01/11/2025
আমার এটা দ্বিতীয় বিয়ে — প্রায় ১০ মাস আগে সম্বন্ধ করে হয়েছে এক ডিভোর্সী পাত্রের সঙ্গে।
প্রথম বিয়েটা ছিল প্রেমের। কিন্তু বিয়ের দেড় বছরের মাথায় এক দুর্ঘটনায় আমার প্রথম স্বামী পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়।
তার মৃত্যুর পর বুঝতে পারি, মানুষ আসলে কত সহজে বদলে যায়। প্রথম শ্বশুরবাড়ির লোকের আসল রূপ তখনই দেখি। আর সেখানে আমার ঠাঁই হয়নি — ফিরে আসতে হয় মায়ের বাড়ি।
বাবা নেই, সঙ্গে শুধু মা আর ভাই।
সত্যি বলতে, আমি দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইনি। প্রথম স্বামীর স্মৃতিতেই জীবন কাটিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মা বললেন,
> “সারাজীবন তো আমি থাকব না। ভবিষ্যতে কে দেখবে?
ভাইয়েরও একদিন নিজের সংসার হবে, তখন তো সে তোমার দায় নিতে পারবে না।”
মায়ের এই কথা ভেবে, মন না চাইলেও রাজি হয়ে যাই।
কিন্তু এখন আমি একদমই সুখী নই।
একেতো এটি ছিল অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ— যেখানে ভালোবাসার কোনো জায়গা নেই।
তার বয়স ৩৫, আর যৌন চাহিদা অস্বাভাবিক রকম বেশি।
আমি প্রায় প্রতিদিনই তার হাতে বিবাহিত ধর্ষণের (marital r**e) শিকার হচ্ছি।
তার পরিবারও সহানুভূতিশীল নয়। তারা প্রায়ই আমাকে “বিধবা” বলে তুচ্ছ করে, এমনকি বলে — “তোর জন্যই তোর প্রথম স্বামী মরেছে।”
এমন কষ্টদায়ক কথা শুনে বুকটা ফেটে যায়।
আমি নিজে চাকরি করি, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তার চাকরিটাই পেয়েছি।
তবুও বাড়ি ফিরে এক মুহূর্ত শান্তি পাই না — সংসারের কাজ, মানসিক চাপ আর প্রতিদিন রাতের নির্যাতন।
শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও, আমার না-বলা সে কখনো শোনে না।
বাধা দিতে গেলেই বলে, “বিয়ে করেছি ভোগ করার জন্য।”
আজও রাতে একা বসে শুধু আমার প্রথম স্বামীর কথা মনে পড়ে।
তার সঙ্গে কাটানো চার বছরের প্রেম, হাসি, স্বপ্ন— সবই মনে পড়ে।
কত সুন্দর একটা জীবন হতে পারত যদি সে থাকত!
শেষে শুধু একটা কথাই বলতে চাই তাকে—
> “তুমি কেন চলে গেলে এভাবে? জীবনটা তো অন্যরকম হতে পারত।
একা কেন গেলে? আমাকেও সাথে নিতে পারতে...
তোমাকে ছাড়া আমি আজও বড্ড কষ্টে আছি "
"এক আপুর জীবনের গল্প"
পরামর্শ দিয়ে সবাই পাশে থাকবেন।