18/05/2026
দীর্ঘ নয় মাস বন্দি রেখে অমানবিক নি/র্যা/তনের শিকার তাহসিন!
কার বাসায় ব/ন্দি ছিল জানেন? তার নিজেরই বাসায়! কোনো প্রতিষ্ঠানে নয়, কোনো শিক্ষকের হাতে নি/র্যা/তিত হয়নি। নির্যাতিত হয়েছে এক কু/লা/ঙ্গার জা/নো/য়ারের হাতে।
সন্তানকে নির্যাতন থেকে বাঁচাতে তার 'মমতাময়ী' মায়ের ভূমিকা কী ছিল জানেন? কাঁ*টা ঘা/য়ে নু/নের/ ছিটা দেয়া! হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। তাহসিনের মা আক্ষরিক অর্থেই কা/টা ঘা/য়ে নুনের ছি/টা দিত! পি/টু/নি শেষ করে জা/নো/য়ারটা জখমে ব্লে/ড দিয়ে পো/স দিত। এরপর তার নির্দেশে তাহসিনের মা ক্ষ*ত*স্থানে ল*ব*ণ ও গুঁ/ড়া/মরিচ মিশিয়ে দিত। ওই কাজে ওর দুই খালাও জড়িত। 'কা/টা ঘা/য়ে নুনের ছি/টা' এতো দিন রূপকার্থে শুনলেও একজন মায়ের হাতে বাস্তবিক রূপ নিয়েছে! ভাবা যায়?!
'অমানবিক' বলবো না অন্যকিছু, ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। শিশুটির শরীরের এক ইঞ্চি জায়গাও আ*ঘা*ত থেকে বাদ পড়েনি। পুরোটা শরীর ঝাঁ*ঝ*রা করে দিয়েছে জা/নো/য়ারের বাচ্চা! নির্বিঘ্নে, নিশ্চিন্তে, মা ও খালাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়, নয় মাস ধরে, বর্বর ও নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করে আসছিল পাষাণ জানোয়ার!
নির্যাতনে তাহসিনের মা ও দুই খালার পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল। তারা তাহসিনের উভয় হাত পেছন দিকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে বেঁ/ধে দিত। এরপর ওই লোকটা হাতের কাছে যা পেত, তা দিয়ে পি/টা/ত। তাহসিন বাঁচাও বাঁচাও বলে গগনবিদারী চিৎকার করত। চিৎকার যত বাড়ত, ওই জা/নো/য়ার তত বেশি মা/র/ত। দরজা-জানালা বন্ধ সত্ত্বেও বাহির থেকে তাহসিনের আর্তচিৎকার কিছুটা শুনা যেত।
চিৎকার শুনতেন আশিক ভাই। পরখ করলেন কোন বাসা থেকে এতো চিৎকার আসে। গেলেন বাসায়। ১৫ পারার হাফিজ, ১০ বছরের নিষ্পাপ শিশুকে অমানবিক নি/র্যা/তনের কারণ জানতে চাইলে জা/নো/য়ারটা বলল—'আমার সন্তানকে আমি মারছি, তুই কে? তোর কী হইছে?!' তাহসিনের মা বলল—'বাপ তার ছেলেকে মারছে, তোমার কী?!' খালাদেরও একই কথা।
ওই জা/নো/য়ারটা কি আসলেই বাবা? তাহসিন এক ভিডিওতে বলেছে—“আমি তাকে চিনি না। সে আমাদের কেউ নয়। আমার আব্বা প্রবাসী। তিনি এসব জানেন না। সে আমার আম্মা ও খালাদের সাথে লুডু খেলত। আমার খালাদের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতে দেখতাম।”
তাহসিনের এই বর্ণনা থেকে তার মা ও খালাদের সঙ্গে ওর সম্পর্কের ধরনটা বুঝতে বাকি নাই। একজন পরপুরুষ, যার সঙ্গে আত্মীয়তা কিংবা বৈবাহিক কোনো সম্পর্ক নেই—সে পাঁচজন (মা, দুই খালা, বোন ও খালাতো বোন) নারীদের নিয়ে একই বাসায় বছর ধরে একত্রে বসবাস ও খেলতামাশা করে আসছিল—বিষয়টা কি খুব স্বাভাবিক? ওদের গো*ম*র ফাঁ*স করে দেয়ার ভয়ে তাহসিনকে ধীরে ধীরে মে//রে ফেলার চেষ্টা করেছে—এটাও অসম্ভব নয়!
পনের-বিশ দিন থেকে তাহসিনের আর্তচিৎকার শুনতে না পেয়ে আশিক ভাই চিন্তায় পড়ে গেলেন যে, মনে হয় ওরা ছেলেটাকে মেরে ফেলেছে! বন্ধু-বান্ধব কয়েকজনকে নিয়ে খোঁজখবর নিতে গেলেন। তখনই দেখতে পেলেন তাহসিনের এই করুণ অবস্থা! আওয়াজ যাতে বাইরে না যায়— সেজন্য মুখে স্কচটিপ পেঁ/চি/য়ে, কখনো গা*ম*ছা দিয়ে বেঁ/ধে পি/টা/ত জা/নো/য়ারটা। একারণে আহাজারির আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল না। ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশ ডাকলেন। পুলিশ এসে তদন্ত করে, জা/নো/য়া/রটাকে গ্রে*ফ*তার করে নিয়ে যায়।
তাহসিনের আব্বাকে ফোন করে বিষয়টি অবগত করলে তিনি কান্না শুরু করেন। তিনি বলেন—“আমার বাসায় তো কোনো পুরুষ মানুষ নাই। ওই লোকটাকে আমি চিনি না। আমার ছেলের ওপর নি/র্যা/তনের বিষয়ে আমি জানতাম না।”
তাহসিন তার আব্বার সঙ্গে ফোনের সুযোগ পেত না। কখনো কথা বললে, ওর মা সামনে খাড়া থাকতেন। একারণে সে বিষয়টি বলতে পারত না। নি/র্যা/তনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ভ*য়ে বলতও না।
তাহসিনকে নি/র্যা/তনের স্ট্রিমরোলার থেকে উদ্ধার করে, অপরাধীকে পুলিশে সোপর্দ করা পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সঙ্গে ওর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তারা হলেন— আশিক ভাই, আনসার ভাই, দেওয়ান তাকওয়া সহ হিলভিউ টাওয়ার ও খাদিমপাড়ার বেশকয়েকজন তরুণ। মজলুমের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।
মিডিয়ায় দেখলাম শাহবাগ এলাকার জনৈক নেতা পুরো ক্রেডিট নিচ্ছেন, অথচ পুলিশে সোপর্দ করা পর্যন্ত তার কোনো দেখা মিলেনি। ক্রেডিট নিন, সমস্যা নাই। তবে সমস্যার জায়গা হলো—তিনি ফেসবুকে 'শিক্ষকের হাতে নির্যাতন' বলে পোস্ট করেছেন। অনেকেই ভুল বোঝাবুঝি বশত তার পূর্বের মাদরাসার নাম নিয়ে পোস্ট করছেন। কেউ মাদরাসায় শিক্ষকের হাতে নির্যাতন বলে পোস্ট করছেন। অথচ তাহসিন দীর্ঘ নয় মাস ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছে—তারই বাসায়, তারই মা ও খালাদের সহযোগিতায়, এক জানোয়ার পাষাণ্ড কুলাঙ্গারের হাতে! পূর্বের মাদরাসা থেকে নয় মাস আগেই তাকে নেওয়া হয়েছে।
তাহসিনের আত্মীয়দের কাছে অনুরোধ করছি—বিষয়টা শক্ত করে ধরুন। চুল পরিমাণ ছাড় দিবেন না। মা ও খালাদের ছেড়ে দিবেন না। কুলাঙ্গার গ্রেফতার হলেই হবে না, ওর শাস্তি নিশ্চিত করুন। একই সঙ্গে ওর মা ও খালাদের আইনের কাছে সোপর্দ করুন। সবার বিরুদ্ধে মা/ম/লা দায়ের করুন। সবার শা/স্তি নিশ্চিত করুন।
© লেখা ও ভিডিও সংগৃহীত - TBM Times