান:
ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত কোনো পানীয় কিংবা হালকা খাবার প্রয়োজন হলে বিমানের গ্যালারিতে চলে যান। অধিকাংশ বিমানের পেছনের দিকেই গ্যালারি থাকে। যাতায়াতের সময় একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে ডেকে কোনোকিছু চাওয়ার চেয়ে এটি অনেক ভদ্র পদ্ধতি।
৮। ট্রে অগোছালো নয়:
খাবার খাওয়া শেষ করে তা অগোছালো ভাবে না রেখে নিজেই একটু গুছিয়ে রাখুন। এতে সহায়তাকারীদের সুবিধার সাথে সাথে নিজের কাজেও সুবিধা হবে।
৯। ব্যাবহার করা হেডসেট ও কম্বল ফেরত দিন:
বিমানযাত্রার শেষ দিকে বিমানের যাত্রীদের কাছ থেকে হেডসেট নেওয়ার দায়িত্বে একজন নিয়োজিত থাকেন। কারণ তার কাজ বিমানটি সময়মত পরিষ্কার করে নতুন করে সাজিয়ে যাত্রী ওঠানো। বের হওয়ার আগেই এসব কাজ সেরে তবেই যাত্রার সমাপ্তি করুন।
Share with your friends