05/02/2026
রিজিক বা জীবিকা নির্ধারণের বিষয়ে মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত স্পষ্ট ও আশ্বস্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ এবং তিনি প্রতিটি প্রাণীর খাবারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
নিচে রিজিক সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার প্রধান কিছু ঘোষণা তুলে ধরা হলো:
১. রিজিকের নিশ্চয়তা ও দায়িত্ব
আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, পৃথিবীতে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব তিনি নেননি।
"আর পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।" (সূরা হুদ, আয়াত: ৬)
২. আকাশ থেকে রিজিক বর্ষণ
মানুষ অনেক সময় মনে করে রিজিক কেবল জমিনের ফসল বা উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আল্লাহ আমাদের দৃষ্টি উপরে ফেরাতে বলেছেন:
"আকাশে রয়েছে তোমাদের রিজিক ও যা তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা।" (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ২২)
৩. তকদিরে নির্ধারিত রিজিক
আল্লাহ তাআলা কাউকে বেশি দেন, কাউকে কম দেন। এটি তাঁর এক বিশেষ প্রজ্ঞা ও পরীক্ষা।
বন্টন: "নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা যাকে ইচ্ছা অধিক রিজিক দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সীমিত করে দেন।" (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৩০)
পরিমাপ: "আমিই তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বন্টন করি পার্থিব জীবনে।" (সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৩২)
৪. রিজিক বৃদ্ধির চাবিকাঠি
আল্লাহ কেবল রিজিক দেওয়ার ঘোষণাই দেননি, বরং তা বৃদ্ধির কিছু আমল বা মাধ্যমের কথাও বলে দিয়েছেন:
তাকওয়া (আল্লাহভীতি): "আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য কোনো পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" (সূরা আত-ত্বালাক, আয়াত: ২-৩)
শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা): "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে আমি তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব।" (সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭)
তাওয়াক্কুল (ভরসা): যদি মানুষ আল্লাহর ওপর যথাযথ ভরসা করে, তবে তিনি পাখিদের মতো তাদের রিজিক দেবেন—যারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে (তিরমিজি)।
৫. অভাবের ভয়ে সন্তান হত্যা নিষেধ
ইসলামে রিজিকের সংকটের ভয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
"তোমরা অভাবের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না। আমিই তাদের রিজিক দেই এবং তোমাদেরও।" (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৩১)
সারকথা:
রিজিক কেবল অর্থ বা সম্পদ নয়; বরং নেক সন্তান, সুস্বাস্থ্য, জ্ঞান এবং অন্তরের প্রশান্তিও রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং হালাল পথে চেষ্টা করাই হলো মুমিনের কাজ ।