15/01/2025
গতকাল রান্নার জন্য মুরগী কাটছি, ছেলেটা হঠাৎ বলে, মা বিরিয়ানি রান্না করিও তো। দুপুরে আমরা মা-ছেলেই খাই। আমি রোজা ছিলাম। তো ঠিক আছে, ভাতের জায়গায় বিরিয়ানিই হোক। আধা প্লেট বিরিয়ানির জন্য এত ঝামেলা করতে মন চায় নি। তাই একটু ফাঁকি দিলাম।
যা যা ছিল-
- সলিড মুরগীর মাংসের টুকরা ৩-৪ টা ছোট করে কাটা
- ছোট আলু ২ টা ছোট করে কাটা
- পেঁয়াজ কুচি এক মুঠ মত
- আদা-রসুন বাটা ১ চা চামচ
- গরম মসলা গুড়া ১/২ চা চামচ
- টমেটো কুচি ছোট একটা
- লবণ ও শুকনা মরিচ গুড়া প্রয়োজন মত
- তেল ৫০ মি.লি প্রায়
- তরল দুধ আধা কাপের মত ছিল, না থাকলে বাদ
- কাজু বাদাম ৪-৫ টা, না থাকলে বাদ
- তারা মরিচের ভাঙা টুকরা, না থাকলে বাদ
- চাল ছোট চায়ের কাপের এক কাপ
যেভাবে করলাম-
১। পোলাওয়ের চাল ধুয়ে পানি ঝরতে দিলাম
২। কড়াইতে তেল গরম করে আলুর টুকরোগুলো লালচে করে ভেজে তুলে নিলাম।
৩। একই তেলে পেঁয়াজ আর তারা মরিচের টুকরোগুলো ভেজে নিয়ে মুরগীর আর টমেটোর কুচি দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে নিয়ে আদা-রসুন বাটা, লবণ, শুকনো মরিচ গুড়া এবং গরম মসলা গুড়া দিয়ে সামান্য পানি দিয়ে কষালাম।
৪। এই কাজের সাথে আরেক টা চুলায় পানি ঝরানো চাল সামান্য তেলে ভেজে নিচ্ছিলাম।
৫। মাংসে কয়েকবার সামান্য পানি দিয়ে দিয়ে কষিয়ে দুধ ও পানি মিলে চালের দ্বিগুনের সামান্য বেশি দিতে হবে। সাথে আলুর টুকরোগুলোও দিয়ে দিলাম।
৬। এই মিশ্রণ টা ফুটে উঠলে ভাজা চালগুলো দিয়ে দিলাম।
৭। পানি টেনে নিলে চুলা বন্ধ একটুখানি চিনি মিশিয়ে কাজু বাদামগুলো কুচি করে কেটে দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখলাম।
আমি বিরিয়ানির মসলা ব্যবহার করি না, তারা মরিচ দেই অল্প। এটাতেই সুন্দর স্মেল আসে। দু-তিন টা ভাঙা টুকরোই ছিল অবশিষ্ট। তারা মরিচ, কাজু বাদাম এবং দুধ না থাকলে এগুলো দিতাম না। এতে স্বাদে সামান্য হেরফের হত এই যা।
প্রতিটা রান্নার একটা বেসিক প্রিন্সিপাল আছে। এটা ঠিক রেখে যে কোনোভাবেই আপনি রান্নাটা করতে পারবেন। ঐ যে, যে গড়তে জানে সে মানুষও গড়তে পারে, বাঁদরও গড়তে পারে।
সবকিছুর জন্যই আলহামদুলিল্লাহ ❤️❤️❤️